আমি মালাউন,নামের গন্ধ তাই তো বলে

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ।

রবিশঙ্কর মৈত্রী

রবিশঙ্কর মৈত্রী

আমি মালাউন; নামের গন্ধ তাই তো বলে। মালাউন গালি আমিও শুনেছি, হ্যাঁ আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে। এবং তারা মালাউনকে দেশ থেকে খুব সহজেই তাড়াতে পেরেছে।
আমরা ইতালিতে এসে মোমিন ভাইয়ের বাসায় ছিলাম। মালাউনের পরিবারকে তারা আদর যত্ন করে রেখেছিলেন, খাইয়েছিলেন। তারপর সারওয়ার ভাই বলেছিলেন, এখানেই থেকে যান। আজাদ ভাইয়ের স্ত্রী আমার স্ত্রীর হাত ধরে বলেছিলেন, বোন আমরা একসঙ্গে এখানেই থাকি বাঁচি। তারপর পাঁচশো ইউরো খরচ করে আমাদের গন্তব্য-প্যারিসের ট্রেন টিকেট কিনে দিয়েছিলেন আজাদ ভাই। প্যারিসে এই মালাউন পরিবারকে রিসিভ করার জন্য নূর হাসনাত পলাশ গার দো লিয়োঁ স্টেশনে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। তারপর প্যারিসে আমরা কদিন এক মালাউন পরিবারের (মনমোহন দে) ছোট্ট বাসায় ছিলাম। সেই বাসায় আমরা চারজনে কী করে থাকি? শেষে কামাল ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলাম। কামাল ভাই একলা মানুষ। তাঁর বাসায় আমরা সুখে শান্তিতে বেশ কদিন ছিলাম। বাজার সদাই তিনিই করতেন। আমার বউ শ্যালিকা রান্না করত। কামাল ভাই মালাউনের রান্না খেতেন দারুণ আনন্দে।
তারপর আমরা প্যারিসে হোটেল পেয়েছিলাম। ফরাসি সরকার আমাদের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু প্রথমেই তো দায়িত্বের সবটুকু ফরাসি সরকার পালন করে না, করার নিয়ম নেই। প্যারিসে আমরা যে হোটেলে ছিলাম সেখানে এটা ওটা নিয়ে আসত দোলন মাহমুদ আর যাত্রাবাড়ির আরিফ। আনোয়ার ভাই প্রায়ই আমাকে সঙ্গ দিতেন। ম্যাকডোনাল্ডে বসিয়ে খাইয়ে মেয়ের জন্যও বার্গার কিনে দিতেন।
nature-flowers-1_2কাজী এনায়েত উল্লাহ ইনু ভাই প্রতি মাসে আমাদেরকে সাহায্য করতেন, এখনো করছেন। রবিশঙ্কর মৈত্রী একজন দুজন অমানুষের কাছে মালাউন। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের কাছে, প্রকৃত মুসলমানের কাছে মানুষ।
আমি আমরা যদি মালাউন হই– আমার কাছ থেকে প্রায় একলাখ ছেলেমেয়ে স্বরবর্ণ ব্যঞ্জন বর্ণের উচ্চারণ শিখেছেন; তাহলে ওই ছেলেমেয়েরা মালাউন। আমি বিশ্বাস করি আবৃত্তির প্রতিটি মানুষ আমার পাশে আছেন এবং আমার সঙ্গে তাঁরাও গর্ব করেই বলবেন আমরা মালাউন।
মোঃ আহকাম উল্লাহ আমাকে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদে যুক্ত করে প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ইকবাল খোরশেদই প্রথম আমাকে তাঁর আনন্দভুবন পত্রিকায় ঈদসংখ্যায় উপন্যাস লেখার সুযোগ করে দেন– আমার ৯৫% ভাগ সুহৃদ স্বজন বন্ধুই তো মুসলমান; তবে তারাও কি উন-মালাউন??
পৃথিবী অনেক এগিয়েছে, বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। জাত ধর্ম বর্ণ নিয়ে গালি দেওয়া এখন চরম অপরাধ, শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে গেলে আমরা আবার পিছিয়ে যাব।
যবন নেড়ে মালাউন চাঁড়াল– এসব চরম অসভ্যদের মুখের গালি। এই গালি যাঁরা আজও ব্যবহার করেন তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়া উচিত। ওই মুখে তাঁরা যেন কোনোদিন ভোট চাইতে না পারেন। তাঁরা যেন আর কোনোদিন জনগণের প্রতিনিধি না হতে পারেন।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই স্বধর্ম পালন করে অসাম্প্রদায়িক। তথাকথিত শিক্ষিত ধান্ধাবাজ ব্যবসায়ী রাজনীতিকরাই চরম সাম্প্রদায়িক। আর এই সব নিয়ে যে-সকল বুদ্ধিজীবী শিল্পী কবি লেখক কথা বলতে বিব্রত বোধ করেন তাঁরা মিনমিনে শয়তান। এই সকল শয়তানরাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আসন গেঁড়ে বসে আছেন। মুখোশধারী বুড়োধাড়িগুলোর ছবিসহ রাস্তায় মিছিল করা দরকার, ওদের মুখোশ খুলে না দিলে বাংলাদেশ কখনো সাম্প্রদায়িকতার বিষ থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com