অ্যাপল এবং গুগল করোনাভাইরাস ট্র্যাকিং সিস্টেম তৈরি করছে …

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জুলফিকার সুমন

অ্যাপল এবং গুগল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যৌথভাবে কাজ করছে । আপনি সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন মানুষের সংস্পর্শে এসে থাকলে আপনাকে সতর্ক করে দিতে পারবে এমন এক স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশনে কাজ করছে অ্যাপল এবং গুগল । পৃথিবী এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। হাতের মোবাইল ফোনটিই একজন ব্যক্তির জীবনের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ ও সহযোগিতা করতে পারে। প্রাথমিকভাবে যেসব থার্ড পার্টি কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ এই মূহুর্তে আছে, সেগুলো যাতে ঠিকভাবে কাজ করে সেই ব্যবস্থা করে দেবে অ্যাপল এবং গুগল ।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমকিভাবে অ্যাপল ও গুগল এ ধরনের সমঝোতায় উপনীত হয়েছে যার ফলে তৃতীয় পক্ষের কোনো অ্যাপ ডেভেলপার যদি এ লক্ষ্যে অ্যাপ তৈরি করতে চান আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন সেজন্য দরকারি তথ্য ওই অ্যাপকে শেয়ার করবে। পুরোটাই তদারকি করা হবে ব্লুটুথে জমা থাকা তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে। এতে যেসব গ্রাহক স্বেচ্ছায় অংশ নেবেন শুধু তাদের ডাটাই ব্যবহার করা হবে। ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

মূলত স্মার্টফোনের ব্লু-টুথ সিগন্যাল ব্যবহার করে জানা যাবে কোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষের কাছে কেউ গিয়েছিল কিনা এবং যথেষ্ট দীর্ঘ সময় সেখানে ছিল কিনা যার ফলে তারও সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। পরে যদি পরীক্ষায় দেখা যায় যে কোন মানুষের কোভিড-নাইনটিন হয়েছে, তখন তার কাছাকাছি আসা অন্য মানুষদের স্মার্টফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে সেটি জানিয়ে দেয়া হবে। তবে স্মার্টফোনে কোন জিপিএস লোকেশন ডাটা বা ব্যক্তিগত তথ্য রেকর্ড করা হবে না। অ্যাপল এবং গুগলের মনে করে, প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে যাদের উদ্বেগ আছে, তাদের এই কৌশল সেই সমস্যার সমাধান করবে। কারণ যারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন তাদের নাম-পরিচয়ের কোন উল্লেখ কোথাও থাকবে না।

এটির কাজের প্রথম শর্ত অবশ্য কোয়ারেন্টাইনে থাকা বা সংক্রমণের শিকার হওয়া ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ার করার ওপর নির্ভর করবে। এটি উদ্যোগ সফল হলে বিশ্বের প্রায় তিনশ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এর আওতায় চলে আসবে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে এটি নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে শুক্রবারই প্রথম তা প্রকাশ করে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে জানা যায়, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস অপরেটিং সিস্টেমের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্যাকেজ যোগ করা হবে যার ফলে আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। এরপরও কেউ যদি তৃতীয় পক্ষীয় অ্যাপ ব্যবহার করতে চান সেই পথও খোলা থাকবে।

অ্যাপল এবং গুগল এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এই নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টায় ব্যবহারকারীদের “ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা এবং সম্মতি”কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। এই খাতের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে তারা এই প্রযুক্তি তৈরি করার আশা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই নতুন উদ্যোগটি বিবেচনার জন্য তার প্রশাসনের কিছু সময় দরকার। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটা বেশ আগ্রহী হওয়ার মতো একটা বিষয়, কিন্তু বহু মানুষের উদ্বেগ আছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ব্যাপার নিয়ে।” “আমাদের এই ব্যাপারটা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং তারপর আমরা এ বিষয়ে আপনাদের শীঘ্রই জানাবো।”

তথ্য ও ছবিঃ বিবিসি ও গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com