অপারেশনের তারিখ ছিল ১৯৭১ সালের ৯ জুন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ এই যুদ্ধের সূচনা ঘটে।২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকাসহ সারা দেশে অজস্র সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে তারা।

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এই বর্বর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশের মানুষ। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের স্বাধীনতাকামী তরুণরা। এগিয়ে আসে বাংলার কৃষক, শ্রমিক। মুক্তিযুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠা সেইসব দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘২৫ মার্চের প্রথম প্রতিরোধে আমাদের যে প্রস্তুতি ছিল তা খুবই হাস্যকর। কিছু মলোটভ ককটেল, কিছু হাতবোমা। আমার মনে আছে পুরো কাকরাইল, পল্টন, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগর মিলে এক ইমরানের কাছে ছিল একটা পিস্তল। ২৫ মার্চ রাত ৮টায় শুনলাম আমরা আক্রান্ত হতে যাচ্ছি। ৮টা কি সাড়ে ৮টা হবে, ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রাস্তায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে এসে শুনলাম রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে হবে। যখন আক্রান্ত হই, ১১টা ৫ মিনিট বা আরেকটু পর হতে পারে, তখন আমরা কাকরাইলে অবস্থান নিয়েছিলাম। পাকিস্তানি সেনারা রমনা পার্কের ওদিক থেকে ট্যাঙ্কটা ঘুরিয়ে নলটা তাক করলো আমাদের দিকে। আমাদের হাতের বোমাগুলো খেলনা বলে মনে হলো। আমাদের চোখের সামনে দিয়ে পাকিস্তানি সেনারা দুই কলাম করে, জোনাকি সিনেমা হলের সামনের রাস্তা ধরে আমাদের ব্যারিকেডগুলো তছনছ করে রাজারবাগের দিকে এগিয়ে গেল। আমার বন্ধু হাসান ও বেবি, ওদের ওখানেই লুকিয়ে ছিলাম আমরা। এখনকার বিএনপি অফিসের পেছনে ছিল হাসানের বাসা, সেখান থেকে দেখলাম রাজারবাগ জ্বলছে। এর আগে দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন জ্বলছে।

খালেদ মোশাররফ

পুরান ঢাকায় আগুন, ধানমণ্ডির দিকে আগুন। ভাবছিলাম এত লোক মরছে। কেন প্রতিরোধ নেই?
২৫ মার্চে প্রতিরোধ গড়তে না পারার গ্লানি নিয়ে তারা একে একে ঢাকা ছেড়ে গেলেন। নাসির উদ্দীন ইউসুফ নানা পথ ঘুরে পৌঁছালেন আগরতলার সোনাইমুড়ি। তার ভাষায়, ‘এরপর দেখা পেলাম খালেদ মোশাররফ ও হায়দার ভাইয়ের, তখনকার মেজর খালেদ ও ক্যাপ্টেন হায়দার। তারা ঢাকা থেকে আরও লোক নিয়ে যেতে বললেন। এপ্রিলের ফার্স্ট উইক কিংবা সেকেন্ড উইকে ঢাকায় ফিরে এলাম। শহীদ মানিক, ওমর, আসাদ, বেবি, মাহবুব এবং আরও অনেক ছাত্র-তরুণ, যাদের কেউ ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে, কেউ আবার ইন্টারমিডিয়েট পড়ূয়া, মিলে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিলাম মে মাসে। সেখানে আমাদের ট্রেনিং হলো। আমরা আগস্ট মাসে ঢাকায় প্রবেশ করি। আমাদের বেস ক্যাম্প হয় ঢাকার উপকণ্ঠে রৌহাই, ধামরাই। সেখান থেকে নৌকায় চলে আসা যায় সাভার। তারপর সাভার থেকে ঢাকায় ঢুকে পড়ি। আমাদের কাজ ছিল ঢাকার উপকণ্ঠে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া। সেইসঙ্গে ঢাকায় ঢুকে ‘হিট অ্যান্ড রান’ পদ্ধতিতে গেরিলা যুদ্ধ। ততদিনে অবশ্য আমাদের হাবিবুল আলম, ফতেহ আলি, চাষী জিয়া, কাজী কামাল, চুন্নু ভাই- তারা সবাই ঢাকায় অপারেশন করছে। শেরাটন হোটেল ও ফার্মগেটের অপারেশন হয়ে গেছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চলে এসেছে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবেশ করার খবর।’

বীরপ্রতীক হাবিবুল আলমের লেখা থেকে জানা যায়,  ‘‘সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ বললেন, ‘ঢাকায় খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করার জন্য তোমাকে ডেকেছি আমি।’ তারপর যোগ করলেন, ‘তোমরাই হতে চলেছ তরুণদের প্রথম দল, বিশেষ একটা কাজ করার জন্য ঢাকা পাঠানো হচ্ছে যাদের।’ ডেল্টা রিজন আর সেক্টর-২ থেকে ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে সেটিই ছিল প্রথম অভিযান মুক্তিবাহিনীর। একটি গেরিলা অপারেশন আসলে দেখতে কেমন আর কীভাবে এটি পরিচালিত হয়, জীবনে প্রথমবারের মতো তা দেখল এবং শুনল ঢাকাবাসী। সেক্টর-২ থেকে আসা আমরা কেবল তিনজন মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় দুজন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিই ওই অভিযানে। একেবারে প্রথম গেরিলা অপারেশনের তারিখ ছিল ১৯৭১ সালের ৯ জুন, হামলার স্থান তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সময় রাত পৌনে আটটা থেকে আটটা। আমাদের অভিযানের উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা মিশন এবং ইউএনএইচসিআরের প্রধান প্রিন্স সদরুদ্দীন আগা খানকে পাকিস্তানি জান্তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান থেকে বিরত রাখা।”

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com