তিমি মাছকে যদি আপনি দীঘিতে এনে রাখতে চান…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল হোসেন

তিমি মাছকে যদি আপনি দীঘিতে এনে রাখতে চান । তা সে যত্তো আরাম আয়েশ আর খানা পিনার বন্দোবস্তই আপনি সেখানে করেন না কেন । পরিণতি কি হতে পারে বলুন তো?

মর্মান্তিক, নয় কি?

প্রেম ব্যাপারটা ঠিক তেমনি । বিশাল আকাশ তার ঠিকানা । তীরচিহ্নহীন সমুদ্রে তার দেবার কথা ডুব সাঁতার। তাকে আপনি আটকাতে চাইবেন ঘরের চার দেয়ালে! আপত্তি থাকলে আটকানো শব্দটা পালটে দিতে পারি । ঠিক আছে বসিয়ে নিন ওখানে সাজিয়ে রাখতে… চাইলে আরো যোগ করে নিন. . . পরম ভালোবাসা ও যতনে।

তারপর?তারপর বলুন নিশ্চিত সব শেষে . . .পরিণতিটি নিতান্তই মর্মন্তুদ।

তবু আমরা অনন্তকাল সেই এক মর্মান্তিক আর মর্মন্তুদ নাটকের স্ক্রিপ্টই লিখে রেখে যাচ্ছি । এক দিন, দুদিন, মাস, বছর নয় । এক্কেবারে স্রেফ অনাদিকাল ধরে । যুগাধিযুগ কিংবা কালাকাল ধরে যতোই ব্যবচ্ছেদ পারঙ্গম হতে থাকুক মানুষ এ প্লাস বি হোল স্কয়ারের মতোন শ্বাশ্বত থাকবে তার ফলাফল।মানুষ কোনো দিনই শিখতে পারবেনা কি করে এ ভুল শোধরাতে হবে তাকে । কারণটা আর অন্য কিছু নয় । আদপে সে তো তা চায়ই না।তাহলে সেটা আর ঘটবে কেমন করে?

ফুল সে সুন্দর হলেই অপরাধ, তাকে হতে হবে কেবলি আমার । যার যার প্রেম তার কাছে বিশ্বব্রহ্মান্ডের মাঝে সুন্দরতম । তাকে তার একান্ত করে পেতেই হবে । সেই প্রাণান্ত চেষ্টায় এমনি আষ্টেপৃষ্টে হবে তার অধিকার-দখলের আলিঙ্গন যে অচিরেই হাস-ফাস করতে করতে দম আঁটকে মরবে।

মানুন আর না মানুন প্রেমকে ওই খোলা আকাশে, সমুদ্রে কিংবা বল্গাহীন প্রান্তরে রেখে আসাটাই ছিলো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ । এখানেই পৃথিবীর তাবত বিবমিষা ! তাকে কি অমন হেলায় ফেলে রাখা যায়! তো তাকে কাটো, ছাঁটো, চিনি জলে ফুলদানীতে সাঁটো । আপনি বদ্ধপরিকর, তাকে ঠিক যেখানে ছিলো সেখানে ফেলে রেখে করবেন না এক বিন্দু খাটো । এ যে এক্কেবারে নিখাদ মরনপণ ! পৃথিবী টলবে তবু আপনার নট নড়ন চড়ন।

ভালো । তাহলে আর কার কি আছে বলার ! আপনি প্রথমে পুড়বেন … পেতে হবে পেতেই হবে এই আগুনে । পাবার পর তাকে পোড়াবেন দখলদারিত্বের শেকল পরিয়ে, দম আটকে মরতে শেখাবেন । পালা বদল । এর পর যন্ত্রণায় আবার আপনি পুড়বেন । নয়তো ভুলে গিয়ে অন্য প্রেমে মজবেন । আর সেই একই গল্পের পুনরাবৃত্তি গড়বেন কিংবা বরণ করবেন । এইতো থোড়-বড়ি-খাড়া-খাড়া-বড়ি-থোড়।

কেউ ভালোবাসে পুড়ে যেতে ।
কেউবা পোড়াতে।

যেনো বা শীতের সকালের আহলাদী রোদের চাইতে কাঙ্খিত পুলক ও আনন্দের সেই আগুন । পুড়ে যাওয়া কিংবা পোড়ানো সবই তার আরাধ্য ফাগুন।

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com