ডার্ক ওয়েব – এক অন্ধকার জগত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অন্ধকার অন্তর্জাল, ডার্ক ওয়েব-বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় খুব পরিচিত ও  আলোচিত একটি শব্দ। ইন্টারনেটে দৃশ্যমান কনটেন্ট এবং তথ্যের ভান্ডারকে বলা হয় সারফেস ওয়েব। আর সারফেস ওয়েব হল ইন্টারনেটের মোট তথ্যের মাত্র ১০ শতাংশ। তাহলে বাকীটা? বাকী ৯০ শতাংশই রয়ে গেছে অন্ধকারে। এবং থেকে যায় মানুষের জানার বাইরে। ইন্টারনেটের লুক্কায়িত অংশ দুই ভাগে বিভক্ত, ডীপ ওয়েব আর ডার্ক ওয়েব। এইতো সেদিন ১৯৯০ এর মাঝামাঝি থেকে ১৯৯০ এর পরবর্তি সময়ের দিকে পশ্চিমাবিশ্বে ইন্টারনেট ব্যাপক ভাবে বিস্তিৃত হতে থাকে আর বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার চালু হয় ১৯৯৩ সালে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে। বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়ে গেছে আর এই সবই কৃতিত্ব তার, যার নাম হলো ইন্টারনেট। গত ২০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মোটামুটি ২১০টি আলাদা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এর বিস্তার। এমনকি পৃথিবীর অনেক দরিদ্রতর দেশও সংযুক্ত হয়ে পড়েছে এই জালে। ইন্টারনেট যেমন গোটা পৃথিবীকে সংযুক্ত করে গতিশীল করেছে তেমনি রয়ে গেছে রহস্যময় ইন্টারনেট জগৎ। আজ জানবো সেই “রহস্যময় ডার্ক ওয়েব” অর্থাৎ রহস্যময় ইন্টারনেট জগৎ সম্পর্কে কিছু কথা।

তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে প্রসার ঘটেছে ইন্টারনেটের, আর তা আজ মহাসমুদ্রের অবয়বধারণ করেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করছে অথচ গুগলের সঙ্গে পরিচয় নেই এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেকে ইন্টারনেট কী এটা বোঝার আগেই পরিচিত হয়ে যান গুগল নামের সঙ্গে। কোনো কিছু জানার দরকার হলে অন্যকে না জিজ্ঞাসা করে প্রায় সবাই সার্চ দেয় গুগলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো গুগল কতটুকু জানে?

ডীপ ওয়েব :
বলতে গেলে এটি অনেকাংশে সারফেস ওয়েব এর সঙ্গে যুক্ত। ধরুন আপনি জেএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট নেয়ার জন্য; বোর্ডের ওয়েবসাইটে গেলেন, এখানে বোর্ডের ওয়েবসাইটে সকল ছাত্র ছাত্রীর রেজাল্ট রয়েছে ঠিকই; তবে তা রয়েছে লুকায়িত অবস্থায়। কেবল একজনের রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিলে; তার রেজাল্ট বের হয়ে আসছে। এখানে যে রেজাল্টগুলো লুক্কায়িত অবস্থায় রয়েছে তা ডীপ ওয়েব এর উদাহরন। তেমনিভাবে কোন ওয়েবসাইটের সাবস্ক্রিপশন রিপোর্ট, ইউজারদের রিপোর্ট ইত্যাদি ডীপ ওয়েব এর উদাহরন।

ডার্ক ওয়েব :
সারফেস ওয়েব এবং ডীপ ওয়েব থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্ছিন্ন একটি নেটওয়ার্ক; যা অনেক ভয়ংকর তার নাম হল ডার্ক ওয়েব। সহজ সরল কোন লগ-ইন সাইন আপ সিস্টেমে এর ভেতর ঢোকা যাবে না। এতে ঢোকার জন্য লাগে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সফটওয়্যার আর এখানে কেউ কারও তথ্য জানতে পারে না। কেউ কোন তথ্য চুরি করতেও পারে না। এটি সার্চ ইঞ্জিন থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন।সার্চ ইঞ্জিনগুলো তাদের সার্চ তদারকি করে এক ধরনের ভার্চুয়াল রোবট তথা Crawler দিয়ে। এই Crawler গুলো ওয়েবসাইটের HTML tag দেখে ওয়েবসাইটগুলোকে লিপিবদ্ধ করে।তাছাড়া কিছু কিছু সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনে লিপিবদ্ধ হওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট যায়। এখন যে সমস্ত সাইট এডমিন চান না যে তাদের সাইটটি সার্চ ইঞ্জিন খুঁজে না পাক, তারা Robot Exclusion Protocol ব্যবহার করেন যা Crawler গুলোকে সাইটগুলো খুঁজে পাওয়া বা লিপিবদ্ধ করা থেকে বিরত রাখে। কিছু সাইট আছে ডাইনামিক অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই ধরণের সাইটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সম্ভব, আর Crawler এর পক্ষে এই সব করা সম্ভব হয় না।

