ছোট্ট একটি না অনেক কিছুর সমাধান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

কনকচাঁপা জীবনে যথাযথ সময়ে সুন্দর করে না বলতে পারা একটি জরুরি এবং সুন্দর অভ্যাস। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে আমরা খুব কম সময়ই তা বলতে পারি। ছোট বেলায় দেখেছি আম্মা পেশাদার ভাবেই উলের সোয়েটার সেলাই করতেন। সেই সেলাই গুলোর অর্ডার নিয়ে আসতেন একটা সমিতির মাধ্যমে। ওই সমিতির বড় আপা মাহেনুর বেগম। আম্মার মাহেনুর আপা। সেলাই জমা দেয়ার কাজে হঠাৎ করেই আম্মার ওনার বাসায় যাওয়া দরকার হল।

আমার বাবা-মা

রাত বাজে আটটা। আব্বা, আম্মা ও আমাকে এগিয়ে দিয়ে আসলেন ওই বাসায়। বাসাটা এমন জায়গায় যে সেখানে রিক্সা যায়না। যাইহোক আব্বা বললেন রাত দশটার দিকে আমি আবার এখানেই থাকবো। আম্মা ও রাজি হলেন। আমরা গেলাম মাহেনুর আন্টির বাসায়, আংকেল জিজ্ঞাসা করলেন মোর্শেদ সাহেব কোথায়? আম্মা আব্বার কথা অনুযায়ী বললেন উনি একটু বাইরে!কাজকর্ম সেলাই ফোড়াই চা নাশতার পর আমরা যখন আবার ফিরে আসছি আংকেল বললেন চলেন আপা আমি এগিয়ে দিয়ে আসি। আম্মা যতই না করেন উনি ততই বলেন না না এই রাস্তা অন্ধকার, আমি এগিয়ে দিয়ে আসি। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে! আম্মা কেন বলছেন না আব্বা আমাদের নিতে আসবেন! আমি যদিও চটপট কথা বলি, কিন্তু আমি একটু ঘাবড়ে গিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখলাম। আংকেল আমাদের অন্য একটা রাস্তায় হাঁটাপথে বাসায় পৌঁছে দিলেন। বাসায় এসে দেখি আব্বা নাই। আম্মা এখন অস্থির হয়ে গেলেন। প্রায় রাত এগারোটায় আব্বা বাসায় এলেন। যথারীতি চাপাস্বরে ঝগড়া শুরু হল। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করতে লাগলেন। আব্বা আম্মার প্রেম ভালবাসা সারা পাড়ায় প্রসিদ্ধ ছিল। ঝগড়া হতোই না বলা যায়। সেখানে কিছু বাকবিতণ্ডা হলে আমরা অস্থির হয়ে যেতাম। আমি একদম কান্নায় ভেংগে পড়তাম!

আম্মা বলছেন আমি কিছুতেই বলতে পারিনি যে তুমি নিতে আসবে কারণ তুমি আমাকে বলতে বলেছো যে, তুমি বাসায় নেই। আব্বা বলছেন, তাই বলে আমি তোমাদের আনতে যেতে পারিনা? আম্মা বলছেন আমি কিছুতেই বলতে পারছিলাম না যে তুমি ওনার বাসায় গেলে না অথচ আমাদের আনতে ওনার বাসার রাস্তার সামনে দাড়িয়ে থাকবে। আব্বা বললেন, যখন দেখলে তুমি উনি তোমার সঙ্গে অন্য রাস্তায় আসছেন তখন ব্যপার টা খোলাসা করতে! আম্মা বলছেন আমি আর কিছুই বলতে পারিনি। আমি এখনো ভাবি ওই দিন দুটো কথা এই অনর্থক ভুল বোঝাবুঝি থেকে দুরে রাখতে পারতো। সেটা হল আংকেল যখন বললেন মোর্শেদ সাহেব আসলেন না? তখন আম্মার বলা উচিৎ ছিল যে না ভাই উনি এখন আসতে পারেননি, আর যখন এগিয়ে দিচ্ছিলেন তখন ছোট্ট একটা না শব্দ আম্মাকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারতো। আম্মা যদি বলতেন ভাই আপনাকে এগিয়ে দিতে হবে না, আপনার ভাই আমাদের নিতে আসবে তাহলেই ঝামেলা মিটে যায়! কি এক অস্বস্তিতে আম্মা কথাটা বলতে পারলেন না বিধায় এই ভুল বোঝাবুঝি। ছোট্ট একটি গল্প আমার মনে দাগ কেটে রইলো। তখন থেকেই আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে যথাসময়ে ছোট্ট একটি না অনেক শক্তিশালী!

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com