আর্টিস্ট জর্জিয়া ও’কিফ…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আন্জুমান রোজী, কানাডা থেকে

(টরন্টো থেকে): আমেরিকার আর্টিস্ট জর্জিয়া ও’কিফ আর্টজগতের এক বিস্ময়। তার এই বিস্ময়ের প্রদর্শনী চলছে অন্টারিও আর্ট গ্যালারীতে। এক রৌদ্রজ্বলা দুপুরে আমি আর কবি ফেরদৌস নাহার চলে যাই সেই প্রদর্শনী দেখতে। বর্ণাঢ্য শিল্পজীবনের অধিকারী ও’কিফ আর্টজগতকে দিয়েছেন ভিন্নমাত্রার শৈল্পিক চেতনা। তিনি অবহেলিত কিম্বা ক্ষুদ্রাকারের ফুলকে বড় আকারের ক্যানভাসে তোলে আনেন। তাতে ক্ষুদ্র ফুলগুলোর নান্দনিক গুরুত্ব বহুলাংশে বেড়ে যায়। তাছাড়া, নিউইয়র্কের উঁচুউঁচুতলার বাড়ির দৃশ্য, স্কাইসক্রাপার্স এবং নিউ মেক্সিকো ল্যান্ডস্কেপের ছবির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ও’কিফকে “আমেরিকান আধুনিকতার মা” (Mother of American modernism”) হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

জর্জিয়া ও’কিফের ফুল ও বিমূর্তধারার ছবিগুলো আকর্ষণ করে বেশী। বিশেষ করে তার মরুভূমির ছবিগুলি উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে কয়েকটি ফুল বা পাহাড়ের কামুক এবং রঙিন চিত্র, যেমন কটনউড তৃতীয় (১৯৪৪), হাড়ের চিত্র, কালো রোজেস ১৯৩১ বিখ্যাত। ও’কিফ ১৯২৪ সালে ফটোগ্রাফার এবং গ্যালারি মালিক আলফ্রেড স্টিগ্রিৎসকে বিয়ে করেন, এবং ১৯৪৬ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত কিফের কাজে উত্সাহী প্রবর্তক ছিলেন। ও’কিফ ১৯৭৭ সালে জেরাল্ড ফোর্ড থেকে রাষ্ট্রপতির স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৮৫ সালে রোনাল্ড রেগান থেকে আর্টস ন্যাশনাল মেডেল অফ আর্টস পেয়েছিলেন।

প্রথমজীবনে ১৯০৫ সালে ও’কিফ ‘আর্ট ইনস্টিটিউট অফ শিকাগো্র’ স্কুলে আর্টের ছাত্র হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক শিল্প প্রশিক্ষণ শুরু করে্ন। কিন্তু তিনি তার পাঠের দ্বারা সীমাবদ্ধ বোধ করেন যা প্রকৃতির পুনারাবৃত্তি বা অনুলিপি করার উপর নিবদ্ধ ছিল। ১৯০৮ সালে শিক্ষায় আরো অর্থায়ন করতে অক্ষম হলে তিনি বাণিজ্যিক ইলাস্ট্রেটর হিসেবে দুই বছর কাজ করেন। তারপর ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, এবং দক্ষিণ ক্যারোলিনার মধ্যে সাত বছর কাটিয়ে দেন। সেই সময়ের মধ্যে, তিনি ১৯১২ থেকে ১৯১৪ এর মধ্যকার গ্রীষ্মকালে পড়াশুনা আবার শুরু করেন এবং আর্থার ওয়েসলি ডো এর নীতি ও দর্শনের সাথে পরিচিত হন। তিনি কপি করার চেষ্টা করার চেয়ে বরং ব্যক্তিগত শৈলী, ডিজাইন এবং বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে শিল্পকর্ম তৈরি করেন বা তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। এর ফলে তিনি যেভাবে অনুভব করেছিলেন সেভাবে শিল্পের দিকে অগ্রসর হলেন। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গবেষণার মাধ্যমে জলরংয়ের প্রারম্ভিক পর্যায়ে দেখা এবং ১৯১৫ সালে নির্মিত কাঠকয়লা আঁকাগুলিতে নাটকীয়ভাবে দেখা গিয়েছে এক নতুন বিমূর্তরূপ। অ্যালফ্রেড স্টিগ্রিৎস, একজন শিল্প ব্যবসায়ী এবং ফটোগ্রাফার,১৯১৬ সালে ও’কিফের কাজের প্রথম প্রদর্শনী করেন।

১৯১৮ সালে ওকিফ স্টিঙ্গিটসের অনুরোধে নিউইয়র্কে চলে যান এবং শিল্পী হিসেবে একনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেন। তারা একটি পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তুলেন, যার ভিত্তিতে কিফের কাজের প্রচার এবং প্রদর্শন স্টিগ্রিৎস করেন। ১৯২৪ সালে তাদের পেশাগত সম্পর্ক বৈবাহিক জীবনে রূপান্তরিত হয়। সেই সময় ও’কিফ বিমূর্ত ছবির বিভিন্ন নতুন ফর্ম সৃষ্টি করেন। যারমধ্যে খুব কাছ থেকে দেখা ফুল, যেমন, ‘রেড কান্না'(Red Canna (paintings) পেইন্টিং সহ অনেক ধরনের বিমূর্ত ছবি এঁকেছিলেন যা অনেকে নারীর জননেন্দ্রিতত্ত্বের প্রতিনিধিত্ব করে, যদিও ও’কিফ ধারাবাহিকভাবে এ অভিপ্রায়টি অস্বীকার করে যান। নারীর যৌনতার চিত্র স্পষ্ট এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়াতে স্টিগ্রিৎস অনুপ্রাণিত হয়ে তা গ্রহণ করেন এবং ও’কিফের জন্য প্র্দর্শনের ব্যবস্থা করেন।

ও’কিফ এবং স্টিগ্রিৎস নিউ ইয়র্কে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে বসবাস করেন। ও’কিফ সেখানে বছরের অনেকসময় কাটিয়েছিলেন। সেইসময় তিনি তার জন্মভূমি নিউ মেক্সিকোর ল্যান্ডস্কেপ এবং জীবজন্তুর স্কা্লের ছবি, যেমন গরুর মাথার খুলি (Cow’s Skull: Red, White, and Blue), রাম হেড হোয়াইট হোলি হোক এবং লিটল হিলস আঁকতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।। স্বামী স্টিগ্রিৎস এর মৃত্যুর পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে O’Keeffe হোম এবং স্টুডিও Abiquiúতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তার জীবনের শেষ বছর পর্যন্ত তিনি সান্তা ফে’তে বসবাস করেন।

শিল্পী জর্জিয়া ও’কিফ জন্মগ্রহণ করেন পনেরই নভেম্বর ১৮৮৭ সালে এবং মৃত্যুবরণ করেন ছয়ই মার্চ ১৯৮৬ সালে। প্রায় একশত বছরের সৃষ্টিশীল বর্ণাঢ্য জীবন তার। ২০১৪ সালে, জর্জিয়া ওকিফের ১৯৩৬ পেইন্টিং জিমসন উইড Jimson Weed (painting) $৪৪,৪০৫.০০০ বিক্রী হয়। আগের যে কোন নারীশিল্পীর চেয়ে বিশ্বের নিলাম রেকর্ডে তিনগুণ বেশী। সান্তা ফে’তে মৃত্যুর পর জর্জিয়া ও’কিফের মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com