চার্লস-ডায়নার চিঠি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চিঠি বিখ্যাত হয়ে ওঠে পত্রলেখকের কারণে। চিঠি যুগের অবসান ঘটেছে এই পৃথিবীতে। এখন মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা আর ই-মেইলের আগ্রাসী সময়। কিন্তু তারপরেও কোন কোন চিঠি হঠাৎ করেই আলোড়ন তোলে। অনেককাল আড়ালে থাকা সেসব চিঠি কখনো নিলাম ঘরে চলে যায়। সেসব নিয়ে চলে দর হাঁকাহাঁকি। চিঠি হয়ে ওঠে প্রবল সংবাদ। সম্প্রতি এরকম কয়েকটি চিঠি ইংল্যান্ডে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। সেখানকার ডমিনিক উইন্টার অকশনারি নামে একটি নিলাম ঘরে এই চিঠিগুলো নিলামের জন্য তোলা হয়েছে। চিঠির লেখক ইংল্যান্ডের প্রিন্স চার্লস ও তার প্রয়াত স্ত্রী প্রিন্সেস ডায়নার লেখা।
১৯৯২ সালের জুন মাসে এরকম একটি চিঠিতে চার্লস লিখেছেন-আমার মৃত্যুর পর তারা হয়তো বুঝতে পারবে আমি কী করতে চেয়েছিলাম।
আরেকটি চিঠিতে মনের ক্ষোভ আর কষ্ট প্রকাশ করে এই যুবরাজ লিখেছেন-এতো ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে বেঁচে থাকাটাই বড় কষ্টের।
প্রিন্স চার্লস চিঠিগুলো পাঠিয়েছিলেন তার এবং ডায়নার কাছের বন্ধু ইন্টেরিয়ার ডিজাইনার ডাডলি পোপলাককে। তারিখ দেখে বোঝা যায় চিঠি লেখার ঠিক দুদিন আগে বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর এই রাজকীয় বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নিলামে ওঠা চার্লসের লেখা বাকী চারটা চিঠি তিনি লিখেছিলেন বন্ধু রাসেল স্মিথকে। সেসব চিঠিতে অবশ্য আধুনিক স্থাপত্যকলার বিরুদ্ধে তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন। খামের গায়ে তারিখ লেখা আছে  ১০ নভেম্বর ডিসেম্বর ১৯৮৮ সাল।
এক ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত প্রিন্সেস ডায়নার চিঠির সঙ্গে নিলাম ঘরে একজোড়া জুতাও হাজির করা হয়েছে। ডায়না উনিশ বছর বয়সে চামড়ার এই জুতা ব্যবহার করেছেন। জুতার সঙ্গে আছে তাঁর লেখা চিঠি। রাজকুমারীর চিঠি আর ব্যবহৃত জুতা নিয়েও ক্রেতাদের মাঝে বিপুল আগ্রহ তৈরী হয়েছে।
ডায়না চিঠি লিখেছিলেন ১৯৯২ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে। সময়টা তাদের রাজকীয় বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রেক্ষাপট। চিঠিতে ডায়না তাদের সেই বন্ধু মিস্টার পোপলাককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাকে দর্শন শাস্ত্রের বই পাঠানোর জন্য। চিঠিতে তিনি লিখেছেন-আমি গত কয়েক বছর ধরে মেডিটেশনের অদ্ভূত উপকারিতা পাচ্ছি। আমি এখন অনুসরণ করছি ফরাসী দার্শনিক ওরাম মিখাইল আইভানহভের চিন্তাধারা। এই দার্শনিকের অসাধারণ সুন্দর চিন্তা আমাকে শক্তি জোগাচ্ছে।
ওরাম আইভানহভ ছিলেন বুলগেরিয়ার অধিবাসী। তার দর্শনের মূল কথাই হলো,সুন্দর জীবনধারা অর্জন করতে হলে মানুষের আদর্শিক জায়গাটা অনেক শক্ত হতে হবে।
লিলাম ঘরের কর্তারা জানিয়েছেন, প্রিন্সেস ডায়নার লেখা এ ধরণের আবেগপূর্ণ চিঠি তাদের কাছে আরো রয়েছে। চিঠিগুলো ডায়নার ভেঙ্গে যাওয়া দাম্পত্য জীবনের অস্থির সময়ের ছবি।

সূত্র: বিবিসি কালচার

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com