আমায় ডেকো না…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পৃথিবীকে বিদায় জানালেন লাকী আখন্দ, বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, সঙ্গীত শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখন্দ। গান লিখেছেন, সুরারোপ করেছেন, গান গেয়েছেন। ১৯৭১ সালে অংশ নিয়েছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশের সঙ্গীতপিপাসু মানুষকে এক অদ্ভূত ইন্দ্রজালে মোহমুগ্ধ করে রেখেছিলেন এই অনন্য প্রতিভার অধিকারী মানুষটি।

আজ তিনি যখন চলে গেলেন তখন সন্ধ্যা নামছে। হাওয়া উড়িয়ে নিয়ে আসছে বৃষ্টিকণা।দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। শোক বিষয়ক সংবাদ লিখতে গেলে কত কেজো কথা মনে পড়ে। প্রয়াত মানুষটির জন্ম, কর্মজীবন, বেড়ে ওঠা-কতকিছুই তো লেখা উচিত। কিন্তু কী লিখবো লাকী আখন্দকে নিয়ে? এতোসব প্রয়োজনীয় তথ্যের বেড়াজালে কি আটকে রাখা যায় তাকে? লাকী আখন্দ তো সুরের আকাশে ভেসে যাওয়া এক মানুষ। অসাধারণ সব গান আর সুরের ওঠাপড়ার মধ্যে তার জীবন।

গেয়েছেন এই নীল মণিহার, আবার এলো যে সন্ধ্যা, আমায় ডেকো না, রীতিনীতি জানি না-এর মতো সব গান। সুর করেছেন যেখানে সীমান্ত তোমার গানটির। গত কয়েক যুগে এই গানগুলোর জনপ্রিয়তা কখনোই হ্রাস পায় নি।

ওই যে বলছিলাম সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করার কথা। লাকী আখন্দ ছিলেন সেই ইন্দ্রজালের এক জাদুকর।মোহমুগ্ধ করে রেখেছিলেন শ্রোতাদের। শেষ সময়েও একটি গানের মিউজিক ট্র্যাক তৈরীর কাজ করেন। ইচ্ছে ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি‘র সড়কদ্বীপে গান গাইবেন।কিন্তু আর গান গাইবেন না এই মানুষটি। গিটার হাতে এই শিল্পীর সুরের মূর্চ্ছনায় আচ্ছন্ন হবে না শ্রোতা। কিন্তু তাঁর গান তো থেমে থাকবে না। তার সুর তো বাতাসে ছবি আঁকবে আরও বহুকাল। আমাদের গানের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো বিরাজ করবেন লাকী আখন্দ। না থেকেও সর্বক্ষণ অনুরণন তুলে যাবে তার গানগুলো।

লাকী আখ্দর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। পাঁচ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন।

১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকী আখন্দের প্রথম সলো অ্যালবাম লাকি আখন্দ প্রকাশ পায়। তার অনুজ অকালপ্রয়াত হ্যাপী আখন্দও ছিলেন বাংলা ব্যান্ড গানের আরেক অনন্য পথিকৃত।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com