আমার বুবু…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

সাবরীনা শারমীন বাঁধন

আমার তরুণী বুবু

আমাদের বাড়িতে অনেক প্রকারের ফল গাছ ছিল। যেগুলো রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব ছিল আমার। বুবুর ঘুমের সময় কোন গাছের পেয়ারা, বড়ই,সফেদা,আম,জামরুল, আতা, কাঁঠাল এমনকি কাঠবাদাম নিচে পরলো কে নিলো এগুলো আমার নজরে রাখার কাজ ছিল। কেননা আশেপাশের অনেকের নজর ছিল বুবুর ঘুমের দিকে। বুবু ঘুমালে কম আওয়াজে পুকুরে দুই এক ডুব কিংবা ফল নেওয়া তাদের কাজ ছিল। আর যদি বুবু শহর কিংবা দেশের বাইরে যেত তবে শুধু বাইরের লোক কেন বাড়ির লোকও একটু খুশি হতো! ভাবতো যাক শাসন থেকে বাঁচলুম!
খুশি হতে পারতাম না কেবল আমি!
কেননা ওই ভদ্রমহিলার সঙ্গে আমার কঠিন ভালোবাসা এবং ঝগড়ার সম্পর্ক ছিল। নিয়ম করে দু’বেলা ঝগড়া না করলে পেটব্যথাই হত বোধয়। তাই সে না থাকলে আমার মন কেমন করতো, আমি না থাকলেও তাঁর একই হাল। তাঁর সঙ্গে  সকালে ঝগড়া লাগতো ডিমপোচ আর রাতে লাগতো মশারী টাঙানো নিয়ে!
কারণ সে কিংবা আমি ভাঙা কুসুম খেতে রাজি নই। কুসুম ভেঙে গেলে সে নিজেই নিয়ম করেছিল একদিন সে একদিন আমি ভাঙা কুসুম খাবো আর রাত্রিবেলায় আমার কথা ছিল বিছানায় ঘুমাবো দুজন, হিসাবে হয় মশারীর চারকোনার দুইকোনা সে আর দুইকোনা আমি লাগাবো কিন্তু সে মানতে নারাজ! এই নিয়েই ঝগড়া!
আর পান খাওয়া নিয়ে তো দিনে কয়েক দফা কঠিন ঝগড়া লাগতো কারণ পান ছেঁচবো আমি কিন্তু আমাকেই খেতে দিবে না এটাও মানতে পারতাম না আমি,ব্যস ঝগড়া শুরু হতে আর কি লাগে?
যাই হোক পাড়ার লোকেদের সঙ্গে আমি বাড়াবাড়ি করতে চাইতাম না কোনকিছু নিয়ে,কিছু নিলে চুপ করেই থাকতে চাইতাম কিন্তু তারা আমাকে থাকতে দিত না! আমাদের বাড়িতে দুই, পাঁচ প্রকারের ফুল গাছ ছিল। শীতের সকালে কারও বাড়িতে শিউলি ফুল টোকায়ে আনতাম

কতবেল ভর্তা

কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারীতে একটু গাঁদা ফুল আনতাম ইট দিয়ে বানানো শহীদ মিনারে দেবো বলে। ফলত তারা বিচার দিত। বুবু তাদের দু’কথা বলে বিদায় করলেও মাম্মাম কাঠের খুন্তি ভাঙতো পিঠে তাই রাগ থাকতো ওদের উপরে।
গত সাত বছরের ডেউয়া, আমরা বলতাম ডউয়া দেখিওনি খাইওনি,ভাবতাম এ শহরে এই ফল নেই।
গতকাল দেখে লাফ দিয়ে উঠলাম কিন্তু দাম শুনে আমি কিছুতেই নেবো না। সঙ্গে বাপু থাকায় সে জোর করে, বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা কিনে দিল।
বাড়ি ফেরার পথে ভাবলাম হায়রে ডেউয়া কত মাটিতে গড়াগড়ি করেছে বাড়ির উঠোনে আর আজ দাম দিয়ে কিনলাম।
কিন্তু বানানোর সময় চিন্তায় বসলাম এটা কি কি দিয়ে মাখাতো বুবু। কারণ বুবুর যেকোন রান্না ছিল অমৃত আর যেকোন কাজ ছিল নিখুঁত। আমি আজও সেই স্বাদ,গন্ধ পাইনা কারও রান্নায়।
আজও দেখিনি তেমন সুপুরি কিংবা কাঠবাদাম কাটা।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com