চলে গেলেন নায়করাজ রাজ্জাক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জীবনের শ্যুটিংয়ে যেন প্যাক-আপ ঘোষিত হলো। নিভে গেলো পাদপ্রদীপের আলো। শেষ অঙ্কে পর্দা নামলো এক বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর। চলে গেলেন নায়করাজ রাজ্জাক, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনয় শিল্পী। কিছুক্ষণ আগে আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আজ বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা অভিনেতা রাজ্জাককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজিস্ট ডা. মমিনুজ্জামানের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতালে আনার পর তাঁর স্পন্দন, রক্তচাপ কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।নেমে আসে বর্ণাঢ্য এক জীবনের ওপর যতিচিহ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নায়করাজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

গত কিছুদিন ধরে নিউমনিয়া ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন এই শিল্পী। তাঁর মেজ ছেলে বাপ্পি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর তাঁর শেষকৃত্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর অভিনয় দক্ষতায় দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের এক প্রধান অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রাজ্জাক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ এক কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।তিনি

১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় আসেন। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে “ঘরোয়া” নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের চোখে পড়েন। পরবর্তীতে ‘কার বউ’ ‘ডাক বাবু’, ‘আখেরী স্টেশন’-সহ আরও বেশ ক’টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ‘বেহুলা’ ছবিটি তাকে নায়কের আসনে অধিষ্ঠিত করে। তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।

নায়করাজ রাজ্জাক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন বেশ কয়েকবার। এ ছাড়া একমাত্র অভিনেতা হিসেবে তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com