এক আকাশের নিচে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

সুলতানা রহমান পুতুল

হাশরের ময়দানে খোলা আকাশের নিচে নারী পুরুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে। সৃষ্টিকর্তার শেষ বিচারের রায়ের অপেক্ষায় তারা। কে নারী কে পুরুষ কারো মনে জাগবে না এ প্রশ্ন। সবারই তখন ইয়ানফসি ইয়ানফসি। কেমন হতে পারে সেই ময়দান তার কিছু বর্ননা ধর্মগ্রন্থে আছে। জীবনে প্রথম নিউ ইয়র্কেরখোলা ময়দানে ঈদের নামাজে দাড়িয়ে হাশরের ময়দানের অনুভূতি পেলাম!
নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়, প্রায় ১০/১২ হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। উন্মুক্ত প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে এক সঙ্গে, এতো মানুষের সঙ্গে একই রীতিতে এক সৃষ্টিকর্তার প্রতি সন্তুষ্ঠি আদায় পুরুষদের কাছে হয়তো তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নয়, কারন ছোটবেলা থেকেই তারা এর মধ্য দিয়েই বড় হয়। আর আমার বাংলাদেশের অধিকাংশ মেয়ের জীবনে এই অভিজ্ঞতা বিরল। তাই অনুভূতিও ভিন্ন এবং স্মরনীয়। 
মেয়ে হওয়ার কারনে ছোটবেলায় কোনোদিন ঈদের নামাজ পড়তে পারিনি। ঈদের নামাজ কেমন তা-ই জানতে পারিনি কোনোদিন। শুধু শুনতাম মেয়েরা ঈদের নামাজ পড়েনা। ‘না’ এর মধ্যে বড় হওয়া মেয়ে জীবনে সব না-ই মেনে নিতে হয়। বড় হয়ে সাংবাদিকতার সুযোগে ঈদের নামাজ কাভার করার উসিলায় ঈদগা যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেছি অনেক বার। মেয়ে হওয়ার কারনে অফিস রাজি হয়নি। এনটিভিতে থাকতে একবার ঈদের নামাজ কাভার করতে চাওয়ায় আমার প্রিয় বার্তা সম্পাদক চাকরি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেন। বাংলাদেশ নাকি অত আধুনিক হয়নি যে মেয়ে রিপোর্টার ঈদের নামাজ কাভার করবে আর তা সাচ্চা মুসলমানরা মেনে নেবে! এরচে বার্তা সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেয়া ভালো! কি আর করা। বস ইজ অলয়েজ রাইট। এরপর মাছরাঙা টেলিভিশনে কাজ করার সময় একই আগ্রহ প্রকাশ করেছি। সেখানকার প্রিয় প্রধান বার্তা সম্পাদক বললেন-আপনি নিজে যখন সিএনই হবেন তখন সব ইচ্ছা পূরন করেন। আমি এ ঝুকি নিতে পারবো না।’ যথাজ্ঞা। এই দুইজন বার্তা সম্পাদক প্রগতিশীল। তারা এই সামান্য সাহসটুকু না রাখলে আর কেইবা রাখবে! ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে আমি যখন এসাইনমেন্ট এডিটর হলাম তখন একজন মেয়ে রিপোর্টারকে পাঠিয়েছিলাম বায়তুল মোকাররমে, ঈদের নামাজ কাভার করতে। সে শুধু মেয়েদের নামাজ নিয়ে রিপোর্ট করেছিলো। আজ টাইম টেলিভিশনে আমি করলাম প্রায় এক ঘন্টা লাইভ। ইমাম থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটির শীর্ষ ব্যক্তি, খেটে খাওয়া সাধারন প্রবাসী বাংলাদেশী, ভিন্ন ধর্মের কাউন্সিল ম্যান-সবাই ছিলেন এতে। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশীরা বর্তমান বাংলাদেশের মানুষদের চেয়ে বেশি রক্ষনশীল, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি গোড়া কট্টর বলে আমার মনে হয়। তবু সবাই যেভাবে সহযোগীতা করেছেন তা অসাধারন। টাইম টেলিভিশনকে ধন্যবাদ। সিইও তাহের ভাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com