আমি সুপ্রিয়ার লগে অভিনয় করুম…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাস খেলার নেশা ছিলো দেবব্রত বিশ্বাসের। তা-ও আবার টাকা-পয়সা দিয়ে খেলা। সেই নেশার টানে প্রায়শই নিজের বাড়িতে জমতো জুয়ার আসর। সেই আসরে মাঝে মাঝে গিয়ে হাজির হতেন স্রোতের বিপরীত দিকের আরেক মানুষ ঋত্বিক ঘটক। তিনি অবশ্য জুয়ার টানে যেতেন না, যেতেন কাজের টানে। শোনা যায় একবার জর্জ বিশ্বাসের তাস খেলার মাঝে ঋত্বিক ঘটক গিয়ে হাজির হলে খেলায় মগ্ন সেই শিল্পী নাকি বলেছিলেন, ‘আমি জিততাছি, তুমি আমার কপালডারে বারোটা বাজাইয়া ছাড়বা।’ মৃদু হেসে ঋত্বিকের উত্তর, ‘দেবব্রত বিশ্বাস আবার কপাল-টপাল মানে নাকি!’ উত্তরে দেবব্রত বিশ্বাসের বাক্যবান ছিলো এরকম, ‘মানি, মানি…সব মানি, শুধু তোমারে মানি না।’

তবে এই লেখার সূত্রপাত দেবব্রত বিশ্বাসের জুয়া খেলা নিয়ে নয়, সিনেমায় তার অভিনয় করার অভিপ্রায় নিয়ে। আর সে অভিপ্রায় তিনি প্রকাশ করেছিলেন স্বয়ং ঋত্বিক ঘটকের কাছে। তাঁর এই বেকায়দা ধরণের আবদার নিয়ে বিপদে পড়েছিলেন ঋত্বিক। তার সিনেমায় সব সময় জুড়ে যেতো দেবব্রত বিশ্বাসের গান। ঋত্বিক ঘটকের মাথায় তখন একটা সিনেমার পরিকল্পনা ঘুরছে। সিনেমার নাম রেখেছেন ‘কোমল গান্ধার’। যথারীতি তিনি গিয়ে হাজির জর্জ বিশ্বাসের বাড়ি। নতুন সিনেমায় তাঁর কন্ঠে গান চাই। কিন্তু হঠাৎ বেঁকে বসলেন দেবব্রত। ‘না, তুমার সিনামায় আমি গান গামু না।’ গায়কের আপত্তি শুনে পরিচালক হতভম্ব। প্রশ্ন করে ঋত্বিক ঘটক জানতে পারলেন, সিনেমায় অভিনয় করার শখ হয়েছে দেবব্রত বিশ্বাসের।

সেদিন ঋত্বিক ঘটক ভেবেছিলেন, বোধ হয় হালকা মেজাজে তার সঙ্গে রসিকতা করছেন দেবব্রত। তাঁর সোজা কথা, ‘আমারে দিয়া যদি গান গাওয়াইতে চাও তাইলে পার্ট দিতে হইবো। আমি ভালোই অভিনয় করি…।’ এবার ঋত্বিক ঘটকের মাথায় বজ্রপাত। শেষে আলোচনা করে স্থির হলো, ঋত্বিকের ছবিতে অভিনয় করছেন দেবব্রত বিশ্বাস।

কিন্তু গান রেকর্ডিংয়ের দিনে স্টুডিওতে গেলেন না দেবব্রত। চিন্তিত মুখে ঋত্বিক ঘটক আবার এলেন শিল্পীর বাড়িতে। জানা গেলো, সাধারণ কোনো চরিত্রে দেবব্রত বিশ্বাস অভিনয় করবেন না। তাঁর দাবি, কোমল গান্ধার ছবির নায়িকা সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে একই দৃশ্যে তিনি অভিনয় করবেন। তার আশংকা ছিলো, এরকম না হলে শেষে ঋত্বিক তাকে কাজের লোকের চরিত্রে অভিনয় করাবেন। সেই ছবিতে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ গানটি আজও অমলিন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট, বাঁধন যত শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে/ বাসব দাশগুপ্ত
ছবিঃ গুগল  

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com