দক্ষিন আফ্রিকাকে জয় উপহারই দিল বাংলাদেশ

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীমঃ পচেফস্ট্রমের সেনউইজ পার্কের ম্যাচটা বাংলাদেশের বিপক্ষে যাবে সেটা শুরুর দিন থেকেই বোঝা গিয়েছিল। তবে এতটা শোচনীয় পরাজয় কেউ প্রত্যাশা করেনি।দক্ষিন আফ্রিকায় রীতিমত বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতায় মাত্র ৯০ রানেই অল আউট হয়েছে। মাথায় নিয়েছে ৩৩৩ রানের বিশাল হার। এটাই বাংলাদেশের দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বনিন্ম সংগ্রহ। এর আগে আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বনিন্ম সংগ্রহ ছিল ১০২ রান।

বাংলাদেশের জন্য এটা ছিল ভুলে ভরা টেষ্ট ম্যাচ। টস জিতে ব্যাটিং উইকেটে ব্যাটিং না নিয়ে ফিল্ডিং নেয়া থেকে শুরু করে , ব্যাটসম্যানদের একের পর এক ভুলের কারণে দক্ষিন আফ্রিকাকে জয় উপহারই দিল বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিন আফ্রিকান বোলারদের কোন প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারেনি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা।শুরু হয়েছিল শূণ্য রানে তামিম আর মুমিনুলের বিদায়ের মধ্যে দিয়ে আর শেষটা হল মুস্তাফিজের আউট দিয়ে। শনিবার তিনবার আউটের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মুশফিক আজ রানের খাতা না খুলেই ফিরে গেলেন সাজঘরে।  আজ সোমবার টেস্টের পঞ্চম দিনে রাবাদা ও কেশব টাইগার বধে মেতে ওঠেন। শুরুটা করেন রাবাদা। ৫৫ থেকে ৬৭ রানের মধ্যেই তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মেরদন্ড ভেঙ্গে দেন রাবাদা । এই সময়ে তিনি তুলে নেন মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাসের উইকেট।

এরপর বাকি কাজ অনায়াসেই শেষ করেন কেশব মহারাজ। বাকি চার উইকেটের তিনটাই  তুলে নেন তিনি। তার শিকারে পরিনত হয় সাব্বির, তাসকিন, মুস্তাফিজ। শফিউল রান আউট হয়ে বিদায় নেন। সঙ্গীর অভাবে ১৫ রান করে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশ দলের বড় হারটা উইকেটে দাড়িয়ে দেখেন মিরাজ। সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরির কারণে পচেফস্ট্রুম টেস্টে আজ মাঠে নামেননি দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা পেসার মরনে মরকেল।তাঁর ইনজুরির স্থানে স্ক্যান করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্লুমফন্টেইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না মরনে মর্কেল।

বাংলাদেশের তরুণ অল-রাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ, বিস্ময়কর এক রেকর্ড গড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রুম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৬ ওভারে ১৭৮ রান দিয়ে উইকট পাননি মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ ওভারে উইকেট নেই ৬৯ রান দিয়ে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৪৭ রান দিয়ে উইকেটশুন্য তিনি ।

 ১০ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারের মত কোনো টেস্টে উইকেট শুন্য মিরাজ। শুধু এটুকুই নয়, সবচেয়ে বেশি রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকার বিব্রতকর রেকর্ডের ৩ নম্বরে স্থান এখন এই তরুণ অল-রাউন্ডারের দখলে ।এই লজ্জার রেকর্ডের প্রথম নাম দক্ষিণ আফ্রিকারই একজন স্পিনার ইমরান তাহির। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে ২৬০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।ভেঙেছিলেন ৫৪ বছর আগের রেকর্ড । ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানি পেসার খান মোহাম্মদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকা টেস্টে ২৫৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।মিরাজের পরে চতুর্থ স্থানে আছেন আরেক প্রোটিয়া স্পিনার নিকি বোয়ে। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে এক ইনিংসেই ৬৫ ওভার বল করে ২২১ রান দিয়ে উইকেট শুন্য ছিলেন তিনি। তবে এই বিব্রতকর রেকর্ডে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে মিরাজই প্রথম। এর আগে ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্টে ১৬৮ রান দিয়ে কেনো উইকেট পান নি এই পেসার।

ছবিঃ ইএসপিএন

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com