ত্বকের রোগ সোরিয়াসিস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডা. ওয়ানাইজা রহমান

সোরিয়াসিসের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেননি। যাদের সোরিয়াসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাদের যে কোনো ধরনের আঘাত এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ আঘাত থেকেই সোরিয়াসিস শুরু হতে পারে। একটা জায়গা চুলকাতে চুলকাতে সোরিয়াসিস শুরু হয়ে যেতে পারে। ঘর্ষণ বেশি লাগে এমন জায়গাতে যেমন কনুই (পড়ার টেবিলে), হাঁটু, কপাল ও পায়ের গিড়ায় (শক্ত জায়গায় নামজা পড়া) সোরিয়াসিস দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক দুুশ্চিন্তা সোরিয়াসিসের তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেহেতু এ রোগ কোনো ধরনের জীবাণু দ্বারা হয় না, তাই এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়।

সোরিয়াসিস নিরাময়যোগ্য ব্যাধি
চিকিৎসার মাধ্যমে বা নিজে নিজেই এ রোগ সেরে যেতে পারে। কয়েক দিন, মাস ও বছর এমনকি ১০ বছর পর্যন্ত ভালো থাকা যায়। তবে আবারো হতে পারে। চিকিৎসা নিলে কমে যাবে। পরবর্তীকালে একই জায়গায় অথবা অন্য জায়গায় দেখা দিতে পারে। তবে যেকোনো জায়গাতেই অসুখটি যদি বিরক্তিকর হয়, তবে চিকিৎসা নিতে হবে।

খাবারে বিধি নিষেধ

সোরিয়াসিসকে অনেকে অ্যালার্জি মনে করে বেগুন, চিংড়ি, ডিম, মিষ্টি কুমড়া, পুঁটি, বোয়াল ইত্যাদি খাওয়া বন্ধ করে দেন। এ ধারণাটি ঠিক নয়। তবে রেডমিট অর্থাৎ লাল গোশত যেমন- গরু, মহিষ, খাসি ও হাঁস খাওয়াতে সোরিয়াসিসের তীব্রতা বেড়ে যায়। তবে মুরগি খেতে পারবেন।
সোরিয়াসিস যাদের থাকে তাদের আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট পেইন বা বাত জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে পেইন কিলার খেলে ত্বকের সোরিয়াসিস বেড়ে যাবে। ব্যথা সাময়িক কমে থাকবে কিন্তু ভালো হবে না। ওষুধ বন্ধ তো আবার ব্যথাÑ তা হলে ব্যথার ওষুধ চলবে তো গ্যাস্ট্রিক আলসার হবে এবং একটা পর্যায়ে কিডনি তার কার্যকারিতা হারাবে। তাই যখন চর্ম রোগ সোরিয়াসিস সঙ্গে বাতের ব্যথা থাকবে তখন এমটিএক্স নামক ওষুধ প্রযোজ্য। এ ওষুধটি ক্যানসারের অন্যান্য ওষুধরে সঙ্গে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই অনেকে এটাকে ক্যানসারের ওষুধ মনে করে থাকেন, আসলে ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথায় এটিই বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ এবং পাশাপাশি ত্বকের সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ। বিশেষজ্ঞের অধীনে নিতে হয় এ জাতীয় চিকিৎসাব্যবস্থা।

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। চেম্বার : দি বেস্ট কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com