দি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মহাকাশ বিজ্ঞানে হাবল টেলিস্কোপ এক বিস্ময়ের নাম। এই টেলিস্কোপ মহাকাশে প্রথম টেলিস্কোপ নয়, কিন্তু এর সংযোজনের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। পৃথিবী থেকে সাধারন টেলিস্কোপেও মহাকাশ দেখা যায়। তবে সাধারন টেলিস্কোপের প্রধান সমস্যা হলো এতে মহাকাশের যে চিত্র দেখা যায় তা কিছুটা ঝাপসা। কারন টেলিস্কোপ আর মহাকাশের মাঝে থাকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল। ঠিক এ কারনেই ১৯৯০ সালের ২৪ এপ্রিল পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বাইরে ভূ-পৃষ্ট থেকে ৬০০কিলোমিটার উপরে বায়ুমন্ডলে মহাশূন্যে স্থাপন করা হয় ২.৪ মিটার দীর্ঘ হাবল টেলিস্কোপ। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের ছবির রেযোল্যুশন হবে হাবলের ইনফ্রারেড ছবির ৩ গুণ আর স্পিটযার-এর ৮ গুণ শক্তিশালী। হাবল যেখানে মহাবিষ্ফোরণের ৮০০ মিলিয়ন বছর পরের দৃশ্য দেখতে পারে, সেখানে ওয়েব দেখতে পাবে ২০০ মিলিয়ন বছর পরের দৃশ্য।  হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উত্তরসূরি হিসেবে নাসা ৮৮০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২০১৮ সালে চালু করতে যাচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। এটি অবলোহিত রশ্মির অনুকূলে কাজ করতে পারবে এবং ট্রানজিস্টিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবিষ্কৃত কয়েকটি গ্রহের আবহমণ্ডল নিয়ে গবেষণা চালাবে। ওয়েবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর আয়নাগুলো, যেগুলো বসানো থাকবে এর শ্বৈত্যমুখে। এই আয়না, রকেটের ভিতর গুটিয়ে রাখা যাবে, এবং এর ঘূর্ণন-পথের কাছে গিয়ে নিজেকে খুলতে পারবে। আয়নাগুলো ১৮টি টুকরার সমন্বয়, যেগুলো প্রচলিত কাচ দিয়ে না বানিয়ে বেরিলিয়াম দিয়ে বানানো, কারণ প্রচন্ড ঠান্ডায় বেরিলিয়াম, কাচের চেয়ে কম সংকুচিত হয়, তাই ঐ আবহাওয়ায় এই আয়না যথেষ্টই স্থির। এছাড়া ওয়েবের আয়না বসাবার অংশটি খাঁটি ২৪-ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে বাঁধানো থাকবে, কারণ অবলোহিত (infrared) আলো প্রতিফলনে স্বর্ণ খুব বেশি উপযোগী— যেখানে সাধারণ আয়না ৮৫% প্রতিফলনক্ষম, সেখানে স্বর্ণের ব্যবহারে তা ৯৮% প্রতিফলনক্ষম হয়ে উঠে।  পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হবে ৯,৪০,০০০ মাইল। এই ঘূর্ণন-পথকে [এর আবিষ্কর্তা জোসেফ লুই ল্যাগরেঞ্জের নামানুসারে] বলা হয় ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট। ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট হলো এমন পাঁচটি পয়েন্ট, যেখানে দুটো ঘূর্ণনশীল বস্তুর মাঝখানে তৃতীয় আরেকটি বস্তু তাদের মাধ্যাকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে মাঝামাঝি একটা নিরাপদ এবং স্থায়ী দূরত্ব ধরে চলতে পারে। জেম্‌স ওয়েবকে এই পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্টের মধ্যে দ্বিতীয় পয়েন্টে রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’ প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী নোবেল বিজয়ী জন মাথার বলেন, টেলিস্কোপের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা এর উদযাপন করতে যাচ্ছি। লক্ষ্যবন্তু দর্শনের জন্য, সূর্যের আলোর প্রতিফলন, তাপ বিকিরণ, পরিমাপ ও বিশ্লেষণে টেলিস্কোপটি অনন্য ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
নাসা বলছে, মহাবিশ্বের দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণ করতে, ছায়াপথের ছবি সরবর‍াহ করতে এবং দূর আকাশের তারকারাজির আশপাশের অনাবিষ্কৃত গ্রহ আবিষ্কারে এই টেলিস্কোপ বিশেষ অবদান রাখবে।
নাসার নেতৃত্বে এবং ইউরোপিয়ান মহাকাশ সংস্থার সহায়তায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘দি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের গায়ানা থেকে একটি ইউরোপিয়া আরিয়ান রকেট এই টেলিস্কোপটি নিয়ে উৎক্ষেপিত হবে-এমনই পরিকল্পনা নাসার। এর আগে ২৬ বছর ধরে সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ ছিলো হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। জেমস ওয়েব হতে যাচ্ছে তারই উত্তরসূরী।
১৯৯৬ সাল থেকে পরিকল্পিত পর্যায়ে থাকা এ প্রকল্পটি প্রায় ১৭টি দেশের একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে উপস্থাপন করে চলেছে যার নেতৃত্বে রয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা। এছাড়ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সিও এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। যন্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছে জেমস ই. ওয়েবের নামানুসারে। তিনি ছিলেন নাসার দ্বিতীয় প্রশাসক এবং অ্যাপোলো অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

তথ্য ও ছবিঃ ইন্টারনেট

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com