চলে গেলেন অপরাজেয় বাংলার আবদুল্লাহ খালিদ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন ‘অপরাজেয় বাংলা’ নামে ভাস্কর্যটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র জীবনেই সাংবাদিকতার সূত্র ধরে ভাস্কর্য শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে প্রথম্ ‍সময়টা আশির দশকের গোড়ার দিকে। অপরাজেয় বাংলার সংস্কার কাজ করছিলেন তিনি। তৎকালীন কর্মস্থল সাপ্তাহিক বিচিত্রার অফিস থেকে আমাকে বলা হলো এই অসাধারণ শিল্পকর্ম এবং শিল্পীর ওপর একটা রিপোর্ট করতে। সেদিন মনে আছে, দুপুরের রোদ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিল্পীর সঙ্গে ভাস্কর্যের পাদদেশে দাঁড়িয়েই অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকার অথবা কথাবার্তার কিছুই এখন আর মনে নেই। কিন্তু মনের মধ্যে এক ধরণের অহংকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘অপরাজেয় বাংলা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যেই বোধ করি এই অহংকারটুকু আছে। সেইসঙ্গে গভীর শ্রদ্ধা আছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, তারুণ্যের প্রবল বিদ্রোহ খচিত ভাস্কর্যের স্রষ্টা আবদুল্লাহ খালিদের জন্য।

চলে গেলেন খালিদ ভাই।বাংলাদেশের একজন স্বনামখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী। শিল্পকলা ও ভাস্কর্যে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন আবদুল্লাহ খালিদ। গত ১০ মে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শনিবার রাত পৌনে ১২টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আব্দুল্লাহ খালিদ সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে চিত্রাংকন বিষয়ে স্নাতক এবং পরে ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রাংকন ও ভাস্কর্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

আবদুল্লাহ খালিদ তার কর্মজীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭২ সালে সেখানকার লেকচারার থাকাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর উদ্যোগে কলা ভবনের সামনে নির্মিতব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক অপরাজেয় বাংলার নির্মাণের দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং ১৯৭৯ সালে ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ করার পর এটির উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাস উঠে এসেছে এই ভাস্কর্যে।

এই ভাস্কর্যটি আমাদের কাছে আজো এক বিদ্রোহের প্রতীক। তারুণ্যের প্রতীক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা গোটা বাংলাদেশের বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে থাকুক, বাংলাদেশের মানুষের মাথা তুলে দাঁড়াবার কথা বলুক। আমরা যেন এই মহান শিল্প এবং তার স্রষ্টাকে এভাবেই মনে রাখি সারা জীবন।

ইরাজ আহমেদ

ছবিঃ গুগল

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com