আটলান্টিকের তীরে…পর্ব-পাঁচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দীপারুণ ভট্টাচার্য্য

অর্থই অনর্থের মূল:

বাংলা প্রবাদটি সকলেরই জানা তবে অর্থ কখন যে অর্থবহ হবে সেটা ভাবলে মাঝে মধ্যে বেশ অবাক লাগে। যেমন আমার ফরেক্স ব্যাগে থাকা বেশ কয়েক হাজার নাইরা বা বাংলাদেশি টাকা অর্থহীন এই দিল্লি শহরে কিন্তু ডলার গুলি সম্পূর্ণ অর্থপূর্ণ যেকোনো দেশেই। তবে নাইজেরিয়াতে ডলারের কালো বাজারি বুঝতে সময় লেগে গেল বেশ কয়েকদিন।

প্রথম দিন ৪০০ ডলার ভাঙিয়ে ছিলাম। তারপরে আরো কয়েকশো ডলার ভাঙ্গালাম ক্ষেপে ক্ষেপে। হোটেল ডলার নিচ্ছে ৩৪৫ নাইরাতে। ব্যাংক দিচ্ছে ৩৫০ আর ব্ল্যাক মার্কেটে ৩৭৫-৩৮০ নাইরা। এমন পার্থক্য কেন? আসলে তেলই একমাত্র এ দেশ থেকে রপ্তানি হয়। বাকি সব কিছুই আমদানি করতে হয় এদের। ভূগর্ভস্থ তেলকে বলে ক্রুড। ক্রুড থেকে পরিশোধনাগার তৈরি করে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, ন্যাপথা বা অন্য পেট্রোলিয়াম দ্রব্য। এখানে পরিশোধনাগার তৈরি করতে পারে মাত্র ২০% পেট্রোলিয়াম দ্রব্য। তাই ক্রুড বিক্রি করে এদের কিনতে হয় ঘরোয়া ব্যাবহারের ৮০% পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি। তাই নাইরার দাম বাড়তে বাধ্য।

শুনলাম বছর কয়েক আগে যখন ক্রুডের দাম উঠেছিলো প্রায় $১৩০ প্রতি ব্যারেল তখন নাইরার দাম হয়েছিল ১৯৩ প্রতি ডলার। আর যখন ক্রুডের দাম ব্যারেল পিছু $৩৬-৩৭ এ নেমে আসে তখন ডলার পিছু নাইরা নামে ৫০০তে। তারপর বর্তমান সরকার নেয় অনেকগুলি সাহসী পদক্ষেপ। দেশের মানুষের কাছে ডলার এখন আর ততটা সহজলভ্য নয়। কাজেই ডলারের অপচয় কমেছে অনেক অংশেই। তবে সাথে সাথে বেড়েছে ডলারের কালোবাজারি। আমাদের থেকে যারা ৩৭৫-৩৮০ নাইরাতে ডলার কিনলো তারা সেটা বিক্রি করবে হয়তো ৪০০ তে। কিন্তু কিনবে কারা? কেনার লোকের অভাব নেই। আপাপা পোর্টে বার্থ পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে জাহাজ গুলো। তারাই আনে বিভিন্ন জিনিস পত্র। সমুদ্রের বুকে কেনা বেচা চলে শুল্কহীন ডলারে।

রাত্রিসুখ:

আগে বুঝিনি। চোখে পড়ল শুক্রবার বিকালের পর থেকে। যাওয়ার আগে একজন বলেছিলো নাইজেরিয়াতে দেহ ব্যবসা চলে প্রবল ভাবে। হোটেলের বাইরে তারা দাঁড়িয়ে থাকেন ইত্যাদি। WHO এর রিপোর্টও বলছে HIV আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নাইজেরিয়াতে ৩.৫% যা দ্বিতীয় বৃহত্তম। তবে এখানে এসে মনে হয়েছিলো অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ধারনাটা পাল্টে গেল শুক্রবার বিকালে পর থেকে। একের পর এক মহিলার আসছেন হোটেলের লবিতে। ফোন করে রুম নম্বর নিচ্ছেন আর চলে যাচ্ছেন।

শনিবার দুপুরের পর দেখলাম একই অবস্থা। আমরা তখন লবিতে অপেক্ষা করছিলাম। ড্রাইভের এলে একটু বাজার দোকান ঘুরে দেখবো বলে। বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল। খানিকক্ষণ পর জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম এক হোটেল কর্মীকে, do you have this type of footfall every weekend? লোকটি বুঝলো কি জানতে চাইছি। একটু থেমে বলল, actually  people want to spend quality time with local friends in the weekend. বুঝলাম এই ভালো সময় কাটাতে দেওয়ার ব্যাপারে হোটেলেও মদত হয়েছে সুস্পষ্ট ভাবে।

