নারীবাদ চর্চা যখন অবসর বাক্যলাপ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সৈয়দা মুনিয়া জামান

তারা নারীবাদীর কথা বলে,কথা বলে সমান অধীকারের,কিন্তু সমান শব্দটাকে কোথায় বসিয়ে সমানভাগ করছে সে জায়গাটা স্পষ্ট নয়।তার সমমর্যাদা চায়,কিন্তু নিজে সেটির যোগ্য কিনা ভেবে দেখতে সময়টুকু পাননা।তারা পারিবারিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে,কিন্তু নিজের দ্বারাই পারিবার অত্যাচারের শিকার হচ্ছে কিনা বেমালুম ভুলে যায়। হয়তো বহু নারীবাদী তেড়ে আসতে পারে,অথবা বলতেই পারে পুরুষের সেবাদাসী হয়ে জীবন কাটাতে আমার মতন মেয়েই যুগে যুগে এসেছে।আমার কথা ছেড়ে দি আজকের মতন,আপনাদের কথা বলি।সারাদিন প্রচুর নারীবাদী পোস্ট পড়ি।রাস্তাঘাটে হরহামেসাই নারীবাদী বাক্যলাপ শুনি।কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছে করেনা।শুধু সামনে পেলে কয়েকটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে ছেড়েদি। কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়,আপনি কি চাইছেন চাওয়াটা আগে নিজে না বুঝে যদি অন্যকে বোঝাতে চান তবে তার ভিত্তিতো নড়বড়ে হবেই।আপনি একটা সমতা চাচ্ছেন পুরুষ সমাজের সঙ্গে কিন্তু সে সমতায় আসার জন্য আপনি নিজে প্রস্তুত কিনা ভেবে নেওয়া উচিৎ। প্রতিটি নারীবাদী নারীও কিন্তু সংসার চায়,চায় একজন পাশে থাকার মতন পুরুষ জীবনসঙ্গী।চায় কেউ তাকে ভালোবাসুক। কিন্তু এই ভালোবাসাতেও যে দু পক্ষের সেক্রিফাইজ আছে,দায়িত্বগুলো ভাগাভাগি আছে সেটুকুকেও যখন একজন নারীবাদী দাবী করা নারী নারীবাদ চর্চায় ফেলে সমতা সমতা বলে চিৎকার করে,তখন আমার মতনই কিছু নির্বোধ গোত্রিয় মানুষ বেয়াক্কেল হয়ে তাকিয়ে থাকে। বোঝার চেষ্টা করে কি বলতে চায় সে!প্রশ্ন জাগে একটা বিষয় নিয়ে,আমার বাবাসহ চোখের সামনে যে সকল মধ্যবিত্ত পুরুষকে অর্থ জোগানের চেষ্টা করে যে জীবন রোবটের মতন কাটিয়ে দিতে দেখেছি এরা তাহলে নিজেদের ভোগ বিলাসের জন্য কি করেছে!! আমার মায়ের মতন যারা একটা সংসার আগলে মধ্যবিত্ত সুখী জীবন পার করে দিলো,তারা কি তবে ভুল! না,আমার মাকে ভারীভারী গয়না দিয়ে মানে আপনারা আজকাল যেটাকে পুরুষের গুনগান করতে নারীকে দেওয়া ঘুষ বলে চালাচ্ছেন সেসব কিছু দেয়নি।আবার আমার বাবাকেও দেখিনা নিজের আরাম আয়েশের চিন্তা করে মাকে কষ্টে রাখছেন।দুজনেই সমানভাবে কিছু না কিছু ভাগাভাগি করে জীবনটা ঠিক পার করেই ফেললো। আপনাদের সুরেই বলছি,পুরুষ যে সুবিধাগুলো ভোগ করে আসছে সেগুলোর কিছুটা হলেও ত্যাগ করতে যদি রাজীও হয়ে যায়,তবে আপনি মানে সমতা চাওয়া রমনী আপনার সুযোগ সুবিধা ত্যাগ করতে পারবেনতো?  