আসছে অরুন্ধতী রায়ের নতুন উপন্যাস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রথম উপন্যাস ‘গড অফ স্মল থিংস’। আর তাতেই গোটা বিশ্বে জয়জয়কার অরুন্ধতী রায়ের। পেয়ে যান ‘ম্যান বুকার’ পুরস্কার। তারপর প্রায় কুড়ি বছরের নীরবতা। উপন্যাস আর লেখেননি তিনি। এবার নীরবতা ভঙ্গ করে নতুন বই নিয়ে আসছেন এই লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট। নতুন উপন্যাসের নাম ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’। আগামী ৬ জুন বিশ্বজোড়া পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবে এই বইটি।

নতুন বই বেরনোর আগে অরুন্ধতী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘সবাই বলতেন, লেখা ছেড়ে দিলে? ১৬টা নন-ফিকশন যেন লেখালেখির বাইরে।’ মাঝের কুড়ি বছরে অরুন্ধতী উপন্যাস লেখেননি ঠিকই, কিন্তু তাঁর নন-ফিকশন বারংবার প্রত্যয়ের সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছে, বড় বাঁধ কেন হওয়া উচিত নয়, কেনই বা কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কাশ্মীরিদের হাতেই থাকা উচিত! কখনও বা বস্তারের জঙ্গলে মাওবাদীদের ডেরায় হেঁটে গিয়ে দেখান, গোটাটাই যুগ যুগ সঞ্চিত অসাম্যের লড়াই। 

মৃতেরা কথা বলেছে এই নতুন উপন্যাসেও। উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্বে এসেছে জিহাদিদের হাত থেকে কাশ্মীরের বন্দিপুরা শহরকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুক্ত করার বর্ণনা: ‘গ্রামবাসীরা বলে আগের দিন বিকেল সাড়ে তিনটেয় অভিযান শুরু হয়েছিল। মুখের চা ফেলে, বইখাতা খুলে, কড়াইতে আধভাজা পেঁয়াজ রেখেই বন্দুকের নলের সামনে বাসিন্দারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।’

শুরুতেই আছে দিল্লির এক কবরখানা। ‘গোধূলি লগ্নে যখন সূর্য অস্ত গিয়েছে, কিন্তু আলোর রেশ রয়েছে, তখন ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ুক্কু শেয়াল কবরখানার বটগাছ থেকে নেমে আসে।’ কিন্তু শকুনরা এই কবরখানায় আর নেই। গরুতে যাতে বেশি দুধ দিতে পারে, সে জন্য তাদের ডাইক্লোফেনাক নামে ওষুধ দেওয়া হয়। এটি আবার শকুনদের কাছে নার্ভ গ্যাসের সমতুল্য। ডাইক্লোফেনাক-আক্রান্ত মরা গরু খেয়ে শকুনরা লোপাট। আর গবাদি পশু ততক্ষণে দুধের মেশিনে পরিণত। শহর আরও আইসক্রিম খায়, দুধ আর মিল্কশেক খায়। অরুন্ধতী রায় সাহিত্য ছেড়ে অ্যাক্টিভিজমে নেমে পড়েছেন বলে অনেক পাঠকেরই অভিযোগ ছিল। এই নতুন বই হয়তো তার সেই অ্যাক্টিভিস্ট-অভিজ্ঞতাই নতুন গল্প শোনাবে পাঠকদের।

উপন্যাসের নায়িকা আঞ্জুম শকুন-পরিত্যক্ত কবরখানাতেই থাকে। আঞ্জুমের আসল নাম আফতাব। জন্মের পর ছেলে হয়েছে ভেবে মা-বাবা আনন্দে মেতেছিলেন। পরদিন মা লক্ষ করেন, শিশুটির নারী-যৌনাঙ্গও রয়েছে। বাবা চেঙ্গিজ খানের গল্প বলে আফতাবের মধ্যে পৌরুষ জাগানোর চেষ্টা করেন,কিন্তু সে সাড়া দেয় না। আফতাব হয়ে গেল হিজড়ে আঞ্জুম। ‘দাঙ্গা তো আমাদের সত্তার মধ্যে। ভারত-পাক যুদ্ধ আমাদের ভিতরেই। সে যুদ্ধ কোনও দিন মিটবে না,’ উপলব্ধি করে সেই নপুংসক। আর এরকম সব গল্পের মিশেল নিয়ে পাঠকদের সামনে হাজির হচ্ছেন অরুন্ধতী রায়।

সাহিত্য ডেস্ক

তথ্যঃ ইন্টারনেট

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com