আমার কাঁচামরিচ-আসক্তি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

নাসির উদিদন আইয়ুব

এই ৪ রকমের কাঁচামরিচ আজ সকালে আমাদের গ্রামের বাড়ী মাদারীপুরের কালকিনি থেকে ঢকায়  নিয়ে এসেছে আমার ছোটভাই তাজউদ্দীনের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ওরা গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলো একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে।আমার তালই ডা: আহসান হাবীব মরিচগুলো যোগার করে পঠিয়েছেন। কাঁচামরিচের প্রতি মূলত আমার অতিমাত্রার আগ্রহও আসক্তির কারণেই আমার নিকটাত্মীয়দের অনেকেই গ্রাম থেকে মরিচ নিয়ে আসেন।
আমার শাশুড়ি আম্মাতো রীতিমতো কয়েক প্রকারের মরিচের গাছ বড়িতে লাগিয়ে নিয়েছেন। আমি বেড়াতে গেলে তিনি টেবিল ভর্তি খাবারের সঙ্গে কয়েক রকম কাঁচামরিচ, শুকনা মরিচ সাজিয়ে রাখেন। কবে যেনো তাঁকেবলেছিলাম, একেক মরিচের একেক স্বাদ।
সেই কথা তিনি মনের মধ্যে গেঁথে রেখেছেন।ঢাকায় বেড়াতে আসলে তাঁর সঙ্গে করে আনা খাদ্যদ্রব্য-তালিকায় ৪/৫ রকমের কাঁচামরিচ থাকবেই।এভাবেই “জামাইআদর” এর সঙ্গে একটা বাড়তি “মরিচআদর” আমি সব সময়ই উপভোগ করি।
আমারমাওই-ও (ছোট ভাই তাজউদ্দীনের শাশুড়ি) তার ঘরের আশে-পাশে আমার জন্য কয়েক রকম মরিচের গাছ লাগিয়েছেন।ছবির “বাড়াইয়া মরিচ গুলো” সেইগাছেরই।
আমার ছোট মামা আবুল হোসেন, সিরাজ কাকা, এরা বহুবার গ্রাম থেকে আমার জন্য মরিচ নিয়ে এসেছেন বা লোকমারফত পাঠিয়েছেন।
আবৃত্তিকর্মী বন্ধু ওয়াদুদ মহসীন রুবেলের সঙ্গে একবার তার ওয়ারীর বাসায়  ডাইনিং টেবিলে কাঁচামরিচ খেয়ে পাল্লা দিয়েছিলাম।আমি ১৪টা খেতেই সে খেয়ে ফেললো ২৪টা।তখন আমি এই অসম প্র‍তিযোগিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।এর আগে ভাবতাম, আমার সঙ্গে মরিচ খাওয়ার প্রতিযোগিতায় কেউ টিকবেনা।
ক্যমেলিয়া মোস্তফা আপার কাছে একবার বাংলাদেশ বেতারের ক্যান্টিনে ঝালমুড়ি খেতে খেতে গল্পের ছলে বলেছিলাম,আমার শাশুড়ি আম্মা গ্রাম থেকে বোম্বাই মরিচ পাঠিয়েছেন।আপা উল্লসিত ভঙ্গিতে বললেন, আমার জন্য নিয়েএসো, বোম্বাই মরিচ আমার ভীষণ পছন্দ।পরের বার বেতারে যেতে আর মরিচ নেয়ার কথা মনে নেই।দেখা হতেই তিনি হেসে বললেন, আমার বোম্বাই মরিচ কই? আমি লজ্জিত মুখে বললাম, স্যরি আপা,আগামী রোববার আনবো।
ঢাকার  মীরপুরে আমার মেয়ে আনুমনির (আমার মামা শশুরের শ্যালিকা,যে আমার বউকে মাও আমাকে বাবা ডাকে) বাসায় একবার একটা আস্ত বোম্বাই মরিচ খেয়ে ফেললে তারা হতবাক হয়ে গিয়েছিল।
মরিচ খাওয়া নিয়ে আমার এমন গল্প যে কতশত,তার পুরোটা লিখলে মার্কজুকারবার্গ আমারও পর ‘এক্সট্রা ট্যাক্স ‘ আরোপ করে ফেলতে পারে,তাই আর লিখলাম না।
মাস কয়েক আগে হঠাৎ চিকিৎসক আমাকে ছোট্ট একটা শারীরিক সমস্যার কারণে কিছুদিন মরিচ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বললেন। বাসায় আমার জন্য মরিচ বিহীন আলাদা তরকারি রান্না হতে লাগলো।
এই নিয়ে খাবার টেবিলে সবার ভিন্ন দৃষ্টি, করুণ দৃষ্টি, রসিকতা,টিপ্পুনি সবই কমবেশি চললো।আমার অনুপস্থিতিতে আমার মা একদিন ডাইনিং টেবিলে আমার বউয়ের সামনে কেঁদে দিয়ে বললো,যে কাঁচামরিচ না পেলে বাসার প্লেট- গ্লাস ভেঙে ফেলতো,সে এখন ঝাল ছাড়া তরকারি খায়…!!
একদিন বাসায় ফিরে দেখি, ডাইনিং টেবিলে গাঢ়সবুজ রঙের অস্বাভাবিক বড় সাইজের একটা লোভনীয় বোম্বাইমরিচ।আমার জিহ্বায় পানি এসে গেল। বউ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমাকে নিচু গলায় বললো, দোলা আর ইয়াসমিন তোমাকে ক্ষ্যাপানোর জন্য এই দুষ্টামিটা করেছে।এদের মধ্যে দোলা আমার অনার্স পড়ুয়া শ্যালিকা, আর ইয়াছমিনের পরিচয়ইতো পূর্বে দিয়েছি,যে আজ মাদারীপুর থেকে ছবিতে প্রদত্ত ৪রকমের সুস্বাদু মরিচ নিয়ে এসেছে।
আমাকে কে কবে কোর্মাপোলা ও খাইয়েছে, সেটা অতো মনে থাকেনা।কিন্তু যারা আমাকে ভালবেসে কাঁচামরিচ খাওয়াচ্ছে, সেটা মনের গভীরে প্রথিত হয়ে থাকছে।একেক মরিচের একেক স্বাদ, ভিন্নভিন্ন গন্ধ, পৃথক রঙের আকর্ষণ আমার কাছে সত্যিই মোহনীয়।
সম্প্রতি আবার মরিচ খাওয়া শুরু করেছি।এমনি সময়ে ৪ আইটেমের এতগুলো কাঁচামরিচ আসলো বাসায়।আমি ভীষণ আনন্দিত, উল্লসিত, বিমোহিত।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com