আমরা যেন সব ধরনের ধর্ষনে সরব থাকি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তন্দ্রা চাকমা

কিছুদিন আগে বনানীতে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ধর্ষনের প্রতিবাদ হয়ে গেল। এই ধরনের প্রতিবাদ ২০০৬ থেকে ঢাকার রাজপথে করে আসছি। একটা প্রতিবাদ শেষ হতে না হতেই আর একটা ধর্ষন ঘটছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ঘটনা হরহামেশা ঘটে। এখানে ধর্ষনের শিকার ৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারী কারোর রেহাই নেই। ঢাকায় যখন প্রতিবাদ সমাবেশ হয় মুষ্টিমেয় কিছু পরিচিত মুখ ছাড়া তেমন কেউ প্রতিবাদে সামিল হন না। হয়ত ভাবেন এইটা আদিবাসীদের ব্যাপার আমাদের নয়। আমার মনে আছে এই রকম ১০ মে  ২০১২ সালে রাঙ্গামাটির লংগুদুতে ১১ বছরের ও ১৯শে মে ২০১২ সালে নওঁগা জেলার বদল গাছি গ্রামে ৮ বছরের আদিবাসী কন্যা শিশু ধর্ষন ও হত্যার শিকার হয়। এই দুই ঘটনার পরপরই ঢাকাতে প্রতিবাদ হয়। তবে রাঙ্গামাটির সেই ঘটনার মামলা এখনও জেলা জজকোর্টে চলমান। আসামি ধরা পরেছে । আমি জানিনা নওগাঁর শিশুটির ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে বা এখনও চলমান কিনা । তখন মনে হতো পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আদিবাসী এলাকাগুলি ধর্ষকদের স্বর্গ ভূমি । ধর্ষনের সঙ্গে যুক্তরা খুব সহজে পার পায় আদিবাসী বাঙালি সাম্প্রদায়িকতার ধুঁয়া তুলে। এই ধরনের খবর আবার জাতীয় মিডিয়াতে কম আসে।  

যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম , বনানীর ঘটনা প্রকাশের আগে ও পরে আরও কিছু ঘটনা কিন্তু আমার নজরে এসেছে, যেমন, এর মাঝে খুবই হৃদয় বিদারক হলো,ধর্ষনের বিচার না পেয়ে গাজীপুরের বাবা মেয়ের ট্রেনের নিচে আত্মহুতি দেওয়া। যা আসলে গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয় । এই ঘটনার আসামী এখনও ধরা পরেনি কারন বনানীর ঘটনাটির মত সবাই খুব সরব হয়নি। আমার মনে হয় প্রভাবশালি কেউ না হলে, গরিব হলে আইন, থানা ও বিচার  কোন কিছুই পাওয়া যায় না । আইনের শাসন যদি সমানই হবে তাহলে বাবা মেয়েকে মরতে হবে কেন?

এছাড়া আজ আমার এক ফেসবুক বন্ধুর মাধ্যমে আর একটা নিউজ দেখলাম, এক নারী গার্মেন্টস কর্মী বখাটে দের হাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য নিরাপত্তা চেয়ে বনানী থানায় মামলা দিতে গিয়েছেলো কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি। পরদিন  সে সেই বখাটেদের দ্বারাই গণধর্ষিণের শিকার হয়েছে । মেডিকেল রিপোর্ট থাকার পরও উক্ত থানার অফিস ইন চার্জ কোন মামলা নেননি। সেই রকম আরও অনেক ধর্ষনের ঘটনা আজ চোখে পড়লো। সোশ্যাল মিডিয়াতে দুই একজনের বিষয় ছাড়া তেমন কারো জন্য প্রতিবাদ করতে আমরা দেখি না।  

উল্লেখিত ঘটনাগুলো নিয়ে ঢাকার শাহবাগে তেমন প্রতিবাদ হয়েছে কিনা জানিনা। আসলে শুধু বনানীর ঘটনা নিয়ে সরব আছি কিন্তু বাকি ঘটনার বিচার কি হবে? এভাবে কেবল একটা ঘটনার প্রতিবাদ করলে দেশে ধর্ষন বন্ধ হবে না। সবাই মিলে সবখানে একসঙ্গে, এক রবে সব ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে হবে আর দাবি তুলতে হবে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির। আর একটা কথা দেশের আদিবাসী এলাকার ও অন্যান্য ধর্ষনের বিচার না হওয়ার কারনে অপরাধীদের কাছে ধর্ষন কোন অপরাধই না। বনানীর ধর্ষন নিয়ে প্রতিবাদ তার প্রমান । আমরা যদি পত্রিকার পাতায় আর  ধর্ষনের খবর দেখতে না চাই, তাহলে সবাই মিলে সব ধর্ষনের প্রতিবাদ করা উচিত। আমরা যেন প্রত্যেক ধর্ষণের জন্য প্রতিবাদ করি হোক সেটা পার্বত্য চট্টগ্রাম অথবা বাংলাদেশের অন্যকোন গ্রামে-গন্জে। আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করলে অবশ্যই এই অপরাধ একদিন কমবে। এই আশা কিন্তু মার মত সবার আশা।

মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com