আজ জন এফ কেনেডির ১০০তম জন্মদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কেনেডি যে বছর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, সেই ১৯৬০ সাল হল বদলে যেতে থাকা এক সময়ের সূচনা কাল। আফ্রিকার এক গুচ্ছ ছোট ছোট দেশ সবেমাত্র ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। কমনওয়েলথ জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে স্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তখন ব্যাপক গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। এ দিকে মার্কিন পেশাদার বক্সিংয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে কেন্টাকি থেকে আসা ১৮ বছরের এক কালো তরুণ ক্যাসিয়াস ক্লে(মোহাম্মদ আলী)। সেই বছরই রোম অলিম্পিকে লাইট হেভিওয়েট বক্সিংয়ে সোনা জিতে নেন আলী। অন্যদিকে ‘‌প্লেবয়’–‌খ্যাত হিউ হেফনার শিকাগোয় খুলছেন আমেরিকার প্রথম প্লেবয় ক্লাব। মেয়েদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে গর্ভনিরোধক বটিকা। ওই একই সময়ে ৩২ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর ইংল্যান্ডে মুক্তি পাচ্ছে ডি এইচ লরেন্স-এর লেখা ‘‌লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার’‌। আর সে বছরই লিভারপুলে গুটিকয় তরুণ মিলে তৈরি করছে গানের দল ‘‌বিটল্‌স’‌। পল ম্যাকার্টনি তখন সদ্য ১৭, জর্জ হ্যারিসন ১৬, আর জন লেনন ১৯-এ

এমনি এক অদ্ভূত উন্মাতাল সময়ে বিশ্বজুড়ে রাজনীতির দুনিয়ায় আলোচিত মানুশষ জন এফ কেনেডি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।রাজনীতির ময়দানে বেশী পরিচিত জেএফকে হিসেবেই। এই আলোচিত মানুষটি জন্ম নিয়েছিলেন ১৯১৭ সালের ২৯ মে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে। আততায়ীর গুলি তাঁর প্রাণসংহার না করলে আজ ১০০ বছরে পা রাখতেন তিনি। তার জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধা।

১৯৬০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি তৎকালিন উপ-রাষ্ট্রপতি এবং রিপাবলিকান প্রাথী রিচার্ড নিক্সনকে পরাজিত করেন তিনি। আমেরিকার আরেক প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ডের পর দেশটির দ্বিতীয় কনিষ্টতম রাষ্ট্রপতি, বিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেয়া প্রথম রাষ্ট্রপতি, এবং সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।  কেনেডি একমাত্র আমেরিকান রাষ্ট্রপতি যিনি পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর কেনেডি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। লি হার্ভি অসওয়াল্ডকে এই ঘটনার জন্য অভি্যুক্ত করা হয়। কিন্তু তার বিচার হয়নি কারণ দুইদিন পরেই জ্যাক রুবি নামক একজনের গুলিতে হার্ভি নিহত হয় এফবিআই, ওয়ারেন কমিশন এবং হাউস সিলেক্ট কমিটি তদন্ত অনুসারে অসওয়াল্ডই ছিল কেনেডির আততায়ী।

আমেরিকার দ্বিতীয় কোনও প্রেসিডেন্ট এ ভাবে সিআইএ-র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা নেই। জনশ্রুতি, সেই বিরোধের পরিণতিই কেনেডি–হত্যা। তদন্তে যদিও প্রমাণ হয়েছিল ঘাতক লি হার্ভে অসওয়াল্ড একা ছিল, তার পাশে বা পিছনে কেউ ছিল না, কিন্তু আমেরিকার এক বড় অংশ সে কথা বিশ্বাস করেনি। মামলা চলাকালীন অসওয়াল্ড খুন হয়ে যাওয়ায় সেই সন্দেহ আরও জোরদার হয়। ফলে কেনেডি–হত্যা এখনও রহস্যই থেকে গেছে।

এখনও তা নিয়ে বই লেখা হয়, সিনেমা তৈরি হয়। আর বহু লক্ষ বার দেখা হয় সেই ভিডিয়ো ফুটেজ। মাথায় গুলি লাগার ঠিক আগের মুহূর্তে, হুডখোলা লিমুজিনে বসে রাস্তার দু’‌পাশে ঝাঁক বেঁধে থাকা মানুষের দিকে হাসিমুখে হাত নাড়ছেন কেনেডি। পাশে বসা হাসিখুশি ‘‌ফার্স্ট লেডি’‌ জ্যাকলিন। ইতিহাস বলে, অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন ছাড়া আর কোনও প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে এত কাঁদেনি আমেরিকা!

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com