নিজকে চেনা বড়ই কঠিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশিষ্ট শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখবেন তার জীবনের কথা।কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো। পড়ুন কাটাঘুড়ি বিভাগে।

কনকচাঁপা

যতই বড় হচ্ছিলাম ততই নিজকে অজানা ঠেকছিলো।প্রসাধন সামগ্রী খুবই ভালো লাগতো,কিন্তু তা আমার সময়ে আমার জায়গা থেকে জোগাড় করা সহজ ছিলো না।অল্পস্বল্প যা ছিল সেগুলোই গুছিয়ে রাখা,আবার বের করে দেখা এটা একটা অবসরের প্রিয় কাজ হয়ে দাঁড়ালো। চুল বাধা চোখে কাজল দেয়া,এবং সবশেষে আয়না দেখা, আর আয়না দেখা, এটাই একটা দারুন প্রিয় কাজ হয়ে দাঁড়ালো, সেই সঙ্গে আরো প্রিয় কাজ হল নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলা।কত প্রশ্ন যে নিজেকে করতাম তার কোন ইয়ত্তা নেই।শ্রষ্টার সঙ্গে কথা বলতাম,নিজের দোষ গুন,পারা না পারা,এগুলো নিয়ে কথা বলতে বলতে খেয়াল করলাম আমি কার যেন প্রেমে পড়ে গেছি।আমি নিজের কাছেই নিজে ধরা পড়ে গেলাম।নিজেকে নিজেই চিনতে পারছিলাম না।কিন্তু একথা নিজেই নিজেকে বলার সাহস পাচ্ছিলাম না।কিন্তু নিজেকেও সামলাতে পারছিলাম না।কি মুশকিল!ভীষন বিপদে পড়লাম,কাউকে বলতে পারছিনা,কিন্তু চুপ থাকাও কঠিন,কিন্তু এও বুঝলাম এ প্রেম আমার গানের জীবনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে।গানের জন্য জীবনপাত করলেন আব্বা,আম্মা,আমার পুরো পরিবার।ওস্তাদজী কত যত্ন করে আমাকে গান শেখাচ্ছেন।সেখানে আমি এমন কাউকে কি জীবন সঙ্গী করতে পারি, যিনি আমাকে গান করতে দিতে পারবেন না? আমি আমার হিসেব বুঝে গেলাম।আমার হিসেবে এই হিসেব ও ঠাঁই নিলো যে আমার নিজের জীবন কিছুনা,আলাদা কোনো বিষয়ই না,আমার জীবন গানের জন্য।গানেই আমার জন্ম,গানেই আমার বসবাস,গানেই আমার বিস্তার, গানেই আমার অবসান! আর কিছু ভাবা আমার নিষেধ।কারো সঙ্গে কোন আলোচনা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই আমি এতো বড় সিদ্ধান্ত নিলাম।একলা একলা,এবং আমার কাক্ষিত প্রেমাস্পদের দিক থেকে মন ঘুরিয়ে নিলাম।ঘুরিয়ে নিলাম না,ছিড়েখুড়ে বেরিয়ে এলাম।কিন্তু সেই আমি অদ্ভুত ভাবে বদলে গেলাম।প্রেম আর সেই গভীর বিষয় হিসেবে থাকলো না।এবং এমন সুন্দর একটি আবশ্যম্ভাবি ভাবনা বিষয়ে উন্নাসিক হয়ে গেলাম।এবং নতুন করে নিজেকে আবারো চিনলাম, যে একটা প্রিয় বিষয়,প্রিয় মানুষ, প্রিয় অনুভব আর একটি অতি আবশ্যক বিষয়ের জন্য আমি খুব সহজেই বিসর্জন দিতে পারি! খুব সহজেই।আসলেই কি খুব সহজেই পেরেছিলাম? এর উত্তর আসলেই আমি জানিনা,কারন আপাত নিরীহ এই লুক্কায়িত আমাকে আসলেই আমি চিনি না,অভ্যাসগত দিক গুলো হয়তো চিনি,কিন্তু আমার আমির একান্ত ভেতরের আমি কে আমি আসলেই চিনিনা।যাকে নিঃসংকোচে আমি বিসর্জন দিয়েছি ভেবেছিলাম তাকে নিয়েই আমার অচেনা মন আজো বেঁচে থাকে— কিন্তু আমার সেই প্রেমিক আমাকে দূরে ঠেলতে আমার থেকে সমান্তরাল দুরত্বে জ্যামিতিক হারে ঘুরতেই থাকে,ঘুরতেই থাকে,ঘুরতেই থাকেন।এ জনমে তিনি অধরাই রয়ে গেলেন।আমি আমাকে এবং তাকে দুজনকেই চিনলাম না! যে গানের জন্য তাঁকে এবং আমাকে সম্পুর্ন রূপে উপেক্ষা করলাম,সেই গানকেই কি ঠিকমতো চিনলাম? এর উত্তর আমার জানা নেই,আমি একজন অন্ধ নাবিক।গানের সুরের হাল ধরে আছি ঠিকই,কিন্তু কোথায় যাচ্ছি কেনো যাচ্ছি কিছুই বুঝতে পারছিনা।

ছবি:লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com