আইসিসি ক্রিকেট সাম্প্রতিক ভাবনা এবং ক্রিকেটের বিজয়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল হোসেন

আইসিসি নিয়ে বর্তমান সময়ের আলাপে মুদ্রার দুইটা পিঠ। এক, আমি কাকে সমর্থন করি আর কাকে করি না। দুই, কোনো খেলায় আমি কার জয় কামনা করি। এক নম্বরের কথায় আসি। আমার প্রথম প্রেম ওয়েস্ট ইণ্ডিজ। ক্যাডেট কলেজে থাকতে কম্বল মুড়ি দিয়ে জিমনেশিয়ামে গিয়েছিলাম তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পেছনে লুকিয়ে ওয়েস্ট ইণ্ডিজের খেলা দেখার জন্য। এখনো ওয়েস্ট ইণ্ডিজের ক্রিকেট সাফল্য আমাকে উদ্বেলিত করে। যদিও সেই লারার একা লড়ে অন্য প্রান্তে ওয়ালশ এম্ব্রোজকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখানোর পর সেই আনন্দ আর পেয়েছি কেবল গ্যনগ্যাম সেলিব্রেশনের সময়।

এর পর আমার ভালোবাসা সাউথ আফ্রিকার জন্য। এখানে অনেকের সাথে নিশ্চয়ই আমার মিলে যাবে একটা যুক্তি। খেলা ও রাজনীতির সম্পৃক্ততার বিপক্ষে যাবার স্বাভাবিকতাকে ডিঙিয়ে আমার মত। আমি রাজনৈতিক কারণে সাউথ আফ্রিকাকে সমর্থন করি। বর্ণ বৈষম্যের শিকার না হলে বিশ্ব ক্রিকেট আরো তারকার দেখা পেতো এদের থেকে। হ্যানসি ক্রনিয়ে, জন্টি রোডস, শন পোলক, জ্যাক ক্যালিস এরা অনকেই সেই সমর্থনের পাশে রঙিন ভাবনার সমাবেশ ঘটিয়েছে। সবশেষে আমার ভালবাসা শ্রীলঙ্কা। এখানেও একটা সুক্ষ্ম রাজনৈতিক বিবেচনা আমাকে প্রভাবিত করেছে ক্রিকেটের আড়াল থেকে। গৃহযুদ্ধের পুরিয়া দাওয়াই দিয়ে এদের দমিয়ে রাখবার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঘৃণ্যতার বিপরীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটার শিক্ষার হার, ভালোমানুষত্ব, অদম্য কর্মস্পৃহা আমার রাজনৈতিক ভাবাবেগের পেছনের জ্বালানী। সেখানে জয়াসুরিয়া, কালুভিতারানা, ডি সিলভারা এই ভালোবাসাকে উত্তুঙ্গ করেছে। আর আমার দেশটা যখন থেকে পা ফেলতে শুরু করলো ক্রিকেট অঙ্গনে সেই থেকে সব ভালোবাসা ছাপিয়ে আকাশ ছুঁয়েছে এটাই। হ্যা, আর একটা কথা। বলতে পারেন ক্রিকেটে আমি অপছন্দ করি অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যাণ্ডকে। করি তাদের হিমালয়ের মতোন উঁচু নাক আর বদমাইশ জমিদার স্টাইল আচরণ ও কথা বার্তার জন্য। করি ক্রিকেট মাঠে ছুঁচোর মতোন স্লেজিং স্বভাবের জন্য।

হা অন্য দিকে ক্রিকেটে দক্ষিণ এশিয়ার দাপট আমার ভালো লাগে। উপভোগ করি। ভালো খেললে এসব ভালো লাগা মন্দ লাগা ছাপিয়ে তা উপভোগ করি। যেমন করতাম ল্যাঙ্গারের সময়ে অস্ট্রেলিয় ওপেনিং জুটির খেলা। কিন্তু ভারত পাকিস্তান প্রশ্নে পাকিস্তানকে পছন্দের তালিকায় আনাটা অসম্ভবের মতো একটা কাজ। তা রাজনৈতিক কারণেই। তেমনি ভারতকেও সমর্থন করবার মতোন জোরালো আবেগ পাই না। রাজনীতির কথা মাথায় আনলে এখানেও গলায়-জিভে আঁচড় কাটতে থাকে অজস্র কাঁটা। তার মানে এই নয় যে, স্বাধীনতার স্বপক্ষে প্রথম ও প্রত্যক্ষ সহায়তা দেয়া দেশ ভারতকে সেটার প্রাপ্য সন্মান দিতে আমার কোনো কার্পণ্য বা দ্বিধা আছে। মুদ্রার অন্য পিঠের কথা হলো এই যে, কোনো বিশেষ দিনে কোনো কারণে আমি কারো জয় কামনা বা সমর্থন করতেই পারি। সেটা ভারতকে সমর্থন না করেও টেণ্ডুলকারের জন্মদিনে তার দলের জেতা বলেন, লারার জন্মদিনে তার একটা ডাবল সেঞ্চুরী বলেন, কি গতকাল ইংল্যাণ্ড-এর অস্ট্রেলিয়াকে হারানো বলেন। যেখানে কিনা আমি আদতে শুধু চাইতে পারি কোনো খেলায় ইংল্যাণ্ড অস্ট্রেলিয়া দুজন প্রতিপক্ষ হলে দুজনেই যেনো হারে। না হোক ওটা বাস্তবে সম্ভব, চাইতে তো পারিই।

তো এবারের আইসিসিতে শুরুর আগে কাপ কন্টেণ্ডার ছিল ইংল্যাণ্ড আর ইণ্ডিয়া। সেই বিচারে আমি তো চাইতেই পারি ওরা নয় জিতুক চোকার পরিচয়ের (যদিও ওরা আমার ভালোবাসার তালিকায় দুইয়েই আছে) সাউথ আফ্রিকা। যাতে বাংলাদেশ কিছু ফায়দা বাগাতে পারে সেমিতে। (যদিও ইংলিশ কণ্ডিশনে সেটা আদপে কতোটুকু ভালো তা যথার্থ প্রশ্ন সাপেক্ষ)। তবে মজার কথা এই যে, এবার বাংলাদেশ এক অর্থে সবার আগে কোয়ালিফাই করেছে। প্রতিপক্ষ কিউইরা সবার আগে নকড্ আউট হয়েছে। এখন স্বপ্নবাজ তো হতেই পারি। আর এই যে হাজার তর্ক বিতর্ক সব শেষ কথা বাংলাদেশ আরো এগোক। সম্ভব হলে শেষটুকু পর্যন্ত, সম্ভব হলে কাপে প্রথম থাবা দিক বাঘের। আচ্ছা আচ্ছা রোশো রোশো। আপাতত শুধু ক্রিকেটটাকে ভালোবাসো। যেই জিতুক ক্রিকেট যেনো কোথাও না হারে। কান পেতে দেখুন তো ! ক্রিকেট কোথাও হারছে কি !

ছবিঃ ইএসপিএন

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com