গানই আমার প্রাণ, কিন্তু আমি গানের প্রাণ হতে চাই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

কনকচাঁপা বাবা ও ওস্তাদজীর শেখানো বুলি আমি ভীষন ভাবে রপ্ত করে ফেলেছি, এমতাবস্থায় গানের প্রতি একটু অবহেলা চলে আসলো। বড় মামা আজিজুল বারী বলেন তোমার গানে কোথায় কি যেন হয়না, এই গানটি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর মত হয়না। আম্মা বলেন তোমরা এমন আবদার কিভাবে করো!! আব্বা ও কোথায় একটা অস্বস্তি নিয়ে মন ব্যাজার করে ঘোরেন! হয়েও হচ্ছেনা হয়েও হচ্ছেনা ভাব। অস্টম শ্রেণীতে খুব ভালো ফলাফল করে পাশ করলাম। মামা তার দেয়া কথা রাখলেন। একটি ক্যাসেট প্লেয়ার আমাকে কিনে দিলেন। সঙ্গে কিছু ক্যাসেট। আমি বাজাতেই থাকি বাজাতেই থাকি। আমার মন হৃদয় সব ভরে গেলো। আল্লাহ গো, গানে এতো প্রেম, কিভাবে সম্ভব! মৌচাক মার্কেট এর বড় ক্যাসেট এর দোকান থেকে গোলাম আলী, অনুপ জালোটা, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, লতা মুঙ্গেশকর, ভুপেন হাজারিকা এবং হৈমন্তী শুক্লা কিনে আনলাম। এবার আমি ভয় পেয়ে গেলাম।

লতা মুঙ্গেশকর

গানে এমন প্রেম!! গজল ভজন যেমন কঠিন তারচেয়ে ও কঠিন নির্লিপ্ত ভাবে প্রতিমা বন্দোপাধ্য্যের মত বলা , মিছে দোষ দিওনা আমায়, অথবা লতা মুঙ্গেশকরের রঙিলা বাঁশীতে কে ডাকে!!! এমন নির্লিপ্ত ভাবে এমন সত্যি কথা গানে কিভাবে বলে দিলো!! ডিসকো দিওয়ানের মত ইন্ডিপপ গানের মজাও আমার মন কেড়ে নিলো, গোলাম আলীর চুপকে চুপকে ও দারুন রোমাঞ্চিত করলো কিন্তু হৈমন্তী দিদি আমাকে একদম জানেই মেরে ফেললো!! মরি মরি মরি।চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে শুনে কেঁদে আকুল হয়ে গেলাম।ভেবেই পাচ্ছিলাম না আমাকে না বলে অসহায় করে পথের এপাশে কে এভাবে আমাকে ফেলে গেলো, সে এমন নিষ্ঠুর কিন্তু দরদী যে সে আমাকে মনে না রাখলেও আমি তাকে ভালবাসি। কিন্তু কে সে যাকে চিনিনা জানিনা, কিন্তু সে আমাকে আসলে নিয়েই চলে গেলো। কি অপূর্ব ভাবনার খোরাক, আমি এই পয়লা নিজেকে নিজের মত করে পেলাম এবং আমি নিজের দিকে তাকালাম। নিজেকেই ভালবেসে ফেললাম।সেই সঙ্গে দেখলাম শুধু মন না আমার দেহকেও আমি ভালবাসি, আমার দেহ আমার সঙ্গে কথা কইতে লাগলো। আমি লজ্জায় নিজের দিকে তাকাতে পারিনা।কি অজানা লজ্জা আমাকে ঘিরে ধরলো এবং আম্মা তা ধরে ফেললেন।

হৈমন্তী শুক্লা

আম্মা বললেন কি এক টেপরেকর্ডার কিনে দিলো নান্নু,গান শুনতে শুনতে মেয়ে আমার লাল হয়, নীল হয়,সবুজ হয়,কি কান্ড! পড়াশোনা এবার লাটে উঠবে বলে দিলাম। এই জন্যই এইসব গান বাজনা আমার পছন্দ না। এমন ঘ্যানঘ্যান উনি করছিলেন বটে তবে এই যে আমার গানে প্রান আসছিল না বলে ওস্তাদজী, বড় মামা, আব্বা যে অভিযোগ করছিলেন তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটা উপায় হওয়াতে আম্মা মনে মনে খুশিই হলেন।আর আমি? সত্যিকার বড় হয়ে উঠলাম। হৈমন্তী শুক্লা দিদি আমাকে বড় করে দিলেন এক গানে।আমি এভাবে ভাবতে থাকলাম যে গান আমার প্রান,কিন্তু আমি গানের প্রান হতে চাই,শুরু হয়ে গেলো এইসব বরেন্য শিল্পী দের সব কিছু গিলে ফেলে নিজের করে নেয়া।

আমি তা হয়তো পেরে উঠছিলাম, কারন আমি আমার আশেপাশের সবার চোখে গানের সে অন্তর্নিহিত প্রেম দেখতে পাচ্ছিলাম।এবার আমার চেষ্টা চলতে থাকলো গানের প্রেম হয়ে ওঠা। সে চেষ্টা আমার এখনো অব্যাহত ।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com