আগাথা ক্রিস্টির যত কথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আগাথা ক্রিস্টি রহস্য কাহিনির দুনিয়ায় যেন এক সম্রাজ্ঞী। তাঁর তৈরী গোয়েন্দা হারকুল পয়রো

(ফরাসী উচ্চারণে এঁরকুল পয়রো) তো গোটা বিশ্বে গোয়েন্দা সাহিত্যের পাঠকদের মুগ্ধ করে রেখেছে বহুযুগ ধরে। এই চরিত্রটির আবেদন একসময় পাঠকের কাছে এতোটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছিল যে ১৯৭৫ সালে ক্রিস্টির শেষ উপন্যাস ছাপা হওয়ার পর নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা তাদের পৃষ্ঠায় শোক সংবাদ প্রকাশ করেছিল।
কিন্তু গোয়েন্দা কাহিনির এই নারী লেখকের ব্যক্তিগত জীবনও তার গোয়েন্দা গল্পের মতোই নানান খামখেয়ালী ঘটনায় পরিপূর্ণ। আগাথা ক্রিস্টির গল্পের অনেক পাঠকই জানেন না যে এই মহিলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে কাজ করতেন একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে। সেখানে তিনি ওষুধপত্র ঘাটাঘাটি করতে করতে বিষের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে অনেক লেখাপড়া করেন। কিন্তু এই কৌতুহলের কোন কারণ পাওয়া যায় নি।

কিশোরী আগাথা ক্রিস্টি

বই বিক্রির ব্যাপারেও ক্রিস্টি পৃথিবীর অনান্য লেখকদের চাইতে এগিয়ে আছেন । বিশ্বজুড়ে তার বই কয়েক লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে। মহিলা লেখকদের তালিকায় তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক নম্বর অবস্থানে। সাহিত্য মহলের অনেকে বলেন ক্রিস্টির বই বিক্রির সঙ্গে একমাত্র শেক্সপীয়ারের বই বিক্রির তুলনা করা চলে।
আগাথা ক্রিস্টির কুকুর পোষার বাতিকটা ছিল মারাত্বক। তাঁর প্রথম পোষা কুকুরটির প্রজাতি ছিল টেরিয়ার। নাম রেখেছিলেন ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটন মারা যাবার পর এই লেখিকা আরেকটি টেরিয়ার পুষতে শুরু করেন। পিটার নামে এই কুকুরটির উল্লেখ আছে তাঁর ‘ডাম্ব উইটনেস’ উপন্যাসে। সেখানে তিনি কুকুর চরিত্রের নাম রেখেছিলেন পিটার। এই পিটারকেই পরে তিনি বইটি উৎসর্গ করেন।
ক্রিস্টি শখের ফটোগ্রাফিও করতেন। ১৯৩০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক ম্যাক্স ম্যালওয়ানকে বিয়ে করার পর স্বামীর বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রীর ছবি তুলতে শুরু করেন তিনি। এভাবেই আস্তে আস্তে ছবি তোলার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এই গোয়েন্দা কাহিনি লিখিয়ে। তাঁর স্বামী ওই সময়ে প্রকল্পের কাজ করতে যেতেন আফ্রিকা, সিরিয়া আর ইরাকে। পরে

হারকুল পয়রো

নিজের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ডেথ ইন দ্যা নাইল’, ‘মার্ডার অন দ্যা ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’, ও মার্ডার ইন দ্যা মেসোপটেমিয়ায় তার এসব দেশ ভ্রমণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করেছে।
আগাথা ক্রিস্টির প্রখ্যাত গোয়েন্দা হারকুল পয়রোর জন্ম নিয়েও গল্প প্রচলিত আছে। প্রথম জীবনে আগাথা ক্রিস্টি ছোট বোন ম্যাগির সঙ্গে বাজি ধরে লিখতে শুরু করেছিলেন গোয়েন্দা কাহিনি। তখনও এই গোয়েন্দা চরিত্রের খোঁজ তিনি পান নি। একদিন যুদ্ধ বিধ্বস্ত বেলজিয়াম থেকে আসা একদল শরনার্থীর সঙ্গে তিনি দেখতে পান ছোটখাট এক মানুষকে। আচমকা আগাথা ক্রিস্টির মনে হলো তিনি তাঁর গোয়েন্দাকে পেয়ে গেছেন। সেই ছোটখাট মানুষটির কথা মাথায় রেখেই ক্রিস্টি জন্ম দিয়েছিলেন গোয়েন্দা হারকুল পয়রোর।
গোয়েন্দা প্রবর হারকুল পয়রো স্যার আর্থার কোনান ডয়েল সৃষ্ট বিখ্যাত শার্লক হোমস চরিত্রটির চাইতে কোন অংশে কম নয়। তার ধারালো বুদ্ধির ছুরি অনায়াশে ভেদ করে ফেলে যে কোন রহস্যের জটাজাল। কিন্তু এহেন পয়রো চরিত্রটিকে ১৯৪০ সালেই খতম করে দিতে চেয়েছিলেন আগাথা ক্রিস্টি। ‘কার্টেন’ উপন্যাসে মেরে ফেলেছিলেন এই গোয়েন্দাকে। কিন্তু উপন্যাসটি তিনি পরিবারের সদস্য আর প্রকাশকদের চাপে আর প্রকাশ করতে পারেন নি। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পয়রোর মৃত্যুর গল্প আলমারিতেই বন্দী হয়ে থাকে। ওই বছর উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে নিউইয়র্ক টাইমসে পয়রোর নামে শোক সংবাদও ছাপা হয়।
আগাথা ক্রস্টি সম্পর্কে শেষ খবরটিও বেশ চমকপ্রদ। এই খ্যাতিমান লেখিকা প্রথাগত কোন শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। বলা যায় অনেকটা নিজের চেষ্টায় তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ ক্ষেত্রে বাবার গ্রন্থাগারের বইগুলো তাকে সাহায্য করেছিলো।
আগাথা ক্রিস্টি ১৯৭৬ সালের ১২ জানুয়ারী ইংল্যান্ডে মারা যান।

মনসুর রহমান
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি কালচার
ছবিঃ গুগল 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com