চট্টগ্রাম অজিদের জন্য আরও ভয়ংকর হবে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীমঃ ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ১৯৮৮ সালে অ্যালেন বোর্ডারের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলকে টেস্ট ইতিহাসে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল । সে সময় পাঁচ বছরে ৪৩ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া মাত্র আটটা জিতেছিল। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ হারের পাশাপাশি সেই একই দলগুলোর বিপক্ষে তারা হেরেছে ঘরের মাঠেও। আর তাই ১৯৮৮ সালের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া নেমে গিয়েছিল টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে। ২৯ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে সেটাই ছিল সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কিং।

বর্তমান অষ্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরের পূর্ব মূহুর্তে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে চারে নেমে যায়। ১৯৮৮ সালের জুলাইয়ে সেই পতনের পরের মাসেই অস্ট্রেলিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে উঠে এসেছিল। ঢাকা টেষ্ট হেরে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে অস্টেলিয়ার অবস্থান আবারও এখন পাঁচ। ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া চট্রগ্রাম টেষ্ট ওয়ার্নার-স্মিথদের জন্য সেই পতন ছুঁয়ে ফেলার চোখ-রাঙানি  চট্টগ্রাম টেস্টে। হারলে তারা নেমে যাবে র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে। জিতলে যে উন্নতি ঘটবে, তা নয়। চট্টগ্রাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জিতুক কিংবা ড্র করুক, র‍্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে তাদের।

স্মিথরা এখান থেকে আশা খুঁজে নিতেই পারেন। দলটার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও চট্রগ্রাম টেষ্ট আশা জোগাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের। সর্বশেষ চার টেস্ট সিরিজের মাত্র একটাতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারের পর ঘরের মাঠে তারা হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও সর্বশেষ ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হেরেছে স্মিথের দল।

চলতি সিরিজেও পিছিয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া বেশ চাপে থাকছে । এমনিতেই প্রথম টেস্টে হার, তার উপরে অতিরিক্ত চাপ । পাশাপাশি দলের ব্যাটসম্যানদের অফফর্ম। অজি দলের ওয়ানডাউনে রানের দেখা পাননি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান উসমান খাওয়াজা। মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই ১ রান করে করেছেন তিনি। দলের এছাড়াও দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েডের ব্যাট থেকে দুই ইনিংসে মোট ৯ রান। অজি কোচ ড্যারেন লেহম্যান সরাসরি কিছু না জানালেও দলের পরিবর্তনের আভাস দেন ঢাকা ছাড়ার আগেই। উসমান খাওয়াজার চট্রগ্রাম টেষ্টে জায়গা হলেও , ম্যাথু ওয়েডের জায়গা হারানোর সম্ভাবনা বেশি আর সেক্ষেত্রে কিপিংয়ে দেখা যাবে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে। দলে ওয়েডের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তী ক্রিকেটার অ্যালান বোর্ডারও।

অন্যদিক ঈদের একদিন পরই চট্রগ্রাম টেষ্ট শুরু হওয়ায় ঈদের দিন নামাজ শেষে টাইগারা অনুশীলনে ব্যাস্ত ছিলেন। দলের সাথে যেতে না পারা সিনিয়র খেলোয়াড়াও পৌঁছেছেন  চট্রগ্রামে ঈদের দিন।  যদিও  চট্রগ্রামের বৃষ্টি এখন পর্যন্ত কোন অসুবিধার কারন হয়ে দাঁড়ায়নি। সুনীল যোশী বাংলাদেশে এসেছেন টেস্ট শুরুর মাত্র ৫ দিন আগে। এর মধ্যেই  বাংলাদেশের স্পিনারদের এমন একটা অস্ত্র বাতলে দিয়েছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা বুঝে উঠতে পারছেন না। বলা যায় বাংলাদেশের স্পিনারদের ‘গোপন অস্ত্রে’ নাকাল অস্ট্রেলিয়া । চট্রগ্রাম অজিদের জন্য আরও ভয়ংকর হবে বলে মনে করছেন সুনীল যোশী। সাম্প্রতিক ভারত সফরে অজি ব্যাটসম্যানদের দূর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন যোশী। সেটাই কাজে লাগিয়ে অজিদের বিপক্ষে সিরিজ জেতাতে তিনি টাইগার স্পিনারদের সাথে আরও কিছু নতুন টিপস নিয়ে কাজ করছেন। সুনীল যোশী বিষয়টা নিজে স্বীকার করলেও এর বেশি কিছু সিরিজ শেষের আগে ফাঁস করতে নারাজ তিনি।

ছবিঃ ইএসপিএন

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com