এসব সাইটে ঢোকার জন্য রয়েছে একটি বিশেষ ব্রাউজার, যার নাম হল Tor। আপনার প্রচলিত ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে এই সমস্ত সাইটে ঢুকতে পারবেন না। এরা ইন্টারনেটের সমস্ত প্রথার বাইরে অবস্থান করে, গ্রাহ্য করে না কোন নিয়ম-কানুন। আর এদের ঠিকানাও থাকে এতটাই উদ্ভট (যেমন 3g2upl4pq6kufc4m.onion/ ) যে সাধারণ মানুষের পক্ষে এগুলো মনে রাখা ভীষণ কঠিন। এই অংশটিই ইন্টারনেটের প্রকৃত অদৃশ্য অংশ। বিশেষ কিছু জ্ঞান(যেমন প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্কিং, প্রক্সি) না থাকলে আপনি এই নেটওর্য়াকে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই অংশের আরেকটি বিশেষত্ব হল এরা ওর্য়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের সাইটগুলোর মত টপ লেভেল ডোমেইন (যেমন .com, .net, .org)  ব্যবহার না করে “Pseudo Top Level Domain” ব্যবহার করে যা কিনা মূল ওর্য়াল্ড ওয়াইড ওয়েবে না থেকে দ্বিতীয় আরেকটি নেটওর্য়াকের অধীনে থাকে। এ ধরণের ডোমেইনের ভেতর আছে Bitnet, Onion, Freenet ইত্যাদি।

ডার্ক ওয়েব -এ ব্যবহৃত নেটওর্য়াকের মধ্যে সারফেস ওয়েবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে এমন এক নেটওর্য়াক হল অনিয়ন নেটওর্য়াক। অনিয়ন মূলত মার্কিন নেভির জন্য তৈরী করা হলেও এই নেটওর্য়াক আজ বিশ্বব্যাপী ছদ্মবেশী নেট ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ। অনিয়নে সাধারণ কোন ব্রাউজার দিয়ে ঢোকা যায় না। এজন্য ব্যবহার করতে হবে টর ব্রাউজার। টর ব্রাউজার ব্যবহারকারীর পরিচয় লুকিয়ে ফেলে আর এর ফলে কারো পক্ষে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ যখন টর দিয়ে কোন সাইটে ঢুকতে যাবে তখন টর ব্রাউজার তার এই রিকোয়েস্ট কঠিন এনক্রিপশনের মধ্য দিয়ে অনিয়ন প্রক্সিতে পাঠাবে। অনিয়ন প্রক্সিতে পাঠানো সেই ডেটা আর ডেটা থাকে না, সেটি দুর্বোধ্য এক স্ক্রিপ্টে পরিণত হয়। এবার অনিয়ন প্রক্সি এই ডেটা নিয়ে মূল ইন্টারনেটমূখো হয় যেখানে স্বেচ্ছাশ্রম দে’য়া সদস্যদের অনিয়ন রাউটারগুলো অপেক্ষা করছে। অনিয়ন রাউটারে প্রবেশের আগে অনিয়ন নেটওয়ার্কের প্রবেশপথে এই ডেটা আবার এনক্রিপশনের ভেতর দিয়ে যায়। নেটওর্য়াক থেকে বের হওয়ার সময় আরো একবার এনক্রিপশনের ভেতর দিয়ে যায়। পথিমধ্যে অনিয়নের বেশ কিছু রাউটারের ভেতর দিয়ে এনক্রিপশন হয় যেখানে এক এক রাউটারে এনক্রিপশন আউটপুট এক এক রকম এবং কোন রাউটারই জানে না যে ডেটা কোন রাউটার থেকে আসছে। সবশেষে ডেটা যখন প্রাপকের হাতে গিয়ে পৌঁছায় তা তখন ডিএনক্রিপশন প্রসেসের মাধ্যমে আদি অবস্থানে ফিরে আসে। এই রকম অনেকগুলো লেয়ার বা খোসা থাকার কারণেই এই নেটওর্য়াকের নাম অনিয়ন নেটওর্য়াক। এখন এই ডেটা চালাচালির সময় কেউ যদি এই ডেটা চুরি করতে সক্ষমও হয় তার পক্ষে এটা বের করা সম্ভব হবে না যে এটার প্রেরক কে বা প্রাপকইবা কে। কেননা অনিয়ন রাউটারগুলো নিজেরাই এটা জানে না। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি দুই প্রান্তেই নজরদারী করতে পারে তাহলে সে বুঝতে পারবে সেন্ডার আর রিসিভার -এর লোকেশন কোথায়। এই ধরণের দুর্বোধ্য সিস্টেমের কারণেই এই সমস্ত নেটওর্য়াক সব সময়ই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। গত কিছুদিন আগে সিল্ক রোডের উদ্ভাবক, রস উলব্রিচ্যাট এফবিআই কর্তৃক গ্রেফতার হয়। কিন্তু এফবিআই সিল্ক রোড নষ্ট করে দিলেও ডার্ক ওয়েব এর কিছুই করতে পারেনি। তবে সিল্ক রোড ২.০ খোলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়ে গেছে ডার্ক ইউজারদের।