আমাদের ড্রাইভার কোলে এসে পড়েছে তখন। বাকিদের ডাকতে লবিতে এসে দেখি সাদা গাউন পরা একটি বছর ৪-৫এর মেয়ে সোফার এক পাশে বসে আছে চুপটি করে। তার চোখের চাহনি এত মিষ্টি মনে হয় এখুনি আদর করি। কিন্তু বিদেশে বিপদজনক হতে পারে সাধারণ ব্যাবহারও। তাই দূর থেকে শুধু হাত নেড়ে বললাম, hello, how are you? সেও মিষ্টি করে হাত নেড়ে বলল, fine. বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সিকিউরিটির লোকটি জানতে চাইলো, শিশুটি আমার কেউ হয় কিনা। বিব্রত হয়ে মানা করলাম। সেও তখন বিব্রত। বলল, অনেক্ষন থেকে একা বসে আছে তো তাই, ঠিক আছে আপনি আসুন।

মহিলা সিকিউরিটির কর্মীটি বিভ্রান্তি কাটালেন এই বলে, মেয়েটির মা আমাকে বলে গিয়েছেন। এবার লোকটি প্রশ্ন করলো, ওর মা কোথায়? অপ্রত্যাশিত উত্তর দিলেন মহিলা সিকিউরিটির কর্মী, she went to meet her friend in upstairs.

হঠাৎ থমকে গেলাম। ড্রাইভার কোলের ডাকে এগোলাম গাড়ির দিকে। মনে মনে মঙ্গলময় ঈশ্বরকে বললাম, এই শিশুর ভবিষ্যৎ তুমি সুরক্ষিত করো।

নমস্তে রিটার্ন:

সাধারণত আন্তর্জাতিক বিমানে উঠতে গেলে ঘন্টা তিনেক আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানো উচিৎ। আমাদেরও তাই প্ল্যান ছিলো। হোটেলের লোকেরা মানা করলো। এতো আগে গেলে নাকি বিরক্তি ছাড়া কিছুই মিলবে না। প্রায় দুই ঘন্টা আগে পৌঁছেও অভিজ্ঞতার তেমন তারতম্য হলোনা। সে কথা বলার আগে নাইজেরিয়ার ঘরোয়া বিমানের অভিজ্ঞতা আলোচনা করা যাক।

আমাদের যাওয়ার ছিলো লেগস থেকে আবুজা। প্রায় ৭৫০কিমি পথ। আবুজা সে দেশের রাজধানী। Make my trip বলল যাতায়াত ভাড়া ভারতীয় মুদ্রাতে প্রায় ২০ হাজার। অনেক বেশি মনে হলো ভাড়াটা।

এরিক, দানা এয়ার, এটলাস, হান এয়ার ইত্যাদি সেদেশের ঘরোয়া বিমান কোম্পানী। তাদের ওয়েবসাইটে ভাড়া ৪৫-৫০ হাজার নাইরা। মানে আমাদের ৮-৯ হাজার। কিন্তু সমস্যা হলো, আন্তর্জাতিক কার্ড চলেনা সেখানে। অগত্যা গেব্রিয়ালই তার ব্যক্তিগত কার্ড ব্যবহার করে সবার টিকিট কেটে দিলো। এরিক এয়ার, মাথাপিছু ৪৬,১১৭ নাইরা তে যাতায়াত।

ভোরবেলা বিমান বন্দরে পৌঁছে দেখলাম অবস্থা আধুনিক বাস স্ট্যান্ডের থেকেও শোচনীয়। এরিক, পর পর চার পাঁচটা বিমান ছাড়বে লেগস থেকে আবুজার জন্য। হাতে লেখা বোর্ডিংপাস; খাতা দেখে সিট দেবার পদ্ধতি; ইত্যাদি বিষয় গুলো বেশ অস্বস্তিকর। মনে হয়, পৌঁছাবে তো এই বিমান! কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া বিমানে যশোর থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম। খানিকটা দেরি হওয়া ছাড়া অভিজ্ঞতা ভালোই ছিলো। নাইজেরিয়াতে তা নয় আদৌ। বোর্ডিং কার্ড নেওয়ার কাউন্টারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মানুষ। ব্যাগ ওজন করা একজায়গাতে, X-Ray অন্য কোথাও। লোডিং আবার আর এক জায়গাতে। এর সব কিছুই আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে তদারকি করতে হবে। তবে আপনি এই বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতেই পারেন। যদি আপনি বিমান কোম্পানীর কোনো কর্মীকে মাত্র ৫০০ নাইরা উৎকোচ দিতে রাজি থাকেন। তবে সে আপনাকে রাজকীয় মর্যাদাতে বিমানে তুলে দেবে। নইলে পদে পদে নমস্তে; এমনকি শৌচাগারে পর্যন্ত। আমরা উৎকোচ না দিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে মন দিলাম।