আপনার কাছে যদি মনে হয় সংসার বাচ্চার মা হওয়া সবটাই পুরুষের ভোগবিলাসের ব্যবস্থা মাত্র।তাহলে আপনি স্রেফ বিয়েটা এড়িয়ে যান।অথবা বিয়ের আগে মাথায় ঘোমটা টেনে সব কথায় হ্যাঁ হ্যাঁ বলার আগে আপনার নিজের শর্তগুলো জানিয়ে নিন,যদি কোন পুরুষ না মানতে চায় বিয়েটা এড়িয়ে যান।পুরুষের শর্তগুলো যুগে যুগে নারী মেনে নিয়েছে বলেই বৌ সাজিয়ে ঘরে নিয়ে তুলেছে।আপনি শর্ত দেন দুজনে সংসারের কাজই না শুধু,বাইরের কাজও সমান ভাগ করে করবেন।এমনকি অর্থের জোগান থেকে শুরু করে। আপনি নিজেকে নিজের দায়িত্ব বহন করার মতন যোগ্য করেও তুলবেন না,আবার অন্যের ঘাড়ে বসে সমতা সমতা বলে চিৎকার করবেন কি আশ্চর্য।আপনার ঘাড়ে বসে যদি আপনার স্বামী সমতা সমতা বলে চিৎকার করে তখন আপনি সমতার চিৎকার কাকে শোনাতেন! আপনি চিৎকার করছেন কিছু শোনানোর জন্য,কিন্তু কাকে শোনাতে চাইছেন!আপনার দায়িত্ব বহনকারী পুরুষ সমাজের কাছে!তার চেয়ে এটা ভালো নয়কি নিজে নিজের দায়িত্ব বহন করার সক্ষমতা অর্জন করা। পুরুষের দৃষ্টিভঙি বদলাতে গিয়ে নারীর দৃষ্টিভঙিও যেন বদলায় সেদিকে আগে জোর দিলে সমতা সহজ। একজন নারী অনেককিছু মেনে নেয়,একজন পুরুষও যে নেয়না সেকথা অস্বীকার করার মতন এখনও কিছু চোখে পড়েনি।একটা সংসারে নারী অনেক কিছু মেনে নেয় ভালোবেসে।কিন্তু বেশীরভাগটাই মেনে নেয় নিজেকে নিজের দায় বহন করার জন্য অযোগ্য মনে করে।কিন্তু সংসার সমাজে নিজের অপরাগতা স্বীকার না করে মেনে নেওয়াটাকে ভালোবাসা মায়া বলে উপস্থাপন করে জিতে যেতে চায়। এইসব নারীবাদীকে দেখে আমারও পুরুষতান্ত্রীক সমাজের পুরুষের মতন হাসি পায়।ভালোবাসাতো থাকেই অস্বীকার করার উপায় নেই,কিন্তু একজন পুরুষ যেমন যে জায়গাটায় সক্ষম সেখানে চুপ থাকেনা বা মেনে নেয়না একজন নারীও যেখানে সক্ষম সেখানে মেনে নেওয়ার মতন কোন কারন দেখিনা।আপনি সক্ষমতা অর্জন করুন,তখন পুরুষ আপনাকে জায়গা না দিলে প্রয়োজনে ধাক্কা দিয়ে ফালে দেন। আমি নারীবাদী নই,আমি নারীবাদ চর্চা করিনা সেটা আমার টাইম লাইনের গদগদে কয়েকটা প্রেমের চিঠি পড়লেই বুঝতে পারবেন।তারপরও বলবো সমতার চিৎকার দিতে পারলে আমারও ভালো লাগতো।কিন্তু যেদিন আমার দায়িত্ব বহন করা মানুষটার অর্ধেকটা পরিশ্রমের দায়িত্ব আমি বহন করতে পারবো,সেদিন সমতা সমতা বলে চিৎকার করতে হবেনা।ভালোবাসা অটুট থাকলে সমতা হয়ে যাবে।সমতায় দাঁড়াতে হয় নিজের পায়ে,অন্যের ঘাড়ে বসে অন্যের পায়েনা।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com