দ্য রেপিস্ট,প্রয়োজন একজন অমিতাভ এর

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শামীমা জামান

জে এফ কে থেকে দুবাই। বারো ঘন্টা কিছু কম পথ নয় আকাশে। বিরক্তিকর এই জার্নি অবশ্য একটু সুন্দরভাবে কাটাতে চাইলে কাটানোই যায় ।সামনের স্ক্রীনের মুভি লিস্টে পিংক পেলাম।ছবিটার কথা শুনেছি অনেক।দেখা হয়নি। ব্যাস শুরু করলাম আর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেল টানটান উত্তেজনায়। তিনটি স্বাধীনচেতা মেয়ে কর্মসূত্রে শহরের একটি বাড়িতে এক সঙ্গে থাকে।তাদের বন্ধুদের আমন্ত্রনে পার্টিতে যায় ।এক পর্যায়ে ধর্ষণের মুখোমুখি হলে নিজেকে বাঁচাতে ছেলেটিকে আঘাত করে বসে তাদের একজন। এটেম্পট টু মার্ডার কেসে ফেসে যায় মেয়েটি। অপবাদ নেমে আসে তিন মেয়ের ঘাড়ে। ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হন আইনজীবী অমিতাভ বচ্চন ,যার স্ত্রী পিশাচ পুরুষদের অত্যাচারে হাসপাতালের বিছানায় শায়িত। খুব সুন্দর কিছু ডায়ালগ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন এই সমাজে নারীর অবস্থান।মুভিটি ভাবায়।ফালাক আলী চরিত্র টিতে কি তীব্রভাবে ঢুকে গেছি ,বাসায় ফিরে তারমত চুল কেটে ফেললাম। কি আশ্চর্য ! ঠিক এমনি একটি সময়ে আমার দেশেও পিংক চিত্রায়িত হল। তবে সিনেমায় নয়। একেবারে বাস্তবে।বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুটি মেয়ের সঙ্গে ঠিক এক ই ঘটনা ঘটলো।না এখানে মেয়েরা আঘাত করতে পারেনি সেই নুরানী চেহারার ধনীর দুলালদের।তারা তাদের সর্বস্ব দিয়েই এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা গুলো দেখে অনেক ক্ষেত্রেই চমকে যেতে হয়। বিখ্যাত এক সংগীত শিল্পী কাম এক্টিভিস্ট লিখেছেন,আপনি আবাসিক হোটেলে জন্মদিনের পার্টি করতে যাবেন ?’স্পষ্ট ইংগিত মেয়েদুটির চরিত্রের প্রতি ।অনেক বিচক্ষণ বুদ্ধিজীবিকেই দেখলাম অবলীলায় বলছেন ‘এটি আদৌ ধর্ষণ নাকি স্বইচ্ছায় ঘটিত জানা প্রয়োজন।মেয়েদুটিকে চলাফেরা নিয়ে তাবৎ জ্ঞান দান করতেও ছাড়ছেন না অনেকে। তারা টাকাওয়ালা বয়ফ্রেন্ড ধরতে গিয়েছিলো এখন আম ও ছালা দুই ই গেছে বিধায় তারা মিথ্যা মামলা ফেদেছে। অথচ ওই ধর্ষক এর কথিত স্ত্রী যে কিনা একজন নিউজ প্রেজেন্টার তার সম্পর্কে শোনা গেলো চমকপ্রদ কাহিনী।তিনি নাকি হাই সোসাইটির এসকর্ট ।অন্য নারীদেরও ব্ল্যাকমেইল এর মাধ্যমে এই জগতে আনতে ভুমিকা রাখেন।তো অনেক নারীবাদীকেই দেখলাম নারীবাদ দেখাতে গিয়ে ধর্ষকের এই সুচরিত্রা কথিত স্ত্রীটির প্রতি দারুন সহানুভুতিশীল ! তাকে কেন টেনে আনছেন এর মধ্যে …এই জাতীয় প্রতিবাদ। যেসব নারী নামের বিকৃত রুচির মেয়েদের জন্য সব নারীকেই যৌন পুতুল ভাবতে সাহস পায় পুরুষ জন্তু গুলো। তাদের প্রতি উদারতার কোন কারন দেখিনা।

 জানা যায় এই ধর্ষক গ্রুপটি নাকি প্রথমে মেয়েদের রেপ করে ভিডিও করে রাখে ,পরে সেই ভিডিও দিয়ে ভিকটিমকে ব্লাকমেইল করে হাই সোসাইটির এসকর্ট হিসেবে ব্যবহার করে।এর সঙ্গে মিডিয়ায় কর্মরত ধর্ষকের স্ত্রীও যুক্ত। এমন ঘটনা আরো একাধিক ঘটিয়েছে তারা।

 এখানে একটি বিষয় লক্ষনীয় এত বড় প্রভাবশালী এই ধর্ষকেরা এদের মজা লুটতে ধর্ষণ করতে হবে কেন ,টাকা দিলেইতো দামী দামী সেচ্ছাসেবিকা মিলবে ।এটা যে তাদের ব্যবসার প্রক্রিয়া মানে ওই তথ্যগুলো কিছু মিথ্যে নয় তাই প্রমান করে। শোনা যাচ্ছে দেশের বাঘা বাঘা মেধাবী ক্ষমতাধরেরা ও এই ধর্ষকদের বাঁচাতে আদা জল খেয়ে নেমে গেছেন।পুলিশ জানিয়েছে আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। তারা ধরা হয়তো পড়বে।কিন্তু আদৌ শাস্তি পাবে কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

 সামাজিক আন্দোলন কতটা কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে তা আমরা গণজাগরনের সময় দেখেছি । তাই যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করে যেতে হবে।আপন জুয়েলার্স এর স্বর্ণালঙ্কার ফ্রিতে দিলেও আর নেবনা এই কথাটি মেনে হলেও। পণ্য বর্জন পাশ্চাত্যে অনেক বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। তাই একে ছোট করে দেখার কিছু নেই। আমাদের সমাজে ধর্ষক এর অভাব নেই। কিন্তু দ্য রেপিস্ট এর থেরাপিস্ট হওয়ার জন্য একজন অমিতাভ বচ্চন ও নেই।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com