দেশের টাকা দেশেই রাখুন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শামীম আজাদ

সবাই না হলেও কিছু কিছু মেয়েদের কি যে হয়েছে! ঈদ ও বিয়েতে গায়ে ভারতও পাকিস্তান আর মাথায় সৌদি আরব। আর ছেলেরা এমন কিম্ভূত আচকান পরে কোমরে তলোয়ার লট্‌কে বিয়ের আসরে বসছে যেনো বিয়েতো নয় নারী জয় করতে যাচ্ছে। কিছু কিছু মেয়েরা, মায়েরা নিজে নিজে শাড়িও পরতে ভুলে গেছেন। বিউটি পার্লার কন্য পুত্রবধূর সঙ্গে তিনিও শাড়ি পরতে দাঁড়িয়ে পড়েন লাইনে। হয়তো শাড়িগুলোর জরি ও পাথর  শাড়িকে এমন ভারী করেছে যে তার ওজন আর একা তোলা যায় না। আমাদের দেশের শাড়িঅলারা ও ব্যবসায়ীরা তা বুঝে কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে আমাদের গায়ে চড়িয়ে দিচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান থেকে আনা জরি চুমকি পাথর, আমদানী কৃত রকমারী স্টাইলিশ শিরোপিড়া।

এই যে প্রথম বৈশাখ গেল, কোটি কোটি নারী যুবা দেশের কাপড় পরে আনন্দ করলো- তাদের কি মায়ের দেয়া অপেক্ষাকৃত কম দামী কাপড় পরেছে বলে এক আউন্স কম সুন্দর লেগেছে? বনানী থেকে বেরিয়ে ছিলাম শুধু তাই দেখতে। নিম্ন বিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবার পরা দেশী ফতুয়া পাঞ্জাবি সালোয়ার কামিজ ও শাড়ি। লাল সাদা রঙে রঙে রাস্তার উপর আর জনপ্রিয় মেয়র আনিসুল হকের কারনে পুরো এগারো নম্বর সড়ক আল্পনার বর্নীল রঙে আনন্দের তুফান ডেকে এনেছিলো। আশে পাশের হোটেগুলোতে প্রবেশ করে দেখি বৈশাখী রান্না, বাংলার পিঠা সন্দেশ আর রাজশাহী সিল্ক, টাঙাইল ও মিরপুর কাতানের সমারোহ। আর কর্মীরা পরে আছে লাল সাদা জামদানী। যেন তেতুল আসছে বলে– বুনো ওল ও এসে পড়ছে। এখন তা আর ঢাকা শহরের কেন্দ্রে নেই। ভরে উঠছে প্রতিটি ফোকড়। কোনা কাচি সহ সদরে অন্দরে। বাইরে বিকাল ৫টায় মেলা ও উৎসব থেমে গেলে ঘরে ঘরে জাকিয়ে বসেছে সে উৎসব রাতে। স্কুলে স্কুলে হয়েছে মেলা, অনুষ্ঠান। এমনকি ইংরাজী মাধ্যম স্কুলে উঠতি তরুন তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে স্বরভঙ্গ নিয়ে গাইছে মাক্‌সুদ আর জেইমস। সন্ধ্যায় সবাই ঘরে ফিরে খাচ্ছে মায়ের হাতের রান্না বা বন্ধুর বাড়ির ভর্তা ভাত কলাই বা সোনা মুগের খিচুরী। গেল গেল সংস্কৃতি বললে আর হবে না। পরকালের প্রমাণহীন প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাগল বানিয়ে তাদের দিয়ে বোম ফুটালে লাভ নেই। মানুষ মারার মত সংস্কৃতি মারা অত সহজ কাজ না।

দেশি কাপড় খাবার খেলা উৎসব দেখে আমি আনন্দে সজল চোখে আলপনা আঁকা রাস্তায় পথচারী পথেই বসে পড়ি। আমার সামনে দিয়ে রিক্সা্‌ গাড়ি ও রাস্তায় রাস্তায় চলে যায় আনন্দিত নরনারী।

সব চেয়ে বড় কথা এই বৈশাখ বানিজ্যে আহার জুটেছে আমাদের তাঁতীদের, বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হয়েছেন লাভবান।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানী আগ্রাসনের সময় আমরা খদ্দরের বিছানা চাদর, বালিশ কভার, জামা, শাড়ি, ওড়না কি না পরেছি- আদমজী, বাওয়ানী কেঁদে গেছে। আর আমাদের অর্থের ও সাশ্রয় হয়েছে। খাদির প্রবাহ দিয়ে তার শুরুটা এভাবেই হয়েছে।

আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় বিচিত্রার শাহাদত চৌধুরির প্রনোদনায় বদ্ধ পাগলের মত দিন রাত মহানন্দে এই দেশী ফ্যাশনের অন্বেষনে ও ভাব নির্মানে ব্যয় করেছি। আমি পরিযায়ী হবার আগে তাঁতী, নির্মাতা, ভোক্তা, ডিজাইনার সবার মধ্যে কি এক জোয়ার রেখে এসেছি। ফ্যাশন জগতের মৌল ধাতু ‘দেশী’ হয়ে গেছিল।

শুনেছি সাবিনা ও রুনা দামী নয় বলে দেশের শাড়ি পরেন না। খালেদা জিয়া পরেন ফ্রেঞ্চ সিফন, আমাদের চিত্র নায়িকারা ছবির মহরতে পরেন দশ মন ওজনের লাহেঙ্গা। ওরা না আমাদের আইকন! বলুন কোথায় যাই ?

ভাইরে, সুযোগ থাকলে প্রতি পদে নিজের গরমে ঘামুন। নিজের শ্রমে সাজুন। নিজের কর্মে কৌশলী হোন। আপনাকে অপরূপ লাগবে, শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসবে, ভালবেসে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করবে। সব চেয়ে বড় কথা নিজের দেশের টাকা দেশেই থাকবে।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com