আজ জিপিএ-৫ পাওনি…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ইকবাল বাহার (উদ্যোক্তা)

জিপিএ-৫ না পাওয়াটা সফলতার প্রথম ধাপ, টারনিং পয়েন্টও বলতে পারো। যারা আজ জিপিএ-৫ পাওনি বা ফেল করেছ আজ রাতে ফুল ভলুউমে গান বাজাও ২ ঘণ্টা, তারপর সারা রাত ভাবো……নিজের সঙ্গে কথা বল – কেন রেজাল্ট খারাপ হল? বাবা-মায়ের কথা শুননি? মা-বাবাকে কোন কষ্ট দিয়েছ? তুমি কি কি ফাঁকি দিয়েছ নিজের সঙ্গে? কেউ কখনো অন্যকে ফাঁকি দিতে পারে না, ফাঁকি দেয় নিজেকে। বাবা-মাকে সালাম করে আবার নতুন করে কাল সকাল থেকেই শুরু কর…… থেমে যেওনা ততক্ষণ যতক্ষণ কেউ বলেও তোমাকে থামাতে না পারে। পড়াশুনার পাশাপাশি জানার চেষ্টা কর অনেক বেশী। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখ, সবার ফোন নাম্বার একটা নোট বুকে লিখে রাখ। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি ঐরকম ১২ ডজন জিপিএ-৫ তোমার অফিসে কাজ করবে একদিন। আজকের ফলাফলকে জীবনের শেষ পরীক্ষা ভেবো না। জীবনের পরীক্ষা তো সবে শুরু,২য় ধাপে তুমি, আরো অসংখ্য সুযোগ পড়ে আছে তোমার জীবনে। বাবা-মাদে’র বলছি এই মুহূর্তে আপনাদের সন্তানদের কাছে টেনে নেয়া ও অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশী দরকার। কোন অবস্থাতেই রেজাল্ট নিয়ে কিছু বলা যাবে না – তাকে সাহায্য করুন যাতে সে তার ভুলগুলো ধরতে পারে। যারা ভালো  করেছে তাদের অভিনন্দন, তোমাদের মা-বাবাকেও অভিনন্দন, তোমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে। থেমে যাবে না এটাই শুরু – ভালো কলেজে ভর্তি হতে না পারলেও হতাশ হবে না। মনে রাখবে সবসময় ভালো কিছু অপেক্ষা করছে তোমার জন্য, নিজের ভালোটা খুঁজে নিতে হবে আর লেগে থাকতে হবে তা না পাওয়া পর্যন্ত। আমি আমার জীবনে উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল করেছিলাম – চারিদিকে একটাই আলোড়ন “আমাকে দিয়ে কিছু হবে না”, আমি নষ্ট হয়ে গেছি। অনেক কষ্ট করে নিজেকে সামাল দিয়েছিলাম দ্বিতীয়বারে দ্বিতীয় বিভাগ পেয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন ছিল, অ্যাডমিসান টেস্ট দেবার নাম্বারই পাইনি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাইনি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতেও না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অথবা জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতেও ভর্তি হবার সুযোগ পাইনি। ভর্তি হয়েছিলাম তিতুমীর কলেজে বি.কম (পাস)। যথারীতি সবাই বলা শুরু করলো আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু ততদিনে আমি আমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছি। আমি জানি আমি কি করছি এবং আমি জানি আমাকে কোথায় কতদূর যেতে হবে। সে লক্ষ্য অর্জনে আমি সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলাম। বি.কম পরীক্ষায়ও দ্বিতীয় ডিভিসান পেলাম। কিন্তু আমি খুশি ছিলাম কারণ জীবনে প্রথম বাণিজ্য বিভাগে পড়লাম বিজ্ঞান থেকে। তারপর শুধুই এগিয়ে চলা -এম.কম, সিএ, এমবিএ সবই পড়লাম কিন্তু সবসময় সেই দ্বিতীয় বিভাগে পাশ। কিন্তু আমার কোন দুঃখ ছিল না কারণ ততদিনে আমি বাইরের জগতের তথা দুনিয়ার কোথায় কি হচ্ছে তা জানার ও শেখার আগ্রহ নিজের মাঝে তৈরি করে ফেলেছি। আমি তৈরি ছিলাম যেকোন কষ্ট স্বীকার করার, নির্ঘুম পরিশ্রম করার ও নিজেকে বদলে ফেলার। ঠিক করে ফেলেছিলাম চাকরী করবো না, চাকরী সৃষ্টি করবো। জীবনে সফলতা মানে বাড়ি, গাড়ী ও টাকা নয়, সফলতা মানে সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সম্পদ আর একজন ভালোমানুষ। আজ আমি ১৪০ টি পরিবারের হাসিমুখ প্রতিদিন দেখতে পাই – এটাই আমার কাছে সফলতা।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com