উপাসনার আসল তৃপ্তিই রমাজান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ। আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো। আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শাওনেওয়াজ কাকলী

পড়ন্ত দুপুরে,যে টুং টুং শব্দটা হতো সেটার অপেক্ষা ছিল রমজানের বিশেষ আকর্ষন। ১ টাকায় ৮ টা বরফ। কে আগে দৌড়ে সে বরফ আনতে পারে? আহা কি প্রতিযোগীটাই না ছোট রোজা পেটে। আম্মার শাড়ির আঁচলে বাঁধা থাকতো খুচরো পয়সা/ টাকা। সুদুরে শোনা যায় বরফওয়ালার আগমনের শব্দ,আঁচলের গিট খুলে টাকা নিয়ে দৌড়- ব্রিজ পেরিয়ে কত আঁকাবাঁকা মোড়ে খোঁজাখুঁজি আইসক্রিম ওয়ালাকে, কোনদিকে যে সে ? মাঝে মাঝে আওয়াজ বিভ্রমও হতো বটে।

আহ কি ঠাণ্ডা ! দুটো ছোট হাত বরফে লেগে আসতো, তবুও কষ্ট হতো না। মুখে একটা অপরাজয়ের হাসি। দাঁত দিয়ে প্যাকেট খুলে দিয়েও সাহায্য করেছি বড়দের,বাহাদুর বাচ্চা। মাঝে মাঝে রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ও দেখাত,বার বার হাত দিয়ে মুখ মুছে শুকনো করে ফেলতাম যাতে এক বিন্দু জল না থাকে ঠোঁটে।
লেবু চিপা হচ্ছে বড় পাত্রে সঙ্গে চিনি, কখনো কখনো রুহয়াব্জা, অরেঞ্জজুস মিশানো হয়েছে। বড় চামচ দিয়ে নাড়লে বরফগুলোর খট খট শব্দ হতো। দু-একবার নাড়ার সুযোগ চেয়ে নিতাম। কখন খাবো এই ঠাণ্ডা লেবুজল ?

আসরের আজানের পর, ওজু করে ফ্রক জামার সঙ্গে মাথায় একটা বড়দের বড় ওড়না। তারপর অপেক্ষার পালা। আর যে সময় কাটে না। আজান না দিলে নাকি খাওয়া যাবেনা। তাহলে যে এগুলো আজান দেয় ? কত প্রশ্ন ছোট পেটে রোজা তো ! মন ভুলানোর জন্য শেখান হতো ছোট ছোট সুরা, হাদিস, ইসলামের গল্প। কোন কঠোর ভয়, অন্ধবিশ্বাসের কিংবা আজাবের গল্প নয়। বরং পারিবারিক আনন্দের সঙ্গে ইসলামের পথে যাত্রা হতো রমজানমাসেই।
বুটভাজা,পেয়াজু ভাজি, বেগুনি,আলুরচপ, শশা, কলা,তরমুজ, আম, খই, চিড়া, মুড়ি, সেমাই, পিঠা,রুটি একেকদিন একেক আয়োজন। (যদিও এখন ভাজাভাজি খাবারে দ্বিমত পোষন করি ) এতো খাবার হচ্ছে কিন্তু আজান তো পড়েনা। ক্ষুধা নিবারণের সহজ বুদ্ধি- বড়রা বাগিয়ে বাগিয়ে কাজ করে নিত। ওই ভাজাপোড়া ইফতারগুলো টেবিলে নিয়ে রাখা। গ্লাস/ প্লেট টেবিলে সাজানো। তরমুজ/ শশা কাটার ছুরিটা সাবধানে ধুয়ে এনে দিতাম, খেজুর ধুয়ে আনা এমন অনেক কাজ। বেশ সময় কেটে যেতো কাজে কাজে। ইফতারের ৩০/৪০ মিনিট পুর্বে সাজানো হতো এক এক করে সবার প্লেট। খুব নজরদারি চলছে ছোট চোখে; কোন প্লেটে কি পরেনি ? এই প্লেটে শশা নেই, খেজুর নেই, কিংবা পেয়াজু-বুট স্বচিৎকারে একটা শুন্যস্থান পূরণ করা মানে বিশাল ছওয়াবের কাজটা যেন আমিই করে ফেললাম।
আম্মা বলতেন, ইফতার সামনে নিয়ে বসে থাকা সবচেয়ে সম্মানের ও ছোয়াবের, অন্তত দশ-পনেরো মিনিট। কী শাস্তি !
শেষ দশ মিনিট হাত রাখি, সেই বরফগোলা মিষ্টি পানীয় গ্লাসে। হাত বেয়ে ঠান্ডা উঠে আসে মস্তিস্কের প্রতিটি কোষে। সেই কোষগুলো সেখান থেকে ধর্মের পথ ধরে শিখায় -ধৈর্য্য,শান্তি, পাপ-পূর্ণ্য, লোভ-ক্ষতি, ন্যায়-অন্যায় কত কিছু।
পরিশেষে, সাইরেন বাজলো ! আহ! শরবত…,
না, খাওয়া যাবেনা। আজান শুনতে হবে কানে। ওফফফ !
আজানো হলো।
তাও না। ইফতার ভঙ্গের সুরা পড়তে হবে। কিন্তু আমি যে পারিনা। তাহলে কি এই রোজা কোনোদিন ভাঙবে না সুরা না শিখা অবধি।
আম্মা দ্রুত বাংলায় শিখিয়ে দিল- বল, ” হে আল্লাহ আমি তোমার নামে আজ যে রোজা রেখেছি তুমি তা কবুল কর। এই পবিত্র রমজান মাসে আমাদের সব গুনা মাফ করে দিও। ” বিসমিল্লাহের রাহমানের রাহিম বলে টুং টাং বরফগলা ঠাণ্ডা মিষ্ট পানিয়তে চুমুক দেই। আহা কী শান্তি ! উপাসনার আসল তৃপ্তিই তো রমাজান।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com