আহা! হারানো কৈশোরকাল!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

কাজী তাহমিনা

ভোরবেলার দিকে কেমন একটা ভ্যাপসা গরম জেঁকে ধরে চারপাশ, ঘরের ভেতরে,মানে মশারীর ভেতরে-অস্থির লাগে। ঘুম ভেঙ্গে বারান্দায় যেতেই মন ভালো করা সবুজের হাসি দেখলাম। একগাদা কুমড়াগাছ মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে তাদের মানুষ মাকে অভিবাদন জানালো যেন! ছোট্টছোট্ট বেলকুঁড়ির ঝাঁক বেশ সায় জানালো তাদের। সবচেয়ে উচ্ছসিত নিমপাতাদল।
তাদের উদ্বেলিত হাসিমুখ গতরাত্রির ফিরে আসা কৈশোরকাল মনে করিয়ে দিলো। গিয়েছিলাম স্কুলের বন্ধু গৌরীর শুভ বিবাহ অনুষ্ঠান দেখতে, ঢাকেশ্বরী মন্দির। গৌরী আমার স্কুলের বাংলা আপা চীরবালা আপার মেয়ে। চীরবালা আপা হচ্ছেন সেই মানুষদের একজন, যিনি আমার অস্থির কৈশোরকালে স্নেহ আর মমতার পাখা মেলে দিয়েছিলেন।

কাল দেখা হলো, দীর্ঘ উনিশ বছর পরে- ইংরেজির শিক্ষক প্রিয় রঞ্জিত স্যারের সঙ্গে, যাকে দেখে ক্লাস নাইনেই, আব্বুর আমাকে ডাক্তার বানানোর প্রকল্পে জল ঢেলে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম- ইংরেজি সাহিত্যই পড়বো আর শিক্ষকই হবো।
দেখা হলো, শিল্পী স্যারের সাথে-সেই ‘শিল্পী স্যার’-যার ঝাঁকড়া চুল আর চমৎকার আঁকার হাত আর নায়কোচিত চালচলন আর আরো চমৎকার কথাবার্তার জন্য প্রতি ক্লাসেই দুইচারজন স্যারের জন্য ফিদা হয়ে যেতো, আর ঘ্যানরঘ্যানর করে আমাদের কানের পোকা নড়িয়ে দিতো!
দেখা হলো, তনু স্যারের সঙ্গে।কত কি মনে পড়ে গেলো! প্রতি ২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর আসার একমাস আগে থেকে, স্যারের নেতৃত্বে আমাদের মাসখানেকের পিটি প্যারেড, ডিসপ্লে, অভিনয় প্রস্তুতি আর হৈ হৈ রৈরৈ করে বয়েজ স্কুলকে হারিয়ে আমাদের ফার্স্ট হওয়ার স্মৃতি। আহা!কিসব দিন!

ছোট্ট মফস্বল শহরে থাকায়, আমরা ভাইবোনেরা ছিলাম বেশ কিংবদন্তী। তিন ক্লাসে তিনজন ফার্স্ট ছিলাম আর সেকেন্ডরা ছিলো আমাদের চেয়ে, নাম্বারের দিক দিয়ে- বহুদূরে। সব প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠান -যাই হতোনা কেন, আমরা মোটামুটি সবকিছুতে পুরস্কার বাগিয়ে নিয়ে চলে আসতাম। আর ‘আব্বুর’ প্রায় ঋষিতুল্য, নির্ঘুষ, পাগলাটে জীবন আচরণের কারণেও সেই ছোট্ট মফস্বল শহরটাতে আমরা পরিচিত মুখ ছিলাম!

কি স্নেহটাই না পেয়েছি আমরা, শিক্ষকদের কাছ থেকে। তারা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে এতোটাই উঁচুতে তুলে দিয়েছিলেন, যেন চাইলেই আকাশ ছুঁতে পারি আমরা! কত বড় বড় স্বপ্ন দেখতাম তখন!

সেইসব দিন ফিরে এলো এক ঝটকায়- উনিশ/বিশ বছরের দূরত্বে দাঁড়িয়ে ও আমার শিক্ষকরা নিমেষে, সেই ছোটবেলার আন্তরিকতার, স্নেহের ঝাঁপি খুলে দিলেন আর আমি ফিরে গেলাম আহা, সেইসব সুখের বাড়ি, যখন জীবন ছিল সহজ সুঘ্রাণ আর অনন্ত স্বপ্নের!

পুস্প আপা, জাহাঙ্গীর স্যার, এমনকি চব্বিশ বছর পর প্রাইমারী স্কুলের মুকুল স্যারকেও দেখেও, কি যে আনন্দ হলো! তারপর থেকে একটা আনন্দের ছোট্ট ধারা বুকের ভেতর বয়ে যাচ্ছে তিরতির করে!

আহা! শরীয়তপুর!
আহা! আমার স্কুল!
আহা! আমার স্যার আর আপারা, যারা আমাকে জীবন শিখিয়েছেন!
আহা!কৈশোরকাল!
ভালোবাসা, সবার জন্য!

ছবি: টুটুল নেছার

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com