এতগুলো বছর যেন হুস্ করেই চলে গেল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

২০০০ সনে রিনি

ফোনটা যখন বাজলো, ঘড়িতে তখন আড়াইটে.. দুপুর নয়, মধ্যরাত! ডাইনিং স্পেসে রাখা ফোন ঝনঝন করে বেজে উঠলো! বাড়ির তিনজনই জেগে তাই দৌড়ে গিয়ে ফোন ধরতে মিনিটখানেকের বেশি লাগলোওনা! ফোনের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত-গাড়ি পৌঁছে যাবে আর একটু পরেই, যেন তৈরি থাকি! সে আর বলতে, মোটামুটি তৈরি তো আমি কখন থেকে! সেই চক্করেই তো ঘুম হয়নি রাতে! মিনিট কুড়ি পরে, ঘুটঘুট্টে অন্ধকারে- সাদা অ্যাম্বাসাডরে উঠে আমি রওনা দিলাম আমার ভবিষ্যতের দিকে… যে ভবিষ্যৎ তখনও এক্কেবারে অজানা-অচেনা! কোনদিকে তা নিয়ে যাবে তা জানা নেই, আদৌ কোনও গন্তব্য তৈরি হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ… মনের মধ্যে অনেকটা উত্তেজনা আর দুরুদুরু ভয় নিয়ে প্রথমবার পা রাখলাম আমার কর্মজগতে! “খাসখবর”-এর অফিসে! তারিখটা ছিল ১লা ফেব্রুয়ারি; ২০০০ সাল! এতগুলো বছর যেন হুস্ করে চলে গেল! কখন গেল?! টের পেলাম না তো! ইউনিভার্সিটিতে এম.এ-র ক্লাস শেষ করেই তখন চলে যেতাম ‘খাসখবরের’ অফিস… প্রথম কাজ, প্রথম উপার্জন, প্রথম বড় হবার অনুভূতি! রোজ কত নতুন অভিজ্ঞতা! চোখ বড় বড় করে দেখি আর চেটেপুটে উপভোগ করি সবটুকু! মনে একটু আফশোস, বাবাই-মা খুশি নন তেমন! তাঁরা তো আজীবন ভেবে এসেছেন কন্যাকে দেখবেন কলেজে ছাত্রী পড়াতে! তাঁদের পড়ুয়া মেয়ের এ কি হল! পড়াশুনোর পাট চুকিয়ে এ কোন জগতে পা দিল সে! চাকরীজীবী মা-বাবাই সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় ভীত হন… কন্যা কিন্তু কি হবে ভবিষ্যতে – হিসেব করেনা, সে শুধু ভেসে চলে… সময়ে, অসময়ে….. ভাসতে ভাসতে একসময় সে কন্যা থেকে জায়া হয়, জননী হয়… তবুও তার সেই ভাসমান জীবন থামেনা… থামুক , সে তা চায়ও না…. সে সবকিছুতেই এখনও ভালো দেখতে চায়, বিশ্বাস করতে চায়-বিশ্বাস ভাঙার পরেও খানিকটা বিশ্বাস বেঁচে থাকে, থাকবেই….. সে প্রতিমুহূর্তে এখনও বিস্মিত হয়, যেমন হল খানিক আগে যখন তার কর্তামশাই (যিনি সর্বক্ষণ ‘বলেন কলেজ থার্ড ইয়ার শেষ করে এবার তো একটু বড় হও’ !!!!) অসাধারণ একটি লেখা পোস্ট করলেন এই ফেসবুকেই!!! এমনও হয়?! যিনি আপাত গম্ভীর, অভিভাবকসুলভ বকুনিই যাঁকে শোভা পায়, তিনি এত সুন্দর করে এই অধমকে নিয়েও ভাবেন!!!! লজ্জা পাওয়া আর থম্ মেরে থাকা ছাড়া যে কি বলে ধন্যবাদ দিতে হত, যথারীতি তা বোধগম্য হলনা! যেভাবে আজও বুঝে উঠতে পারলামনা কিভাবে তোমাদের-আপনাদের বলে উঠতে পারা যায় ‘সক্কলের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত, আকন্ঠ কৃতজ্ঞ…..শুধু ‘ ধন্যবাদ’ ব’লে শেষ করা যায় না এমন সম্পর্কের হিসেবনিকেশ… রিনি শুধু ঋণস্বীকার ক’রে আবারো নতজানু হতে পারে… আবারো বাড়ালাম দুহাত, সবার ভালোবাসা আঁজলাভরে নিতে…….. ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭!

ছবি: লেখক ও গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com