ইন্টারনেটের এই দুনিয়াটা সবচেয়ে আলাদা, অন্ধকারাচ্ছন্ন।  যা কখনো কেউ কল্পনা করেনি তাই পাওয়া যাবে এখানে। উইকিলিকস ঘোষণা করল- এ বছর তারা আরো নতুন কিছু ডেটা প্রকাশ করবে, কিন্তু এখানে ঢুকে হয়তো দেখা যাবে উইকিলিকস -এর এই সমস্ত কথিত নতুন ডেটা এই ডার্ক ওয়েবে আছে বেশ ক’বছর আগে থেকেই। যেকোন বইয়ের একদম লেটেস্ট এডিশন যা কিনা সারফেস ওয়েবে কপিরাইট ল’এর কারণে নেই তা এখানে দেদারসে আদান প্রদান হচ্ছে। আরো আছে বিকৃত রুচির বিনোদন। শিশু পর্ণোগ্রাফি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ভিডিও যা কিনা সারফেস ওয়েবে নেই, তা এখানকার হট টপিকস। এমন কিছু সাইট আছে যেখানে মারিজুয়ানা, হেরোইন থেকে শুরু করে সব ধরণের মাদক হোম ডেলিভারী দে’য়া হয়। ডার্ক ওয়েব -এর মূল ব্যবহারকারী মূলত মাদকাসক্তরাই। আবার কিছু সাইট আছে যেখানে কট্টরপন্থী গ্রুপগুলো শিক্ষা দিচ্ছে কীভাবে গোলা বারুদ বানাতে হয়, কিছু সাইটেতো রেডিমেড অস্ত্রই বিক্রি হয়। একে ৪৭ থেকে শুরু করে রকেট লাঞ্চার, মর্টারের মত অস্ত্রও কিনতে পাওয়া যায়। আরব-বসন্তের সময় বিপ্লবকারীরা এই ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমেই যোগাযোগ করত।

ডার্ক ওয়েবে নানা ধরণের মেইল সার্ভিস, চ্যাট সার্ভিস আছে যেখানে পরিচয় গোপন রেখে আফনে অনেক কিছুই করতে পারবেন। কীভাবে অবৈধ সঙ্গীত ডাউনলোড, যেখানে বিনামূল্যে সর্বশেষ সিনেমা দেখা, বা কীভাবে অল্প অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত মাদক অর্ডার দেয়া যায়।এছাড়াও অস্ত্র পাচার, ভাড়াটে হত্যাকারী, পতিতা, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি সব এই ডার্ক ওয়েবকে সব চেয়ে বড় ব্ল্যাক মার্কেটে পরিণত করেছে। এসব অনিয়ন নেটওর্য়াকে থাকা ব্ল্যাক মার্কেটগুলোর ভেতর সবচেয়ে জনপ্রিয় হল সিল্ক রোড। ফোর্বসের হিসেবে এখানে গত বছর ২২ মিলিয়ন ডলারের বেচা-কেনা হয়েছিল। মাইক্রোসফট, অ্যাপেলের প্রোডাক্ট এখানে ৮০% পর্যন্ত ডিস্কাউন্টে পাওয়া যায়। জনপ্রিয় মাদক দ্রব্য ও বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য তারা মূলতঃ একটি ইউজারবেজ এ বিক্রয় করে। সালফিউরিক অ্যাসিড, তরল পারদ, চোরাই ক্রেডিট কার্ড, চেক, নকল বিল, কয়েন, পাথর জাতীয় জুয়েলারি, চুরির স্বর্ণ এধরণের সব কিছুর জন্যই আলাদা আলাদা বিভাগ আছে। ডিপ ওয়েব -এর সর্বাধিক লেনদেন সাধারণত বিটকয়েন -এর মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে থাকে। ১ বিটকয়েন হল ১১০০  মার্কিন ডলার মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে ৮৮,৫৮৮ টাকার সমান । বিটকয়েন নামক এই ডিজিটাল মুদ্রা দিয়ে সব কেনা যায়। সারফেস ওয়েবে যেসব হ্যাকিং টেকনিক দেখতে পান তা হল এই ডার্ক ওয়েব থেকে লীক হওয়া ১% তথ্যের অংশ বিশেষ। এখানকার হ্যাকাররা খুবই ভয়ংকর এবং প্রোগামিং -এ তাদের কোন জুড়ি নেই। কিন্তু সব ডিপ ওয়েবসাইট আবার খারাপ না। যেমনঃ উইকিলিকস সাইটটি জনগণের সামনে আসার আগে ডিপ ওয়েবেই ছিল। এমনকী এখনও কেউ যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উইকিলিকস -এ প্রকাশ করতে চায়, তাহলে তা ডিপ ওয়েব বা ডার্ক ওয়েব এর মাধ্যমেই করা সম্ভব।

