আমার প্রাণের বাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

কাকলী পৈত

(কলকাতা থেকে): আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল প্রাণের বাংলা পত্রিকাটিতে আমি নিজে কিছু লিখব।কিভাবে সেটা সম্ভব বুঝতে পারছিলামনা। আমার বাংলাদেশী এক বোনের সাহায্যে আমার স্বপ্নপূরণ হল।যদি লেখাটি প্রকাশিত হয় আমি খুব গর্বিত ও সম্মানিত অনুভব করব।এই পত্রিকাটি আমার খুব প্রিয় আর যারা এতে লেখেন তাদের সব লেখাই আমি পড়ি।অনেকটা রোজকার খবরের কাগজ পড়ার মত। প্রতিটি লেখাই খুব মনোগ্রাহী ও তথ্যসমৃদ্ধ বলে নিজের অজান্তেই এই পত্রিকার লেখকদের সঙ্গে নিভৃত সখ্য তৈরী হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ বললেই স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে আদিগন্ত শস্যশ্যামল সবুজ একটা নদী অধ্যুষিত পৃথিবী। পদ্মার ঢেউয়ে নাও ভাসিয়ে চলা পদ্মানদীর মাঝির মুখে ভাটিয়ালির সুর আর পদ্মায় ইলিশের মরশুমে। মেঘনা  সুরমার  তট আর জলঙ্গির ঢেউয়ে ভেজা বাংলার অপরূপ রুপমাধুরী  প্রকৃতিপ্রেমী মনকে এক অন্য জগতে পৌছে দেয়। আমার অন্তর্দৃষ্টি বলে বাংলাদেশের কোথাও আছে ভূবনডাঙার মাঠ। সূর্যাস্তে সেই মাঠের ওপর দিয়ে উড়ে যায় দোয়েল, শ্যামা ,ফিঙে।এককথায় বাংলাদেশের প্রকৃতি আমার কাছে এক অদ্ভুত রোমান্টিসিজম।

জন্মসূত্রে বাংলাদেশ আমার পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি আমার অস্তিত্বের শেকড়।আমার বাবা মা দুজনেই অনেক বড় অবস্থায়  বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। আমার জন্মকর্ম ভারতে হলেও এই দেশের অনেক গল্প দেশভাগের গল্প বাবা মায়ের মুখে খুব শুনেছি।  বাবা নেত্রকোণায় কেন্দুয়া স্কুলে পড়তেন।মা কুমিল্লা তে স্কুলে চাকরি করতেন। ওদের হাত ধরেই এই দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা আবেগ অনেক দিন আগেই তৈরী হয়ে গিয়েছিল।আমার বাবা খুব বাংলাদেশ রেডিও  শুনতেন এবং এদেশের সব খবর রাখতেন। এভাবেই একদিন ফিরদৌসী রহমান, আব্দুল জব্বার,বশির আহমেদ,সাবিনা ইয়াসমিন,ফরিদা ইয়াসমিন,সুবীর নন্দী,মিতালি মুখার্জি এন্ড্রুকিশোর এদের কন্ঠের প্রেমে পড়ে গেছিলাম।

এদেশের যে বিষয়টি আমাকে আজকাল  মুগ্ধ করে তা হলো সাম্প্রদায়িক  সম্প্রীতির আবহ। যদিও এদেশের সাথে আমার কোন প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। কখনো এদেশে আসার সৌভাগ্য হয়নি। তবুও মনে হয় দেশভাগের পর এই পরিবেশ কিছুটা  ক্ষুণ্ণ হলেও এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়ার কারণে ভাষা সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যসূত্রে গ্রথিত করেছে।যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির জন্য এই সাম্প্রদায়িক একতার সুর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সংখ্যালঘু  সম্প্রদায়ের মানুষরাও তাতে শান্তিতে ও স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন।এদেশের  মানুষদের ও প্রাণের বাংলার জন্য অনেক শুভ কামনা রইল।

ছবি: আনছার উদ্দিন খান পাঠান

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com