মুশফিক-সংকট তুঙ্গে

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীমঃ শুক্রবার প্রোটিয়াদের বিপক্ষে শেষ টেষ্টে ছয় ওভারের ভেতর চারজন বোলার ব্যবহার করেন বাংলাদেশের টেষ্ট অধিনায়ক মুশফিক।চা বিরতির আগ পর্যন্ত তার পেসাররা ছিলেন ছন্নছাড়া অবস্থায়। মুশফিক দূরে দূরে ফিল্ডিং করায় বোলারদের সঙ্গে ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না। হয়তো জানতেন, নির্দেশ যা আসার সেটা ওই সাজঘর থেকে কেউ একজন জানিয়ে দেবে।অধিনায়ক মুশফিকের তালগোল পাকানো সিদ্ধান্ত দেখেই বোঝা গেছে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে।

দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে বোলিং নেয়ার সিদ্ধান্তটা কার, সেটাও এখন আর  বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, সিদ্ধান্ত এসেছে হেড কোচ হাতুড়াসিংহের কাছ থেকে। যেখানে অধিনায়ক মুশফিক মাঠে নিজের ইচ্ছামতো মতো যখন দাঁড়াতে পারেন না, সেই মুশফিকের পক্ষে টসের সিদ্ধান্ত নেওয়া তো হিমালায় জয় করার মতো ব্যাপার ।

দক্ষিণ অফ্রিকার বাংলাদেশের টেস্ট চলাকালে সংশ্লিষ্ট সূত্রের কাছ থেকে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে মুশফিক জানিয়ে দিয়েছেন, দলের অধিনায়কত্ব িথেকে তিনি নিজে সরে দাঁড়াবেন না। এ বিষয়ে বিসিবিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কাগজে কলমে ক্যাপ্টেন বলা হচ্ছে মুশফিকুর রহিমকে। অথচ তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, কোচের নির্দেশে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বেশির ভাগ সময় নিজে বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করেছেন। বোলারদের সঙ্গে তার কথা বলার সুযোগ ছিল কম। হেড কোচ হাতুড়াসিংহ কে বিসিবি এমন ক্ষমতাবান করে তুলেছে যে সেখানে খেলোয়াড়দের এমন কি নির্বাচকদের ক্ষমতা শূন্যের কোঠায়। বিসিবি সভাপতির অস্থাভাজন হেড কোচ হাতুড়াসিহং। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্যে হাতুড়াসিং এর অবদানের প্রতিদানে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ক্ষমতা । এমন ক্ষমতা একমাত্র তিনিই কোচ হিসেবে  উপভোগ করেন। বিষয়টা মানতে পারেননি তখনকার প্রধান নির্বাচক সাবেক বাংলাদেশের অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। বিসিবি’র সংকটে পড়তে যাওয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যতবাণী করে পদত্যাগ করেন তখনকার প্রধান নির্বাচক।

ক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় আরোহণের পর নতুন হাতুড়াসিংকে দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। দলে ভাল পারফরর্ম করা খেলোয়াড়দের নিয়ে শুরু হলো পরীক্ষা নিরীক্ষণ ।শ্রীলংকার বিপক্ষে শততম টেষ্টে বাদ দেওয়া হলো ফর্মে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ’কে ।তাকে ওয়ান ডে দলেও রাখতে চাননি তিনি।বাংলাদেশের কিংবদন্তী অধিনায়ক মাশরাফির জেদে রিয়াদের প্রত্যার্বতন ওয়ান ডে দলে। ফলাফল টি-টুয়েন্টি ছাড়তে বাধ্য করা হলো অধিনায়ক মাশরাফিকে।মুমিনুল , নাসির, রাব্বিদের মত প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা হয়ে গেল হাতুড়াসিংহের হাতের পুতুল।অন্যদিকে সৌম্য , তাসকিন ক্রমাগত বাজে পারফর্মেন্স করেও দলে জায়গা পেয়ে যান অনাসেই। দল নিয়ে শুধু পরীক্ষা আর নিরীক্ষণ দেখে ভীত হয়ে পড়েছেন খেলোয়াড়রা।

হেড কোচ ছাড়াও বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ  কোর্টিন ওয়ালশ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে।  তিনি এতদিন কি শেখালেন দলকে? কোচিং স্টাফদের দায়িত্ব কি সঠিক ভাবে পালন হয়েছে? গেল দশ ক্রিকেট ম্যাচ পর্যালোচনা করে দেখা যায় টসে জিতে সবাই প্রথমে ব্যাটিং করেন। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে অধিনায়ক মুশফিক কে টস জেতার পর ভুল সিদ্ধান্ত নিতে কেন বললেন হেড কোচ হাতুড়াসিংহ । উত্তর পাওয়া খুব একটা কষ্টকর না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্রগ্রাম টেষ্টের পর অধিনায়ক মুশফিক গনমাধ্যমের কাছে জানিয়েছিলেন , “ বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নের পুরোটাই তিনি বর্তমান কোচ হাতুড়াসিংহ কে একক ভাবে দিতে নারাজ ।উন্নতির ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় তিনি বাংলাদেশের সব সাবেক কোচ, কোচিং স্টাফদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরন করেন।” সেটাই কি মুশফিকের জন্য কাল হয়ে দাড়াচ্ছে? কঠোর নিয়মনীতি মেনে চলা অধিনায়ক মুশফিক হেড কোচ হাতুড়াসিংহের বলির পাঠা হন তাহলে সেটা হবে টাইগার ক্রিকেটের বড় ধ্বস নামার একটা কারণ।দক্ষিন অফ্রিকায় সব ঘটনার অন্তরাল প্রকাশ করে অধিনায়ক মুশফিক যদি অধিনায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সেটা হবে নতুন বিস্ফোরণ ।বিসিবি’র কর্তাব্যক্তিদেরও হেড কোচ আর তাঁর অপরীসিম ক্ষমতা নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে।কেন মুশফিকের উপর চাপ তৈরী করা হলো বিষয়টা তদন্তের দাবী রাখে বলেই মনে করছেন দেশের ক্রিকেট অভিজ্ঞ মহল।

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com