আমি সময়ের গল্প, মানুষের গল্প বলতেই আগ্রহী–শবনম ফেরদৌসী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা শবনম ফেরদৌসীর এ বছরের পরিকল্পনা পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মাণ। তিন চারটা গল্পও চূড়ান্ত হয়ে আছে, এখন প্রযোজক পেলেই কাজে নেমে পড়বেন।প্রাণের বাংলাকে কথা প্রসঙ্গে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এ বছর রেইনবো ফিল্মস আয়োজিত ১৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কারে শবনমের প্রামাণ্যচিত্র ‘জন্মসাথী’ ছবিটি পুরস্কিৃত হয়েছে সেরা ছবি হিসেবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধশিশুদের নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক গভীর ক্ষতকে ক্যামেরায় তুলে এনেছেন এই নির্মাতা। ছবিটি এবার অনুষ্ঠানের জুরিদের ভুয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাঙালী নারীদের ওপর পাক বাহিনীর ধর্ষণ আর নির্যাতনের আরেক ভয়বহ দিক উন্মোচিত হয়েছে তার সিনেমায়।

তিনি বলেন, “আমার খুব আগ্রহ ছিলো বিদেশি নির্মাতা সমালোচকরা আমাদের যুদ্ধশিশুদের উপর নির্মিত এ প্রামান্যচিত্রটি দেখে কী বলেন তা জানার। উৎসবে প্রত্যাশার বাইরেও রেসপন্স পেয়েছি জুরিদের কাছ থেকে। তারা স্পেশাল স্ক্রিনিং করে প্রামান্যচিত্রটি দেখেছেন। অনেকে কেঁদেছেনও।’ শবনম জানালেন, এই ছবিটি দেখার পর তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এসে ধন্যবাদ জানিয়ে গেছেন তাকে। তারা বলেছেন, এরকম একটি বেদনার্ত, বিক্ষত অধ্যায়ের কথা তারা এতোদিন জানতেনেই না। শবনম ফেরদ্যেসীর কাছে এটাও ভীষণ বড় এক পাওয়া।

পুরস্কার পাওয়াকে সবসময়ই কাজের স্বীকৃতি বলে মনে করেন শবনম। তবে পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে তার কাজের কোন সম্পর্ক নেই। শবনম বলেন, ‘আমি ছবি বানাই আমার কমিটমেন্ট থেকে। পুরস্কার পাই বা না-পাই আমি আমার কাজটা করে যেতে চাই।

প্রামাণ্যচিত্রে শবনমের কাজের মধ্যে ব্যক্তি মানুষ, তার অন্তর্গত ক্ষরণ, শহুরে মানুষের জীবন যন্ত্রণার গল্প বারবার প্রাধান্য পেয়েছে। শবনম জানালেন, পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্রের যে কাজটি করার পরিকল্পনা করছেন সেখানেও ব্যক্তির অন্তর্গত বিষয়, সুক্ষ ভাবের জায়গাটা নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী তিনি। গল্পগুলোও সেভাবেই নির্বাচন করেছেন। শবনম বলেন, ‘ফিকশনের গল্প অন্য রকম গল্প। আমি মনে করি সে গল্প হবে সাধারণ, সহজবোধ্য। কিন্তু সে গল্প হয়ে উঠবে এই সময়ের গল্প, সেখানে থাকবে নির্দিষ্ট দর্শন।’ফিকশন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এ বছর আরেকটি প্রামাণ্যচিত্রও তৈরী করতে আগ্রহী শবনম ফেরদৌসী। সে ছবিতে এই নতুন শতাব্দীতে মানুষের বিচ্ছিন্নতা, সংযোগহীনতা আর একাকীত্ব নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে তার।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা প্রামান্যচিত্রের পুরস্কার জয়ের পর ‘জন্মসাথী’ এবার যাচ্ছে পাটনায় বোধিসত্ত্ব আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে  বোধিসত্ত্ব আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।আটদিনের এই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত  ‘জন্মসাথী’ ছাড়াও এ উৎসবে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের আরও তিনটি ছবি।ছবিগুলো হলে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘আন্ডারকনস্ট্রাকশন’, তাসমিয়া আফরিন মৌ পরিচালিত ‘কবি স্বামীর মৃত্যুর পর আমার জবানবন্দি’ ও খন্দকার সুমনের ‘পৌনঃপুনিক’।এই উৎসবে অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন আদুর গোপালকৃষ্ণণ, শ্যাম বেনেগাল, অনুরাগ কাশ্যপ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, শত্রুঘ্ন সিনহা ও গৌতম ঘোষসহ বিখ্যাত সবভারতীয় নির্মাতারা।

বিনোদন প্রতিবেদক

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com