আরও সাত পৃথিবী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এটি একটি ভিন্ন সৌরমণ্ডল। সাত সাতটি পৃথিবীর আকারের গ্রহ পাক খাচ্ছে এখানে। এদের মধ্যে তিনটি ঘুরছে তাদের পেরেন্ট স্টার বা আর একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে। নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, এগুলিতে জল থাকতে পারে। সুতরাং প্রাণের সম্ভাবনাও অসম্ভব নয়। পৃথিবীর সম আকৃতির সাতটি নয়া গ্রহ আবিষ্কার করছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা।  জানা গিয়েছে, নাসার টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এমনই দৃশ্য। পৃথিবী থেকে সম্ভবত চল্লিশ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে এই গ্রহগুলি। গ্রহগুলির মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে একটি মাত্র তারা, নাম ট্রাপিস্ট-১। বিজ্ঞানীদের অনুমান সেখানে মিলতে পারে প্রাণের সন্ধানও, থাকতে পারে পানি। জানা গিয়েছে, গত বছরের মের শুরু থেকে নাসার বিজ্ঞানীদের একটি দল গ্রহগুলি সম্পর্কে খোঁজ-খবর করতে শুরু করেছিল এবং তারা এমন সাতটি গ্রহের স্থায়িত্বর নিশ্চয়তা দেন। জানা গিয়েছে, ওয়াশিংটনে নাসার হেডকোর্টার থেকে ঘোষণা হয় রেজাল্ট।  নব-আবিষ্কৃত সৌরমণ্ডলটি আমাদের সৌরমণ্ডলটির একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। । এটি আয়তনে আমাদের সূর্যের দশ ভাগের এক ভাগ, এবং উত্তাপ সূর্যের এক-চতুর্থাংশ। গ্রহগুলো খুব কাছাকাছি থেকে ঘুরছে। সব চেয়ে কাছের যে গ্রহ তার ট্রাপিস্ট-১কে ঘুরতে সময় লাগে দেড় দিন, আর সব চেয়ে দূরের গ্রহটির সময় লাগে ২০ দিন। এই গ্রহগুলো যদি  আরও বড়ো আরও উজ্জ্বল কোনো তারাকে ঘিরে ঘুরত, তা হলে পুড়ে কুড়মুড়ে হয়ে যেত। কিন্তু এই ট্রাপিস্ট-১ এতটাই ঠান্ডা যে এই গ্রহগুলোর যতটা উষ্ণতা পাওয়ার দরকার, ততটাই পায়, যা তরল জল ধরে রাখার পক্ষে খুবই উপযোগী। এদের মধ্যে তিনটি গ্রহ ঠিক ততটাই উষ্ণতা পায়, যতটা পায় শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল। তাই এই তিনটি গ্রহকে ‘বাসযোগ্য অঞ্চল’ তথা ‘গোল্ডিলক্স অঞ্চল’ বলে মনে করা হচ্ছে যেখানে প্রাণের বেড়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।


বেলজিয়ামের লিয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক–লেখক মাইকেল গিলন জানিয়েছেন, ‘‌এর আগে স্থলজ গ্রহ ছিল মাত্র ৪টি। তাও শুধু আমাদেরই সৌরজগতে। এখন আমাদের চোখের সামনে পৃথিবীর মতো আকারের ৭টি গ্রহ রয়েছে। সেখানে পানি এবং জীবন থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদি নাও থাকে, যা আছে, যথেষ্ট মজাদার।’‌ নতুন সৌরজগতের কেন্দ্রে থাকা ট্রাপিস্ট–১–এর আয়তন সূর্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ। আর উত্তাপ সূর্যের ৪ ভাগের ১ ভাগ। উত্তাপ বেশি হলে প্রদক্ষিণকারী গ্রহগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যেত। কারণ এই নক্ষত্রের খুব কাছ থেকে পাক খাচ্ছে ৭ ‘‌পৃথিবী’‌।
সবথেকে কাছের কক্ষপথে থাকা গ্রহ ট্রাপিস্ট–১–কে প্রদক্ষিণ করে ১ দিনে। সব থেকে দূরের কক্ষপথে থাকা গ্রহের সময় লাগে ২০ দিন। ট্রাপিস্ট–১ এর থেকে গ্রহগুলোর দূরত্ব কম থাকায় সেগুলোকে দেখায় অনেক বড়। সব মিলিয়ে গোটা ব্যবস্থা বেশ আঁটোসাঁটো। সৌরজগতের বাইরের কক্ষপথে থাকা গ্রহের আকাশে প্রতিদিন বাকি ৬টি গ্রহের ঘোরাফেরা ধরা পড়ে।
শুক্র, পৃথিবী আর মঙ্গলে সূর্যের যতটা তাপ আসে, নতুন সৌরজগতের ৩টি গ্রহেও ট্রাপিস্ট–১ ততটা উত্তাপ পৌঁছায়। ট্রাপিস্ট ১-এর বয়স অন্তত ৫০ কোটি বছর। এখনও অন্তত ১০ লাখ কোটি বছর বাঁচবে নক্ষত্রটি। সূর্য সে তুলনায় অনেকটাই প্রবীণ। ১০০০ কোটি বছরের জীবন অর্ধেকটা পার করে দিয়েছে সে। আর কয়েকশো কোটি বছর পর সূর্যের জ্বালানি যখন ফুরিয়ে যাবে, তখন এই সৌরজগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। ট্রাপিস্ট ১ কিন্তু তখনও শিশু। এর হাইড্রোজেন ধীরে ধীরে পুড়ছে। তাই এর জীবন অনেক দীর্ঘ। ফলে তার কাছে প্রাণের সঞ্চার হওয়ার প্রচুর সময় থাকছে।
ট্রাপিস্ট-১ পৃথিবীর খুব কাছে। ভবিষ্যতে হয়তো কোনোদিন আমরা ওই ট্রাপিস্ট-১ গ্রহে যেতে পারবো। তখন হয়তো আমরা পাশের গ্রহগুলোর নিজ নিজ কক্ষ পথে চলাচলের দৃশ্য দেখতে পাবো। আমরা ওই গ্রহে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রাপিস্ট-১ সিরিজের ট্রাপিস্ট-১ ডি গ্রহটিকে থিড্রি সিস্টেমে কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করে কিছুটা হলেও দেখতে পারবো। এক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে ভার্চুয়াল ডিভাইস থাকতে হবে।

ছবি ও তথ্যঃ ইন্টারনেট।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com