আমার আমি…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

(রুকসানা আক্তার, ইংল্যান্ড থেকে) : ঘুম থেকে উঠার পর থেকেই টের পাচ্ছি যে মেজাজের পারদ উঠা নামা করছে। গান শোনার চেষ্টা করছি , কিছু একটা পড়তে চেষ্টা করছি। কিন্তু লাভ নেই। আমি একটা জিনিস বুঝিনা কোনো কিছু  নিয়ে লিখলে , হতে পারে সেটা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, বা নিজস্ব একটা ভাবনা থেকে অথবা কোন কবিতা। কিন্তু ধরেই নেয়া হয় যে আমার কোনো নিজ সম্পর্কিত ঘটনা , কোনো বিশেষ কেউ আছে ,আমি খুব কষ্ট আর হতাশার মধ্যে আছি অথবা খুব দুঃখিনী। ব্যাস হয়ে গেলতো! ভোলেন্টিয়ারের অভাব নাই । সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রশ্ন যে , আপনি নিশ্চয় আপনার প্রাক্তন অজর ঠাকুর কে ভুলতে পারছেন না অথবা কেউ আপনার হৃদয়ের অর্ণবে নতুন করে সা রে গা মা র স্বরলিপিতে সুরের লহরী তুলেছেন । আমি মনে মনে বলি ও হরি বসুধাকে বলো তিনি দু ভাগ হয়ে আমাকে তাতে গ্রহণ করেন।

ভেতরের ছবি_b.bangla3.2

লেখক

আমরা কি কিছু শিখবো না?আমার তো মনে হয় মাঝে মাঝে যে, শিষ্টাচার কি ও কত প্রকারে অভিধান খুলে দেখাতে হবে ।কারণ বয়সের কারণে চুল পাকার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ও জোর কমে যায় ।পাঠশালায় যা মুখস্ত করেছিলাম স্যারের বেতের বাড়ির ভয়ে,তা ক্রিয়াপদে রূপান্তরিত করিনি জীবনে। তাহলে এই রকম খটমটে শব্দগুলো আজাইরা কামে মস্তিস্ক কতদিন আর সেইভ করে রাখবে। তার দুনিয়াদারি নিয়ে কত কাজ ।তাই সব ডিলেট অপশনে দিয়ে দেয়। তারপর “সদা সত্যি কথা বলিবে , মিথ্যা বলা মহা পাপ”। “ভাই এই সব পুরান পেচাল বাদ দিন। আপনি কোন সেঞ্চুরিতে বাস করছেন? হুমম?পৃথিবী কোথায় চলে গেছে !দেখেন পশ্চিমারা হিমালয়ের অদ্রি চূড়া ছাড়িয়ে সাত অম্বরে পৌঁছে যাচ্ছে। আরে ভাই এটা ডিজিটাল এর যুগ”!! এই কথা গুলো আমি লিখছি কারণ এই ধরণের ডায়লগ গুলো আমাকে শুনতে হয়েছে । পশ্চিমারা অনেক এগিয়ে গেছে কিন্তু ওরা একটা জায়গায় পিছিয়ে আমাদের থেকে। আর সেটা হলো যে ওরা  এখনো সুস্থ মনন গঠনে  মৌলিক যে বিষয় গুলো  শিখেছিল তা এতো এগিয়ে যাওয়ার পরেও ডিলেট অপশনে দেয়নি বরং নিজে সে গুলো একজন মানুষের শাশ্বত অভ্যাসে পরিণত করেছে। আর এটাই ওদের ঈমান। আর আমরা নিজ সংস্কৃতি ,কালচার ,শিষ্টাচার, আদর্শলিপি সব হজম করে বসে আছি। আমি এমন অনেক মানুষদের দেখেছি যে হয়তো অনেকদিন বলা যায় কয়েক যুগ ধরে উন্নত দেশে এবং সোসাইটিতে বসবাস করছেন । কেউ কেউ দেশীয় কালচার ,সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক। কথায় কথায় বলেন বাঙালিদের নিয়ে এই এক সমস্যা।  কখনো আর পুরানো ঘেরাটোপ থেকে বের হয়ে আসবে না। আরে ,আপনি বের হয়েছেন?আমাকে তো বললেন , আপনি জ্ঞানী মানুষ কিন্তু আমি অ-জ্ঞানী।  বললে তো আপনার ও পাঁচটা ক্ষেত মার্কা আচরণের কথা বলতে পারি । কিন্তু বলি না । কারণ বলে তো আমার আর তার মধ্যে  সমতাই চলে আসলো। আমরা চিন্তায়, কথায়, কাজে মারাত্নক আমিত্বে ভুগি । অন্যের যেকোনো কষ্টে সহানুভূতির প্রলেপে “আমি যে কী তুমি তা জানো না” ।বলে নিজের কি কি এবিলিটি আছে এবং সেগুলো দ্বারা কত সহজে সব সমাধান করে ফেলতেন তাই শুনিয়ে যান ।ঐ মানুষটার জায়গায় নিজেকে প্রতিস্থাপন করে কি  বলছেন কখনো দুটো সহমর্মিতার কথা ।মানুষের মৌলিক চাহিদা সঙ্গে সঙ্গে মনেরও মৌলিক কিছু পুষ্টির দরকার হয়।আর এই পুষ্টি গুলো হচ্ছে সহমর্মিতা , সত্যি কারের আশ্বাস, এপ্রিসিয়েশন  ,কেয়ারিং ,সম্মানিত বোধ করা।এগুলো মানুষ কে মনে আশা জাগায় ,উঠে দাঁড়াতে সহায়তা করে ,নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্পৃহায় স্পর্ধিত হয়। অথচ কারো  কিছু দায়িত্বহীন আমিত্বের বাণী তার নিজ অস্তিত্বে ঘুন ধরিয়ে দেয়। সে ভাবে যে সে আসলে অকাজের ।আমি নিজে এগুলোর শিকার হয়েছি। মন ভেঙেছে বহুবার ,আঘাত পেয়েছি ,হতাশায় ডুবতে ডুবতে নিজেকে চাবুক মেরে সোজা করেছি। এখন কাউকে অযাচিত জ্ঞান দান করতে দেখলে শিষ্টাচার এর মধ্যে থেকেই পাল্টা প্রশ্ন করি সে যে ই হউক। কারণ তাকে যুক্তি দিয়ে সম্মান দিয়ে থার্ড পার্সন আলোচনায় ব্যবহার করে বুঝানোর চেষ্টা করি । কিন্তু আলোচনা শেষে কয়দিন পর যে মাথা সেই কপাল ।অথচ একজন মৌলিক মানুষের হৃদয় কাঞ্চনের মত দীপ্তি ছড়ায়  স্বাভাবিক নিয়মেই । তাকে জোর করে পটুত্বের ভাব ধরতে হয়না।এই মৌলিক মানুষই আমার পূজনীয় ।আমার সুরলোক এর অজর ঠাকুর।যে আমার হৃদয়ের ইরাবানের অভীক নাবিক ,আমার মনে সা রে গা মা র সুর তোলা বসন্তেরদূত ,হৃদয়ে তুঙ্গময়তার ঝড় তোলা আমার পাগলা ঘোড়া।

ছবি: লেখক ও শাহানা হুদা

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com