আদনান খাসোগীর মৃত্যু

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জিলি ডুড

বিশ্বজুড়ে আলোচিত সমালোচিত হয়েছিলেন অস্ত্র ব্যবসার জন্য। তার কোষাগার পূর্ণ ছিল অবৈধ অর্থে। নারীসঙ্গ, বিলাস আর পৃথিবীর দেশে দেশে অস্ত্র ব্যবসা এই হয়ে উঠেছিল তার

সাবেক স্ত্রী সুরাইয়া

প্রধান পরিচয়। একদা পৃথিবীর সবচাইতে বড় প্রমোদতরীর মালিক ছিলেন, প্রচ্ছদের শিরোণাম হয়েছিলেন প্রখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে কুখ্যাত ‘কন্ট্রা’ কেলেঙ্কারীর সঙ্গে জড়িয়ে। তার নাম আদনান খাসোগী। নারী, অস্ত্র ব্যবসা আর অবৈধ বিত্তের পাহাড় গড়ে তোলা এই ব্যবসায়ী গতকাল লন্ডনে নিজের প্রাসাদসম বাড়িতে চিরতরে চোখ বন্ধ করলেন। বেশ অনেকদিন ধরেই পার্কিনসন্স রোগে ভুগছিলেন।  খাসোগীর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

কথিত আছে একদিনে খাসোগী ওড়াতেন এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ডলার।

সত্তর ও আশির দশকে গোটা পৃথিবী জুড়ে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিল এই সৌদি নাগরিকের নামে।জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে। আর এই বিতর্কের মূলে ছিল তার অস্ত্র ব্যবসা। ষাটের দশকের শুরুতে খাসোগী পর্দার আড়ালে থেকেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন অস্ত্র ব্যবসায় বিখ্যাত লকহিড কর্পোরেশনের(এখন লকহিড মার্টিন)সঙ্গে। নিজের দেশ সৌদি আরব ও আমেরিকার সমরাস্ত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দালাল হিসেবে কাজ করছিলেন খাসোগী। সেই তার যাত্রা শুরু। তারপর সত্তরের দশকে খাসোগী ফ্রান্স ও বৃটেনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে  ফ্রান্সের পক্ষ হয়ে বেশ কয়েকটি বড় সমরাস্ত্র কেনাকাটায় অংশ নেন। তার কোষাগারে জমা হয়ে যায় বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার গোপন কন্ট্রা কেলেঙ্কারিও খাসোগীর অপকান্ডের টুপিতে সবচাইতে উজ্জ্বল পালক।

আশির দশকে খাসোগীর কেনা ৮৬ মিটার লম্বা ইয়ট পত্র পত্রিকায় হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। বিশাল এই প্রমোদতরীটি ছিল তার রাতভর উন্মাতাল আনন্দ আয়োজনের কেন্দ্র। সমুদ্রের বুকে বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে মাঝে মাঝেই ভেসে যেতেন খাসোগী অজানার উদ্দেশ্যে।৮০ মিলিয়ন ডলারে কেনা  ‘নাবিলা’ নামে এই প্রমোদতরীটি বিখ্যাত জেমস বন্ড মুভি ‘নেভার সে নেভার এগেইন’-এর শ্যুটিংয়ে ব্যবহৃত হয়। মজার খবর হচ্ছে এক সময়ে তার বাণিজ্য সাম্রাজ্যের খানিকটা পতন ঘটলে খাসোগী মেয়ের নামে নাম রাখা ‘নাবিলা’ বিক্রি করে দেন ব্রুনাইয়ের সুলতানের কাছে। সুলতান আশির দশকেই এই প্রমোদতরীটি আবার বিক্রি করেন আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। নাবিলার দাম উঠেছিল ২৯ মিলিয়ন ডলার।

খাসোগীর সেই জাহাজ

খাসোগী খবরের শিরোণাম হন ১৯৮৭ সালে। প্রখ্যাত সাপ্তাহিক পত্রিকা টাইম তাদের প্রচ্ছদে তার ছবি ছেপে হেডলাইন করেছিল-“Those Shadowy Arms Traders: Adnan Khashoggi’s High Life and Flashy Deals”. ওই সময়ে খাসোগীকে কিছুদিনের জন্য জেলেও যেতে হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তৎকালীন ফিলিপাইনের স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ও তার স্ত্রী এমিলডা মার্কোসকে অবৈধ টাকা সরবরাহের। জেলে ঢুকেছিলেন খাসোগী ঠিকই কিন্তু সেখানে বসেও তার রাজকীয় চাল কমেনি। পত্রিকার পাতায় আবার খবর প্রকাশিত হয় জেলে বসেই খাসোগী প্রখ্যাত সুইজারহফ হোটেলের খাবার আনিয়ে খাচ্ছেন।

খাসোগী ও সুরাইয়া

অবৈধ কর্মকান্ড যেন খাসোগীর সঙ্গে ছায়ার মতো জড়িয়ে ছিল। ১৯৮৬ সালে নিজের ব্যক্তিগত বিমানে করে খাসোগী ৩৭ টি বিখ্যাত চিত্রকর্ম আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গা থেকে পাচার করেছিলেন ফ্রান্সে। মামলাও হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ১৯৯৭ সালে প্যারিসের একটি কোর্ট তাকে এই মামলায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ফাইন করে।

আদনান খাসোগী আলোচিত হয়েছিলেন তার নারী প্রীতির জন্যও। বিয়ে করেছিলেন সুরাইয়া নামে এক নারীকে। সুন্দরী সুরাইয়ার প্রণয় প্রার্থী ছিল বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু সুরাইয়া আটকে গেলেন খাসোগীর জালে।সুরাইয়া খাসোগীর অপরিমিত বিত্তের দাপটে নিজেই তিনটি ছোট বিমানের মালিক বনে গিয়েছিলেন। নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছিলেন ১৭টি বাড়ি আর তিনটি ইয়ট। ওই সময়ে খাসোগীর স্ত্রী হওয়ার কল্যাণে তার বন্ধু হয়েছিল অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেইলর, গায়ক কাম অভিনেতা ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা।

সুরাইয়ার সঙ্গে অবশ্য পরে খাসোগীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের সংসারে রয়েছে পাঁচ সন্তান।

কিন্তু শুধু সুরাইয়া কেন খাসোগীর বিত্ত বৈভবের জালে আটকে পড়েছিল আরো অনেক সুন্দরী নারী। তাদের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত হয়েছিলেন মার্কিন মডেল জিলি ডুড। ডুডকে খাসোগী তার প্রমোদ স্ত্রী বানিয়ে রেখেছিলেন বহুদিন। সেসব কাহিনি ডুড সম্প্রতি প্রকাশিত আত্নজীবনী ‘কারেন্সি অফ লাভ’-এ লিখেছেন। এখন ৫৭ বছরে পৌঁছানো ডুড বইতে তার সেই রক্ষিতা জীবনের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আদনান আমাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে দেখতো। এসময় সে আমার মুখ তার দুহাতে ধরে রাখতো’।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ডেইলি মেইল, গার্ডিয়ান

ছবিঃ গুগল    

 

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com