আমার শান্তিনিকেতন

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অমৃতা ভট্টাচার্য

কথকতার একটা মানে থাকে সাধারণত। অন্তত থাকাটা উচিত বোধহয়। বেলাশেষের রোদ্দুর তো কত কথাই বলে। সবাই নিজের মতো করে তার মানে করে নিতে চায়। ভালোওবাসে। বিকেলের গল্পটা তাই যার যার নিজের মতো। প্রত্যেকেরই এমন গল্প থাকে জীবন জুড়ে। তা কি আসলে একটা গল্পেরই পুনরাবৃত্তি? শান্তিনিকেতনের কথা ভাবতে বসলেই আমার জীবনের সেই অখণ্ড গল্পমালা ভিড় করে আসে। তাকে গল্প-গুচ্ছও বলা যায় বোধহয়। কোপাইয়ের তীরে, পূর্বপল্লীর প্রান্তে কাশের গুচ্ছরা যেমন শরতের হাওয়ায় হাওয়ায় দোলে – নিভৃতে, নির্জনতায়। তেমনই। কোনো আড়ম্বর নেই, কোনো উত্তেজনা নেই। আনন্দের আখরে আখরে সাজিয়ে তোলা আমাদের শৈশব কৈশোরের দিনগুলি তখন কাশ ফুল হয়ে ঝরে যেতে চায় বেতসিনীর প্রান্তে। সে যেন আনন্দের ঋণ শোধ করতে চায় অকাতরে। শালবীথি, আম্রকুঞ্জ পেরিয়ে লাল মোরামের পথ ধরে তার খেলা তখন চলতেই থাকে দিনে রাতে। নুড়ি পাথরের মতো জলের গভীরে তার চলন।

আমি তো কবি নই, চিত্রকরও নই। ঝরে যাওয়া কাশের মতো বৃন্তচ্যূত কথামালারা তবু ভিড় করে। শরতের রোদ্দুরের মতো নরম মেদুর উষ্ণতায় বসে কাশের গুচ্ছ সাজিয়ে তুলি সযতনে। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞতায় তখন শিউলি ঝরে শিশিরে শিশিরে।

প্রাণের বাংলার এই সংখ্যায় ছাপা হলো অমৃতা ভট্টাচার্যের ধারাবাহিক ‘আমার শান্তিনিকেতন’-এর শেষ কিস্তি

ছবিঃ লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com