ডার্ক ওয়েবে ফেসবুক
সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ডার্ক ওয়েব ‘টর’-এর মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় এক মিলিয়ন ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করছেন। এটি তাদের প্রাইভেসি রক্ষা কিংবা ডিজিটাল ট্রেইল থেকে রক্ষা করে। এতে ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখা সম্ভব হয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করা হলে ব্যবহারকারীর অবস্থান কিংবা আইপি’র কোনো রেকর্ড ফেসবুকের পক্ষে রাখা সম্ভব হয় না। ফেসবুকের একটি নোটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অ্যালাক মাফেট সম্প্রতি ডার্ক ওয়েবের এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতি ৩০ দিনের গড় হিসাবে টর ব্যবহারের পরিমাণ এক বছরেরও কম সময়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। এটি বর্তমানে এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। মাফেট লিখেছেন, ‘এ বৃদ্ধি মূলত মানুষের টর ব্যবহার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ছাড়া এটি ব্যবহারকারীদের যে মূল্য দেয় তারও প্রমাণ।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা আশা করি তারা নিজেদের মতামত জানানো অব্যাহত রাখবে এবং আমাদের উন্নতির উপায় জানাবে।’ ওনিয়ন রাউটার নেটওয়ার্ক বা টর বর্তমানে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এটি অনলাইনে ব্যবহারকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে সহায়তা করে। এটি বেশ কয়েকটি এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপন রাখে। বিভিন্ন ডার্ক ওয়েব প্রাইভেসি অ্যাক্টিভিস্ট, হ্যাকার ও সাংবাদিকরা ব্যবহার করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগে গোপনীয়তা রক্ষার জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়।
ফেসবুক ২০১৪ সালে ডার্ক ওয়েব উন্মুক্ত করে। এ জন্য ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীদের নিরাপদে প্রবেশের সুবিধার্থে একটি স্পেশাল অ্যাড্রেস তৈরি করা হয়। এ বছরের জানুয়ারিতে এ সুবিধা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে আইওএস অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের জন্য এ সুবিধা এখনও যোগ করা হয়নি। আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীরা অবশ্য ওনিওন ব্রাউজার ব্যবহার করে এ সুবিধা পেতে পারে।

শেষ কথা এটি এমনই এক অন্ধকার জগত যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলার আগে অন্ততঃ দু’বার ভেবে নিতে হবে। এক জরীপ থেকে জানা যায়  দৃশ্যমান ওয়েবে যে পরিমাণ ডেটা সংরক্ষিত আছে তার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশী ডেটা সংরক্ষিত আছে অদৃশ্য এই ওয়েবে। প্রকৃতপক্ষে এই অদৃশ্য ওয়েব হল মহাসাগর পরিমাণ আর আমাদের ব্যবহার করা সচরাচর দৃশ্যমান ইন্টারনেটের ডেটা হল অসীম মহাসাগরের বুকে ভেসে থাকা এক টুকরো বরফের মত। খারাপ ভালো সবটাই জানতে হয় সবসময়। কোথায় থামতে হবে সেটুকু অনুভব করতে পারাটা মানুষ হওয়ার অন্যতম শিক্ষা। নিজেকে বাঁচানোর জন্য হলেও বিপদ সম্পর্কে জানতে হয়। অমঙ্গলকে না চিনলে মঙ্গলের সাক্ষাত পেয়েও তাকে হারাতে হয়। বিজ্ঞান যেভাবে এগুচ্ছে তাতে করে হয়ত এই অন্ধকার জগতের রহস্য একদিন সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়ে যাবে। এখন শুধু সময় পেরোনোর অপেক্ষা।

রিরাইট নিমো
তথ্য ও ছবিঃ ইন্টারনেট

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com