জীবনের রঙ ছবি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুলতানা শিরীন সাজি

(অটোয়া থেকে): ৬ জুলাই রাশীক বললো,মাম্মা চলো কোথাও ঘুরে আসি। কোথায় যাবো ভোট চললো।ওর বাবা বলে মন্ট্রিয়ল, আমরা বলি টরন্টো। বড়ভাই আর ভাবী আমাদের এখান থেকে বেড়িয়ে Kitchener এ ফিরে গেছেন তিন তারিখে। নাহলে ওখানে যাওয়া হতো।
এর আগে বহুবার টরন্টো গেছি কিন্তু Dundas Square এ বসে একটা বিকাল কাটাইনি। এবার রাশীকের কারণে তা সম্ভব হলো। ওর ইচ্ছায় অটোয়া থেকে সোজা Toronto র ডাউন টাউনের Eaton Centre এ গেলাপথ এ দু’বার On the run এ থেমে খাওয়া। রাইয়ানের কাছে কোথাও বেড়াতে যাবার প্রধান আকর্ষণ হলো পথে থেমে থেমে খাওয়া। ঠিক আমাদের ছোটবেলায় যেমন হতো! লালমনিরহাট থেকে বগুড়া নানীবাড়ি যাবার সময় মা টিফিন কারীতে করে কতরকম খাবার বানিয়ে নিতেন। কিন্তু ফেরিওয়ালাদের কাছে সিদ্ধ ডিম,চানাচুর মাখা ,পানি সিঙাড়া কিনে খাবার আনন্দই ছিল আলাদা।
বড়ভাই এর সঙ্গে ফোনে কথা হলো। কিচেনার এ যেতে বললেন। বললাম এবার একটু টরন্টো বেড়াই। বন্ধুদের সাথে রাশীক যে দু’চারবার গেছে, York Street ধরে কয়েকঘন্টা হেঁটেছে। এত বড় শহর টরন্টো। এক শহর থেকে আর শহর যেতে কয়েকঘন্টা লেগে যায়। আর ট্রাফিক ও বেড়েছে অনেক। Dundas Square এ সিঁড়িতে বসে মানুষ দেখছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষ এক এক রকম অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যায়। কার ভিতর কি হচ্ছে আমরা কেউ কি জানি! একটা জাইগায় মিউজিক ছেড়ে একজন মহিলা নাচছিল, একজন রাস্তার পাশ্বে খেলা দেখচ্ছিল। চোখের সামনে উঁচে বিল্ডিং এর মধ্যে দিয়ে আকাশ এ মেঘ উড়ে যাচ্ছিল সেদিক এ তাকিয়ে মন কেমন করছিল।

দুই ছেলের সঙ্গে বাবা

লাহোর টিক্কা তে রাতের খাবার খেয়ে ড্যানফোর্থে বাঙালী পাড়ায় যেতে একটু দেরী হয়ে গেলো। তবু কিছুক্ষন থাকলাম। রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও ভালো লাগে এখানে। বিকালে আসলে লেখালেখি জগতের কিছু বন্ধুদের দেখা মিলতো ।
সকালে হোটেল থেকে চেক আউট করে Yorkdale Mall এ গেলাম। রাশীকের এক বন্ধু ওখানে আসবে দেখা করতে। আমরা যাবো আমাদের বন্ধু তুহিন ভাই আর ওর পরিবারের সবার সাথে দেখা করতে। গাড়ি পার্কিং লট এ যাবার সময় দেখি আন্টি করে কে যেনো ডাকছে……দেখি জয়িতা ,আমার বন্ধু লুলুর মেয়ে। একেই বলে মনের টান। আজ সকালে মনে হচ্ছিল লুলুকে না দেখে যাবো টরন্টো এসে! ছোট ভাই আদরের সঙ্গেও এবার দেখা হলোনা। ও যদিও খুব করে বলছিল বাসায় যেতে।বলেছি তোমরা দু’জন অটোয়া ঘুরে যাও। উইক ডে তে এভাবে হুট করে এলে কি আর কাউকে পাওয়া যায়? জয়িতাকে বললাম মাকে নিয়ে চলে এসো তুহিনভাইদের বাসায়।

তুহিন ভাইকে ,মিলাকে ,সুপ্রভকে দেখে খুব ভালো লাগলো। শাহীন ভাই আমাদের জন্য বার্বিকিউ বানিয়ে রেখেছিল। ট্রাফিক ঠেলে পৌছাতে একটু দেরী হয়ে গেলো। শাহীন ভাই আর হাসনা ভাবীদের খুব সুন্দর ব্যাক ইয়ার্ডে বসে আড্ডা চললো। ভাবী ভীষন মিশুক ।অনেক বছর পর দেখা হয়ে খুব ভালো লাগলো। উনারা একই রকম আছেন।বাচ্চাগুলো বড় হয়ে গেছে।

দুই ছেলের সঙ্গে সাজি

রাশীককে ছোট বেলায় আপন মামা ,চাচার মত আদর দিয়ে ,কোলে করে বড় করেছিল এই তুহিন ভাই, মামুন ভাই,দোলন ভাই,মাসুদ ভাই রা। রাশীক মামুন ভাইকে ভাই ডাকতো।হেলালকেও ভাই ডাকতো। তুহিন ভাইকে ডাকতো তুকিন।মাসুদ ভাই এর দোলন ভাইকে নাম ধরে ডাকতো। রাশীকের ছোটবেলার স্মৃতিতে এদের সবার আদর। ওর মনে আছে।

লুলু ওর মেয়ে আর ছেলে সহ এসে দেখা করে গেলো। আমাদের যাবার এসে গেলো। তুহিন ভাই এর আঁকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম।
হাইওয়েতে ওঠার আগেই এমন বৃষ্টি। গাড়ি থাকিয়ে সেই বৃষ্টি দেখলাম আমরা। অনেকদিন পর আমাদের ছেলেদের স্মৃতিতে নাড়া দিয়ে যাবে এই বৃষ্টিদিন, একথা মনে হলো। এমন মুষলধারার বৃষ্টিতে আমরা চারজন গাড়ির মধ্যে।

প্রার্থণা করি সুস্থ থাকেন তুহিন ভাই।
ভালো থাকেন। রাশীকের বাবা যে শক্তির গল্প করে। বেঁচে থাকার যে অদম্য ইচ্ছার কথা বলে, সেই ইচ্ছাটা আমাদের সবার মাঝেই শক্তি হয়ে ধরা দিক।
তাঁর কাছে চাইতে হয়।
তিনি আছেন ,আমাদের প্রার্থণার কাছেই আছেন।

আমরা সবাই যেনো ভালো থাকি।

ছবি: লেখক

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com