আমার নীলনদ উপাখ্যান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নার্গিস আক্তার

স্বপ্নবাজ মানুষ তার মনের গোপন কুঠুরিতে কিছু স্বপ্নকে সযত্নে লালন করে।সহজাতভাবে আমারো রয়েছে আউলা-বাউলা কিছু স্বপ্ন!এই স্বপ্ন ঘুরে বেড়াবার স্বপ্ন! যা আমার আশৈশব থেকে লালিত! হোক গাঁও-গেরামে, নদী-পাহাড় কিম্বা সমুদ্রের কাছে গিয়ে অপলক চেয়ে থাকা অথবা দেশের বাইরে কোথাও। কখনো কখনো সাধ্যের বাইরেও কিছু সাধ থাকে। আবার স্বপ্নের বাইরেও কিছু সাধ মানুষের পূরণ হয়! যখন জানলাম মিশর যাবার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, আনন্দের চাইতে বিষ্ময়টাই যেনো বেশি অনুভূত হয়েছিলো।মিশর যাচ্ছি। যাচ্ছি ফেরাউনের দেশে, পিরামিডের দেশে,রাণী ক্লিওপেট্রার দেশে এবং নীলনদের দেশে! মিশরের আকাশে আমার স্বপ্নঘুড়ি উড়বে এ-তো অভাবনীয় এক স্বপ্নপূরণ! ভোর হয়ে আসছে। অমল আলোয় আলোকিত তখন মিশরের আকাশ! বিমান বন্দর থেকে ট্যাক্সিতে করে হোটেলের দিকে যাচ্ছি। আমি তখনো জানতাম না হোটেলে নেমেই আমার জন্য কী বিষ্ময় অপেক্ষা করছে! হোটেল “গ্র্যান্ড নাইল টাওয়ার” এক্কেবারে নীলনদ ঘেষে!বিষ্ময়াবিভূত আমি! গল্পে শোনা, শিশু মুসা নবী সিন্দুকে ভেসে এসেছিলেন এই নদী দিয়ে। সে-সময় ফেরাউন বাদশাহ’র আদেশে ইসরাইলি বংশজাত পুত্র সন্তান ফেলে দেয়া হ’তো নীলনদের পানিতে। অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন ইসরাইলি বংশজাত পুত্রসন্তান মুসা নবী। তারপর এই মিশরেই তাঁর বেড়ে উঠা, তাঁর নিজের মায়ের আঁচলে।ফেরাউন বাদশাহ’র সঙ্গে মুসা নবীর কতো শতো দ্বন্দ্ব, নানা রকম অলৌকিক ঘটনার জন্ম এই নীলকে ঘিরেই। মুসা নবী নেই, ফেরাউন বাদশাহও নেই! আছে কেবল সেইসব পৌরাণিক কাহিনী কথা। আর কাল-কালান্তরের সাক্ষী হয়ে আজো ব’য়ে চলেছে নীলনদ! নদের স্বচ্ছ্ব পানি দেখে রাত জাগার ক্লান্তি ভুলে গেলাম নিমিষেই। সাতদিন ধ’রে দু’চোখ ভ’রে দেখেছি, পৃথিবীর মধ্যে  দীর্ঘতম এই নীলনদকে। যে নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিলো পৃথিবীর সুপ্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা! যে কারণে মিশরকে বলা হয় নীলনদের দান। নীলনদকে ঘিরে পৌরাণিক কিসসা-কাহিনীও অন্তহীন।

নীলের বুকে…
সেদিন ছিলো সোনাঝরা অপরাহ্ণ!শীতল বাতাস বইছিলো তখন উথাল-পাথাল।হাঁটছি নদীর পার দিয়ে।এক সময় সাঁঝবেলা তার আগমনী বার্তা জানিয়ে দেয়। সূর্য ডোবে। ধূসর-ধবল ক্লান্ত পাখিরা ফিরছে নীড়ে।একপায়ে দাঁড়ানো গাছগুলো ডালপালা ঝাঁপটিয়ে প্রকাশ করে তাদের আনন্দধ্বনি! সেই সময় নদীর পারে অপেক্ষা করছিলো চারতলা একটি জাহাজ।বুঝলাম এটিই প্রমোদতরী! নীলের বুকে সেদিনের প্রমোদবিহার দারুণ জমেছিলো। জন্ম দিয়েছিলো ভিন্ন এক অনুভূতির! মুহূর্তেই মনোরাজ্যে অঙ্কিত বাদশাহী হেরেমেখানার খানিকটা ছোঁয়া যেনো পেলাম। মাঝখানে নৃত্যমঞ্চ, চারপাশে বসবার সুব্যবস্থা।হঠাৎ করেই মঞ্চ আলোকিত হয়ে উঠলো।যেনো স্বর্গপুরীর এক পরী নেমে এসেছে চোখের সামনে। সুন্দরী নটরাণীর বেলি নৃত্যের অপূর্ব নৃত্যশৈলী ছিলো মনোমুগ্ধকর। এরপর এলো নটরাজ এবং সঙ্গীত শিল্পী। বিমুগ্ধ দর্শক অপলক উপভোগ করছিলো বর্ণিল নাচ-গান!সব কিছু মিলিয়ে এক অপরূপ স্বপ্নীল পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো!
খানাদানাও অনেকটাই সেই স্বপ্নরাজ্যের বাদশাহী ভোজ বলেই মনে হলো।থরে থরে সাজানো রকমারী সব খাবার-দাবার! নীলনদ বিহারে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষগুলো আনন্দ-উল্লাসে উচ্ছ্বসিত ছিলো গোটা সময়টায়। এমন উল্লাস জীবনে খুব বেশি তো আসে না!

ছবি ও ভিডিও: লেখক

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com