কেমন রেখেছে আলতাফের ঝিনু আর শাওনকে তাঁর বাংলাদেশ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লীনা পারভীন

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

আলতাফকে যদি কখনও পাই তাহলে জিজ্ঞেস করবো তুমি কার কাছে আমাদেরকে দিয়ে গিয়েছিলে? কখন দেখবে তোমার বাংলাদেশ? – সারা আরা মাহমুদ।

কথাগুলো একটি টিভি শোতে বলেছেন আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী।

সারা আরা মাহমুদ

আলতাফ মাহমুদকে টর্চার সেল থেকে যখন রমনা থানায় নেয়া হয় তখন তাঁর একটি আংটি একজনের কাছে দিয়ে বলেছিলেন আমিতো শাওন আর ওর মায়ের জন্য কিছু দিয়ে যেতে পারি নি, বাংলাদেশের কাছে দিয়ে গেলাম। বাংলাদেশ ওদেরকে দেখবে।

সেসব মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে দেখেছি কী আমরা আজকের এই বাংলাদেশ?

আজকে আমরা যারা এই প্রজন্ম খুব সহজেই মুক্তিযুদ্ধকে হালকা করে ফেলি। সহজেই বিভক্ত, বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি, সঠিক পথের সন্ধান পাই না। মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাই, সংসার, ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের জন্য যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতায় লিপ্ত হয়েছিলো তাদের পক্ষে সাফাই গাই, আপোষকারীদের জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে নেমে যাই তারা কী কখনও বিবেকের জায়গা থেকে প্রশ্ন করেছি তাহলে কেন আলতাফ মাহমুদেরা নিজেদের সুখের জীবন ত্যাগ করেছিলেন? কেন শাওনের মত হাজার লক্ষ শাওনদেরকে আজকে চোখের পানি ফেলে বলতে হয় তাঁর বাবা কী ছিলো? কেন আজকে সারা আরা মাহমুদকে প্রশ্ন করতে হয় কী দিয়েছে , কেমন রেখেছে আলতাফের ঝিনু আর শাওনকে তাঁর বাংলাদেশ?

আলতাফ মাহমুদ

ভাবি না। ভাবতে চাই না। বড় গলায় বিতর্ক করা, কাউকে দালাল বলা খুব সহজ কিন্তু চোখের সামনে নিজের পরিবারের কাউকে অবর্ণনীয় অত্যাচারের মুখে আপোষহীন থাকা সেসব যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য আপোষকামীদেরকে শ্রদ্ধায় রাখা তার চেয়েও ভয়াবহ কঠিন। আমি পারি না। জানি না কেন পারি না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমি আপোষের রাস্তা দেখি না। নিজের জান বাঁচানোর জন্য অন্যের সঙ্গে গাদ্দারী করা, দেশের সঙ্গে বেঈমানী করাকে আমি মানবিকতায় নিতে পারি না।

একজন আলতাফ আমাকে সেই অনুমতি দেয় না। আমি দুঃখিত। লজ্জিত আমি আলতাফের পরিবারের কাছে। ঝিনুর প্রশ্নের কোন উত্তর নেই আমার কাছে। আমি একজন অপরাধীর মত কেবল চোখের পানি ফেলে যেতে পারি, কষ্টে বুকের ভিতরের পাথরটাকে অনুভব করতে পারি কিন্তু আজকের বিভ্রান্তের প্রজন্মকে আমি চিনতে পারি না। পাশাপাশি একজন আলতাফ আর একজন খান আতা। আপনার কাছে কে শ্রদ্ধার? কে সম্মানের? কাকে আপনি গ্রহণ করবেন আর কাকে আপনি বর্জন করবেন? কাকে আপনি কেমন করে আপনার প্রজন্মকে চিনাবেন সে সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।

ঝিনু মা, আমার মত হাজারো, লক্ষ মানুষ আছে এখনও যারা দেশটাকে ভালোবেসে তোমাদের পাশে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছে। হয়তো সংখ্যায় কম। তবুও জেনো তোমরা একদম একা নও। আলতাফের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ ঠিক একদিন পথ খুঁজে পাবে। ঝিনু এবং শাওন, তোমাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com