শেষে বিমানে ওঠার আগে তারা বলল, নিজের ব্যাগ Identify করুন। দেখলাম সিঁড়ির পাশে ব্যাগ গুলো রাখা আছে সার বেঁধে। আপনি দেখিয়ে দিলে তবে আপনার ব্যাগ বিমানে উঠবে। কিন্তু এমন ব্যাবস্থা কেন? বিষয়টা পরিষ্কার হলো বিমানে ওঠার পর। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর শুনলাম বিমান সেবিকার সঙ্গে কারও কথা হচ্ছে। সেবিকা দিদি বেশ গলা তুলেই বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ তিনটে সিট এখনও খালি আছে, পাঠিয়ে দিন। আপনি কোন বিমানে যাবেন সেটা যদি শেষ মুহূর্তে ঠিক হয় তবে, ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে ব্যাগ চিহ্নিত করাই তো স্বাভাবিক; তাই না!

যাই হোক, এবার ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করা যাক। ট্যাক্সি থেকে নামতেই আমাদের ছিনে জোঁকের মতো চেপে ধরলো সিকিউরিটির লোক। দাবি, নমস্তে রিটার্ন । আমরা সাফ বলে দিলাম, সব নাইরা শেষ। প্রায় ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতে হলো। নাইজেরিয়ার বর্তমান ফেডারেল প্রেসিডেন্ট আন্তরিক চেষ্টা করছেন যাতে দুর্নীতি দূর করা যায়। ভিন্য ভিন্য জায়গাতে লেখা রয়েছে, “Together we can stop corruption”. কিন্তু দুর্নীতির ভূত তাড়ানো এতো সহজ নয়। ঋষি বললো কিছু নাইরা আলাদা করে রাখতে। দুটো পাঁচশো আর তিনটে পঞ্চাশ নাইরার নোট রাখলাম বুক পকেটে।

বিমান কোম্পানীকে ব্যাগ দেবার আগেই তা খুলে দেখবেন নাইজেরিয়া কাস্টমস। একটা টেবিলের ওপাশে পর পর চারজন দাঁড়িয়ে, দুই মহিলা দুই পুরুষ। অন্য দিক দিয়ে লোকেরা চলেছেন ব্যাগ খুলতে খুলতে। লাইন এগোচ্ছে খুব ধীরে ধীরে। প্রথম মহিলা আমাকে ব্যাগ খুলতে বললেন। খুলে দিতেই প্রশ্ন করলেন, মদ বা সিগারেট এনেছেন কি? আসলে নাইজেরিয়াতে মদ ও সিগারেটের দাম অত্যন্ত কম। ২৫০ নাইরা তে বিয়ার, ১০০০ নাইরা তে ওয়াইন ও ৫০০০ নাইরাতে    পেয়ে যাবেন ভালো স্কচ। প্রিমিয়াম সিগারেটের প্যাকেট পাবেন ৩০০ নাইরাতেই। এই দাম নাইজেরিয়ার ডিউটি ফ্রী এর ও অর্ধেক।

আমি বললাম, আমার কাছে মদ বা সিগারেট নেই ম্যাডাম। উত্তর এলো, then give me some money. ঋষি চোখের ইশারা করতেই আমি ৫০০ দিলাম। তিনি একগাল হেঁসে ব্যাগ সরিয়ে দিলেন। এবার কি তবে যেতে পারি? ইশারার বললেন পাশের জন দেখবেন। তিনি ব্যাগটা তার ডান পাশের মহিলার দিকে ঠেলে দিলেন। এই মহিলাও ব্যাগ সরিয়ে দিলেন তার ডান পাশে দাঁড়ানো শেষ পুরুষ কাস্টমস অফিসারের দিকে। মনে হলো এবার নিস্তার পাবো বুঝি! কিন্তু বিধি বাম, তিনি ব্যাগ খুলে সেই কাঠের জিনিষ গুলো বার করলেন, যেগুলো এনেছি নাইজেরিয়ার স্মৃতি হিসাবে। জানতে চাইলেন এগুলোর বিল আছে কিনা। আমি বললাম, ফুটপাথ থেকে কেনা হস্তশিল্প দ্রব্যের বিল হয়না। তিনি বললে, তুমি যে আমাদের দেশের এন্টিক বস্তু নিয়ে পালাচ্ছো না তার কি প্রমান? তুমি ওই অফিসে গিয়ে কথা বলো।

মহাবিপদ। তখন মাত্র দেড় ঘণ্টা বাকি। পকেটে রাখা ৬৫০ নাইরা এগিয়ে দিলাম তার দিকে। তিনি ৫০০০ দাবি করলেন। আমি তাকে বললাম, Allow me officer, I will remember your country forever. তবুও তিনি নারাজ। হয় ৫০০০ দাও নইলে এসব রেখে রাও। ঋষি বলল, ১০০০ নাইরার জিনিস নেবার জন্য ৫০০০ নাইরা দেওয়া বোকামি হবে দীপারুণ, তুমি আমাদের ড্রাইভারকে ডেকে জিনিস গুলো অফিসেই ফেরত পাঠাও। পরে দেখা যাবে কি হয়!

