আপনি আসবেন বলে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সৈয়দা মুনিয়া জামান

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

নীলাম্বর…..☺
মাঝ রাত্তিরে ঘুম ভেঙে গেলে খুব বিপদে পড়ে যাই।কিছুতেই আর ঘুম পায়না,আমিতো আবার ভোরের আলোর দেখা পেলে বিছানায়ও থাকতে পারিনা।সারাটা দিনের ভেতর এই সময়টুকুই যা একটু পছন্দ করি,ভোর না দেখলে সারাদিন খারাপ যায়।আগেতো ভোরে উঠে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়েই ঘর থেকে বের হয়ে পড়তাম।কতোটা পথ হেঁটে নদীর পাড়ে চলে যেতাম।সকালের সময়টা কিযে সুন্দর সেটা ঘর হতে না বের হলে ঠিকঠাক অনুভব করা যায়না।একা একা হেঁটেও কখনো মন খারাপ হয়নি,অপরিচিত মানুষগুলোর মাঝে কোন পরিচিত মানুষের দেখা নাপেয়েও মন ভারী হয়নি।

আর এখনতো সপ্তাহ মাসও চলে যায় অপেক্ষা করে,ওই আপনার সময় না হলে আমারও একলা কোথাও গিয়ে ভালো লাগেনা।তখনতো সকালে হাঁটতে আসা অনেক বয়স্ক লোকের সঙ্গে কথা হতো,একসঙ্গে চা পুরি খাওয়া হতো।নিজে কিছু না বললেও তাদের গল্প আগ্রহ করে শুনতাম।তখন মনে হতো আমি বেশ আছি,অন্তত কিছু নিয়ে কষ্টতো পাচ্ছিনা।কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হতোনা,চাওয়ার ছিলোনা কারোকাছে কিছু।মাঝেমাঝে একটু মন খারাপ হলেই নানা উপায়ে মন ভালো করে ফেলতাম।আশপাশে থাকা মানুষগুলো বলতো,আমি নাকি সারাক্ষনই ফিলে থাকি।

আসলেই সারাক্ষন নানা গল্প আড্ডা,বাজার,রান্না,ঘরে বাইরে নিয়েই ব্যস্ত সময় পার হয়ে যেতো।সংসার বাচ্চার বিষয়টা কপালে চিন্তার ভাজ ফেললেও সেটা নিয়ে মন ভারী করে নিজের কাছে নিজেকে বিরক্তিকর করে তুলতে আমার বড্ড অনীহা ছিলো,আর এখনো আছে।সব সময় মনে হয় আমার বাঁচার জন্যইতো ওসব প্রয়োজন,ওসবের জন্য আমিনা,আমার জন্যই ওগুলো।আপনাকেতো আগেও কতোবার বলেছি,একটা লং টাইম প্রচন্ড মানসিক অত্যাচারের ভেতর দিয়ে আসতে আসতে মানুষ যখন বাঁচার আগ্রহ হারিয়েও বাঁচতে চেষ্টা করে,তখন তারকাছে একটু অদল বদল রুটিনে হলেও ভালো থাকাটাই গুরুত্ব পায় শুধু।সেটার জন্য একশো একটা অশান্তিও চুপচাপ গিলে ফেলা যায়।

আমার শুধু একটা আপনিই চাই,এটা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে।অনেক কিছু পেয়ে ছুঁয়েও দেখেছি,কিছুই আপনার অভাব পুরন করতে পারেনি।জানেন,সকাল বেলার বাতাসটা গায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার সমস্ত চিন্তা হালকা হয়ে যায়,কেমন যেনো উড়তে ইচ্ছে করে।আপনি বিশ্বাস করেন,একটা সময় যখন ভোর পাঁচটায় উঠে সবকিছু গুছিয়ে ঘুমিয়ে থাকা বাচ্চাটাকেই কোলে করে কাজের জন্য বের হয়ে পড়তাম,তখনও আমার একই ফিল হতো।মনে হতো আমার একটা আপনি হয়ে গেলেই এ পথে আমি উড়বো।সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাচ্চাটা সামলেই যখন কাজ থেকে ফিরে আসতাম,তখন ওই রাতের রাস্তাটাকে ভালোবেসে ফেললাম।প্রত্যেকটাদিন একই চাওয়া চাইতে চাইতে ঘরে ফিরেছি,আমার আপনিটা চলে আসলেই রাতে আমি এপথে হাঁটবো।

আরেক জনের বাসায় থেকে ঘরে ফিরেই ক্লান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দেওয়া যায়না।ঘরে ফিরেই আরো দিগুন হাসি মুখে ঘরের জমে থাকা কাজগুলো করে সারা ঘর হৈ হৈ করে মাতিয়ে রাখতাম।যেনো তখনই দিন শুরু হলো।প্রতিটিদিনই ঘরে আমার সঙ্গে সঙ্গে উৎসব ফিরে আসতো।সেই তখনই শিখে গেলাম,ক্লান্তি আড়াল করে আগামী দিন ভোর পাঁচটায় জেগে উঠার টেনশন ভুলে রাত এগারোটা পর্যন্ত হাসতে হবে।বাসার সবাই ঘুমোলে দুঃখ্ বিলাস করার মতোন সময় আমার হতোনা, এগারোটা বাজলেই ঘুমে শরীরটা বিদ্রোহ শুরু করতো।তখন আমি ওতোটা কষ্ট কেন করতাম সেটার উত্তর তখনই জানতাম।

জানতাম আমি নিজের পায়েই দাঁড়িয়ে আছি,তবে সারাদিন রাত একটা আপনিকে খুঁজে পাওয়াটাই যেনো আমার উদ্দেশ্য ছিলো।আমার কাছে মনে হতো একটা মুক্তির নামই আপনি।যে আসলেই আমি তার কোলে মাথা রেখে বলবো,আমারনা ভারী কষ্ট হয়ে গেছে।যে আসলেই খুব রাগ করে বলবো,আমারও রাগের অনুভূতি আছে,ওই যে ওরা এতো এতো কথা শোনাতো আমি যে হাসতাম কিন্তু আমার রাগ হতো।আপনিটা আসলেই সারাদিন কাজ করে হেঁটে ঘরে ফেরা ফোলা পাটা আপনার গায়ে তুলে ঘুমিয়ে পড়বো।

আপনি আসলেই খুব যন্ত্রনা করলেও সারাদিন আপনার কাছে কাছেই ঘুরঘুর করবো।আমিতো চুপ থাকলে নিজেরই বিরক্ত লাগে,আপনাকে এতোএতো কথা বলেও কান ঝালাপালা করে ফেলবো।মাঝে মাঝেই আপনার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটে ঘুরতে বায়না ধরবো।আপনার একটু সময় হলেই হুটহাট অনেকটা দূরে চলে যাবো।আমার সারাদিন রাত ওই আপনি ছাড়া যেমন আর কিছু হয়না,আপনার সমস্তটা জুড়ে শুধু আমিই থাকবো।আপনি বিরক্ত হলে সাহস করে বলেই ফেলবো, আমিতো কতো যন্ত্রনা সহ্য করে বিরক্ত হয়েও এই যে বেঁচে ছিলাম আপনি আসবেন বলে।এসেছেন যখন বাকী জীবনটুকু আপনি নাহয় একটু বিরক্ত সহ্য করেন।

ছবি:গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com