ছোট বেলার গল্পঃ নানাবাড়ি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখবেন তার জীবনের কথা।কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো। পড়ুন কাটাঘুড়ি বিভাগে।

কনকচাঁপা

 নানা ভাই গোসাইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী প্রধান শিক্ষক। জাঁদরেল ইংরেজি শিক্ষক। ডাকনাম ইংরেজির জাহাজ। কলিকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের গ্র্যাজুয়েট ও বিএবিটি। তাঁর বাড়িতে পড়া ছাড়া কোন কথাই নাই।বড় মামা, বড় খালা শান্ত আর পড়ুয়া,মেঝো মামা বেজায় দুষ্ট।ছোট খালা জিদ্দি আর ছোট মামা জাস্ট বিটকেল পাজী। নানীবুজি তাঁর সন্তান দের প্রশ্রয় দিয়ে রোজ বকা খান।ছোট মামার নাম মিন্টু।মানুষ এর আদলে বানরের মত দুষ্টু ।আল্লাহ গো!!! চাঁদনী রাতে আমরা নানারকম খেলায় মাতি।পড়াশোনা শেষে নানারকম খেলা।খোলা মাঠে, উঠানে,এমন কি পুকুর পাড়েও। নানার পাল্লায় পড়লে পড়া ছাড়া আর উপায় নেই। এভাবে আমরা তার পড়াশোনার গ্যাঁড়াকল এ পড়ে কত কিছু শিখেছি! তো যখনকার কথা বলছি তখন একটা গাধা কাজের মেয়ে ছিল, সে প্রচণ্ড ভুতের ভয় পেতো।হঠাৎ মিন্টুমামার খেয়াল চাপলো ওকে ভুতের ভয় দেখাবে।আমরা জাস্ট অনুসারী। আমি তো দুধুভাত।মিন্টু মামা ইস্কুলের দারোয়ান যে লম্বা টুলে বসে ওই টুল মাথায় ঢুকালেন।

কিশোরী আমি

টুলের মাথায় চুন দিয়ে চোখমুখ আঁকা পাতিল।চাঁদের রাতে খোলা মাঠে আমরা আজাইরা দৌড়াদৌড়ি করছি।কাকে দিয়ে যেন কাজের মেয়েটাকে ডেকে পাঠালেন।পানি খাওয়ার উসিলা।এদিকে আমাদের লুকাতে বললেন। মেয়েটা জগে করে পানি এনে দেখে রোজকার খেলার জায়গায় কেউ নেই।হঠাৎ লম্বা ভুত নাচা শুরু করলো।সঙ্গে গানও গাচ্ছে সেই ভুত। মেয়েটা অদ্ভুত আওয়াজ করে দৌড় দিয়ে একেবারে ঘরের উঠোনে আছড়ে পড়লো। মিন্টু মামা তাকে আরো ভয় দেখাতে পিছে পিছে। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে।নানাভাই কি হইসে কি হইসে বলে বের হয়েই দেখেন মেয়েটি উঠানের মেঝেতে গোঙাচ্ছে। আর সামনে ভুত স্তম্ভিত দাঁড়িয়ে। তুই কে রে বলে হুংকার ছাড়লেন নানাভাই।নানীবুজি মেয়েটার মাথায় পানি ঢালতে লাগলেন।কিন্তু!!!!!! কিন্তু!!! মিন্টু মামার মাথা থেকে ওই টুল আর বের হয়না! এইবার মিন্টু মামা ভয়ে আউআউ করছেন।কান্না আর বেরুচ্ছেনা।নানীবুজি সোজা নানাভাইয়ের পা জাপ্টে ধরলেন।মিন্টুমামা বোধহয় পিসু করে দিলেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।আমরা বাকিগুলোও ভয়ে কাঁপছি। নানীবুজি কেঁদেই যাচ্ছেন।আব্বা ঘর থেকে বের হয়ে মিনমিন করে বললেন, বেটা, (তিনি আব্বার শশুর কিন্তু আপন ফুপুর হাজব্যন্ড তাই জামাইবেটার ছোট সংস্করণ বেটা ডাকতেন। বেটা মানে ছেলে,পুত্র।) আমি সব দেখছি আপনি ঘরে যান। পরে কিভাবে মাথা বেরুলো মনে নাই কারন মিন্টুমামার পিসুই আমাদের পরবর্তী ইস্যু, সেটা মনে রাখাই আমাদের জন্য জরুরী। কারন মিন্টুমামা আমাদের ভয়ানক জ্বালান।পচা গন্ধের একটা পাতা মুচড়ে মুঠি তে নিয়ে দিনমান আমাদের দাবড়ান। ধরতে না পারলে পায়ের স্যান্ডেল পা দিয়েই নিশানা করে ছোড়েন সোজা গায়ে এসে লাগে। আমরা মামার এহেন অপমানে বেজায় খুশী। কিন্তু পরদিন থেকে মিন্টুমামা এতো চুপ হলেন যে, নানাবাড়ি জলীয় হয়ে গেলো। কিন্তু মজার কথা কাজের মেয়েটা বলেই যাচ্ছিল সে ভুত দেখেছে, ভুতের এতখানিখানি দাঁত! ভুত কয় মাও মাও।হিহিহি। আজও আমি সেই চাঁদনি রাতে একা একা ওই গোসাইবাড়ির মাঠে,ভৌতিক মাঠে ঘুরে বেড়াই। জানিস বছর পাঁচেক আগে গোঁসাই বাড়ি গেলাম।সেই বিশাল মাঠটিকে আর বিশাল মনে হল না।তবে কি আমি বিশাল হয়ে গেছি? আমি চাই আমার চোখে যা যা বিশাল, সব যেনো আগের ইমেজে,দেহে,আকৃতিতে বিশাল থাকে।

ছবি: লেখক সৌজন্যে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com