কথাটায় যে কাজ হলো তা বুঝলাম। লোকটি জানতে চাইলেন আমি আর কাউকে নাইরা দিয়েছি কিনা। আমি প্রথম মহিলার দিকে আঙ্গুল তুললাম। তিনি বললে, ওকে কেন দিয়েছো? যাও ওর থেকে এনে আমাকে দাও! কি বিড়ম্বনা। এবার আমি বেশ রেগেই বললাম,That you can settle internally. এবার ওই মহিলার সাথে এই লোকটির কথা কাটাকাটি শুরু হলো। আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি টাকাটা এগিয়ে দিলাম আবার। তিনি ৫০০ এর নোটটা পকেটে রেখে বাকি তিনটে পঞ্চাশ তাচ্ছিল্য ভরে ফেরত দিলেন। বেশ হুমকির স্বরে বললেন, যাও আগে যাও।

বিমান কোম্পানীকে ব্যাগ দেবার পর ইমিগ্রেশন, সিকিউরিটি মিলিয়ে প্রায় চার জায়গাতে টাকা চাইলো। সবাইকে বললাম সব খরচ হয়ে গেছে, আপনার কাছে আসার আগেই! আসার সময় হোটেল থেকে আমাদের প্রাতরাশ প্যাক করে দিয়েছিলো। আমি আর নন্দ লাল একটা থেকে খেয়ে অন্যটা দিয়েছি ড্রাইভের কে। ঋষির প্যাকেটটা হাতেই ছিলো। সিকিউরিটি মহিলা জানতে চাইলেন, কি এটা? ঋষি বলল, my breakfast. তিনি বললেন, your breakfast is fine, but what about our breakfast? আমি হলে প্যাকেট টা হাতে দিয়ে বলতাম, you may have it, on my behalf. ঋষি ৫০০ নাইরা ধরিয়ে এগিয়ে গেলো। 

বিমানে ওঠার মুখে দেখলাম চেক হচ্ছে কেবিন ব্যাগ। ব্যাগ থেকে নাইরা, ডলার সব বার করে পকেটে রাখলাম। আবার সেই উত্তর, কিছু নেই! লোকটি বলল, এটা হতে পারে যে আপনার কাছে কিছুই নেই? বললাম, yes, I have one credit card. Do you need that? উত্তর শুনেই লোকটি রাস্তা ছাড়লো। এবার আবার দেহ পরীক্ষা। তৎপরতার সঙ্গে টাকাটা পকেট থেকে ব্যাগ এ চালান করে, নিতাই হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। মিনিট খানিক পরে বিমানে উঠে তবে পড়লো এক শান্তির নিঃশ্বাস। পাশে বসা ঋষির দিকে তাকাতেই সে বলল, অভিজ্ঞতা তো সবই হলো। নিশ্চই এরপরের বার তুমি একাই আসতে পারবে? আমি চুপ করে রইলাম। এ প্রশ্নের উত্তর এখুনি না দিলেও চলবে।

শেষ কথা:

সপ্তাহ খানেকের ভ্রমণে নাইজেরিয়া দেশটা সম্পর্কে এতোটা অভিজ্ঞতা হবে আশা করিনি। আসলে পার্থক্য এতটাই বেশি যে প্রায় সব কিছুই অন্য রকম লেগেছে। আর তার মধ্যে থেকে যথা সম্ভব অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করেছি। এই লেখা দেশটা সম্পর্কে কতটা ধারণা দিলো জানিনা,কেননা অনন্তকে খন্ড করে দেখা সম্ভব নয়। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে,  নবীন এই দেশটি কিছুটা সময় ও উপযুক্ত নেতৃত্ব পেলে আগামী দিনে বিশ্বের দরবারে নিজেকে তুলে ধরতে পারবে সঠিকভাবে। খুলতে পারবে অপার সম্ভাবনার বিশ্ব দুয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক ও চিন্তাবিদ Kabelo Selekolo এর এক সুন্দর কথা দিয়ে শেষ করবো এই লেখা।

” Success is a lifetime trip, an endless journey; you cannot reach the destination but can only enjoy a trip!”

নাইজেরিয়া trip উপভোগ করে এসেছি আমি। এ লেখার মধ্যে দিয়ে সে আভাস যদি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি তবেই এই পরিশ্রম সার্থক।

ছবি: লেখক

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com