খেলা যখন ভয়ঙ্কর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘দ্য ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ গেম’। নিছক নির্দোষ কোন কম্পিউটার গেম? মোটেই নয়। এই খেলা দুনিয়াজুড়ে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের। ভয়ঙ্কর সব কাজের নির্দেশনা আসছে এই গেমের মাধ্যমে। আর তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে এইসব কিশোর-কিশোরীরা। কেউ কেটে ফেলছে হাতের শিরা, কেউ লাফ দিচ্ছে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ভীষণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভয়ঙ্কর খেলার প্রভাব। গত কিছুদিনে সেখানে বেশ কয়েক কিশোরের প্রাণ গেছে এই খেলা খেলতে খেলতে। বলা হচ্ছে ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ গেম’ এখন হয়ে উঠেছে ‘দ্য গেম অফ সুইসাইড’, আত্নহত্যার খেলা।

সামাজিক মাধ্যমে যেমন ঝড় উঠেছে এই খেলাটি নিয়ে তেমনি সতর্ক হয়ে উঠেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার। সামাজিক মাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনগুলোর কাছে পাঠানো হচ্ছে সতর্ক বার্তা। কিন্তু বন্ধ করা যাচ্ছে না এই মরণ-খেলা।

এই খেলাটি ইন্টারনেটে প্রচলিত আর দশটা সাধারণ ডাউনলোড করে নেয়া খেলার মতো নয়। গোপন গ্রুপের কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে খেলাটি। এর প্রথম উৎপত্তিস্থল রাশিয়ার একটি সোস্যাল সাইট ‘এফ-৫৭’ থেকে। ২০১৫ সালে এর শুরু।  এই খেলায় যারা অংশ নেবে তাদের পালন করতে হবে এডমিনেসট্রেটারের ৫০টি নির্দেশ। এই নির্দেশগুলো মারাত্নক ধরণের ক্ষতিকর। সেখানে কখনো বলা হচ্ছে নিজের শরীর ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ফেলতে, , একটি তিমি মাছের ছবি ছুরি দিয়ে কেটে নিজের হাতে আঁকতে, হরর মুভি দেখতে। এই ৫০টি নির্দেশ তালিকার শেষে থাকছে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়া অথবা সরাসরি আত্নহত্যা করার নির্দেশ।

এই ডেথ গেমের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাবিয়ে তুলেছে সমাজ গবেষক আর মনচিকিৎসকদের। সমাজে গভীর কোনো হতাশাই কী এ ধরণের একটি খেলা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার প্রধান কারণ? ভাবছেন তারা। তারা মনে করছেন চট জলদি জীবনের সব প্রত্যাশা পূরণ হয়ে যাওয়াতেই হয়তো কিশোর-কিশোরীদের কাছে জীবন হয়ে উঠেছে মারাত্নক একঘেয়ে। আর তাই তারা এরকম একটি খেলা নিয়ে মেতে উঠছে। নিজেদের নিরাপত্তার কথাও তাদের মাথায় আসছে না।

অনেকে আবার বলছেন, এই খেলাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে ইসলামী জঙ্গী সংগঠন আইএস‘র হাতও রয়েছে। বিশ্বজুড়ে তাদের সক্রিয় ওয়েবসাইটগুলো আড়াল থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এভাবে তারা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃত্যুর পরোয়ানা।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com