এটা আমার একান্তই নিজস্ব ধারণা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

রিপন ইমরান, সাংবাদিক

মাঝে মাঝে দুপুর রোদকে আরও চাঙা করার জন্যে স্রষ্টার তরফ থেকে দেবদূতেরা তরল তপ্ত সীসা গুলে রোদে মাখিয়ে দেন…এটা আমার একান্তই নিজস্ব ধারণা…আজ বোধহয় সেরকম একটা দিন…পান্থশালা ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে আমার এ বিশ্বাস আরো পাকাপোক্ত হলো…একটা পিকআপ এসে দাঁড়িয়েছে ঘাটের ঢালুতে…তার মানে এখানে ফেরি আছে…আসবে নিশ্চয়ই কোন এক সময়…ফেরির অপেক্ষায় না থেকে আশপাশটা একটু হেঁটে দেখি…

যা ভেবেছিলেম তাই…এই ঘাটটা আর কিছুদিনবাদেই আর এমন থাকবে না…একে মারবার সব ষড়যন্ত্র পাকা…একটা রিসোর্ট মতো বানানো হয়েছে নদীর ধার ঘেঁষে…সঙ্গে একটা মিনি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক…আবার বহুতল ডায়গনস্টিক সেন্টারের গাঁথুনিও পড়েছে…আর এগুলোর আশাপাশকে কেন্দ্র করে পটাপট নতুন রূপবান টিনের দোকান গড়ে উঠছে…আর কি চাই…হয়তো আগামী বৈশাখেই দেখবো…

থাক এসব যখন ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নেই…তার চেয়ে ভালো এক পিস তরমুজ কিনে খাওয়া যাক…প্রতি পিস পাঁচ টাকা…তরমুজের আড়তের মতো অনেক বড়ো একটা দোকান…বিক্রি বোধহয় কম…তাই পিস করেও বিক্রি করছে কাঁচের বাক্সে সাজিয়ে রেখে…এতো সরু করে তরমুজ কিভাবে কাটলো তা মাবুদই ভালো জানেন…তবে বেশ মিষ্টি…রসালো…এক পিছের জয়াগায় দু পিছ মেরে দিলাম…

এটা বোধহয় কারো নিকানো উঠান…একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন…এক টুকরো কাগজও পড়ে নেই…বিশ্বাস করানো কঠিন এটা একটা ফেরির মেঝে…ফেরিটা ছেড়ে দিয়েছে…ছোট্ট একটা ফেরি…ফেরিতে একটা মাত্র গাড়ি…ওই পিকআপ ভ্যানটা…আর দুটো ব্যাটারি দেয়া অটোরিক্সা উঠেছিলো ডিম বোঝাই…ওরা পটাপট ডিম নামিয়ে দিয়ে ফেরি ছাড়বার আগেই নেমে গেলো…তবে ডিম খালাসের সময় একটা ডিম আমার সামনেই গড়িয়ে পড়ে প্রাণ হারালো…দুপুর রোদে সারি সারি ডিম ফেরির এক কোনে সাজানো…কেউ ছুঁয়েও দেখছে না…

পান্থশালা

জনাকয়েক যাত্রীও উঠেছেন ফেরিতে…অধিকাংশই লোহার ব্রিজ বেয়ে ফেরির মাষ্টার ব্রিজের কাকঘরটাতে  খুব সিরিয়াস মুখ করে বসে রয়েছেন…ভাবখানা এমন তারা সবাই মিলে ফেরিটাকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন…ফেরির মাষ্টারের যথেষ্ট বয়েস হয়েছে…নদীর বাতাসে তার সাদা দাড়ি উড়ছে…আমি নীচ থেকে দাঁড়িয়েই দেখলাম…আমিসহ চারজন যাত্রী ছাউনির নীচে লোহার টানা বেঞ্চিতে…এর মধ্যে দুজন আবার নারী…নিজেদের মধ্যে কি নিয়ে রসিকতায় দুজনেই একসঙ্গে চনমন করে হেসে উঠলেন…নদীর হাওয়া বিড়ি ধরানোর জন্যে উস্কানিমূলক…তবে কাত হতেই চোখ গেলো ওখানটায়…

আরিব্বাস, এই ফেরিতে দেখি স্টাফ কেবিনটা অক্ষত আছে…দরজা ঠেলে উঁকি দিতেই…আম কাঠের ডাবল চৌকি….এলেমেলো বিছানো…দড়িতে ঝোলানো দুটো লুঙ্গি একটা চেক শার্ট…এক কোনায় পাতিলে রাখা সাদা ভাত…পাশেই ঢাকনাটা উল্টে পড়ে…তবে তরকারির কড়াইটা ঢাকা…তাই মেন্যুটা পুরোপুরি জানা হলো না…কেবিনে কোন ফ্যান নেই…বড়োসড় জানালা আছে…কেরোসিন স্টোভটা বেশ যত্ন নিয়ে ব্যবহার করা হয়…তা না হলে কেরোসিনের গন্ধটা নাকে লাগতো…

ফেরির প্রপেলারের আঘাতে নদীর ঘোলা জলে সাদা ফেনা…নদীটা একেবারে ছোট না…মাঝ নদীতে এসে তাই মনে হলো…অবশ্য জলের মাঝ থেকে কূল বরাবরই একটু বেশি দূরেই মনে হয়…অনিশ্চয়তার বিষয়টা তখন মাথায় কাজ করে কিনা…নদীর ঘোলা জলের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চট করে আলো ঝলমলে ফর্সা আকাশের দিকে তাকালে কয়েক সেকেন্ড মনে হয় আকাশে মেঘ জমেছে…বিষয়টা ভারী মজার…

ঘাট চলে এসেছে কাছাকাছি…কেউ ভাড়া চাইতে এলো না…এ যুগে এমন হয়…ফ্রিতে নদী পারাপার…সরকার বাহাদুর দেখি এখানে পুরোটাই জনগনের সেবায় নিজেদের…

সত্যিই আজ শুধু অবাক হবার দিন…প্রায় নিঃশব্দেই ঘাটে ভিড়েলো ফেরিটা…তবে লোহায় ঠোকাঠুকি হতেই হালকা কেঁপে উঠলো…অনেকটা বোবা প্রাণীর গায়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিলে ওরা যেমন করে শরীরের ওই অংশটুকু শুধু কাঁপায়…এটাও অনেকটা সেরকম…

আচ্ছা এবার তা হলে নামা

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com