অজানা কথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

খ ম হারুন

২৪ নভেম্বর ২০১৭ শিল্পী বারী সিদ্দিকী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আজ অনেকেই এই শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিচারন করছি, তার গান শুনছি, তার অভাব অনুভব করছি। তার সম্পর্কে দু’একটি কথা না বলে পারছি না।
১৯৮৪ সালের কথা। আমি তখন ঢাকার ইলিসিয়াম রেষ্ট হাউজের ৮০৮ নং কক্ষে থাকি। বিটিভিতে হারানো দিনের গানের অনুষ্ঠান প্রযোজনা করি। হঠাৎ একদিন সকালে ঢাকা আর্ট কলেজের এক ছাত্র আজাদ একজন যুবককে নিয়ে আমার বাসায় এলেন। কাঁধে তার ঝোলানো ব্যাগ, ব্যাগের মাঝে নানান আঁকারের বাঁশী। বুঝতে পারলাম সে একজন বংশীবাদক। আজাদ ঢাকা আর্ট কলেজ হোস্টেলে থাকতো। সে রাতে আজাদ এবং তার দু’চারজন বন্ধু দেখতে পায় একজন ক্ষুধার্ত যুবক তাদের হোস্টেলের বারান্দায় বসে বাঁশী বাজাচ্ছে। তারা বাঁশীর সুরে মুগ্ধ হয়ে যুবকের সঙ্গে আলাপ করে। যুবকটি জানায় সে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসেছে। তার নাম বারী সিদ্দিকী, নেত্রকোনা থেকে এসেছে। আজাদ বারীকে তাদের হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করে এবং সকাল হলে তাকে নিয়ে আমার বাসায় চলে আসে।
আমি বারীকে নিয়ে রামপুরা টিভি ভবনে চলে আসি। বিটিভির যন্ত্রসঙ্গীত শাখার শাজাহান ভাইকে তার কথা বলি এবং তাকে তালিকাভুক্ত শিল্পী করার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলি। আমি আরো জানাই, এরপর আমার সব সঙ্গীতানুষ্ঠানে বারী বাঁশী বাজাবে। বারী সিদ্দিকী’র কাছ থেকে একটা দরখাস্ত নেই যন্ত্রসংগীত শিল্পী হিসেবে বিটিভিতে চাকরীর জন্য এবং তা সে সময়ের বিটিভির জিএম মোস্তফা কামাল সৈয়দ এর মাধ্যমে পরিচালক প্রশাসন ফখরুজ্জামান চৌধুরীর কাছে পাঠাই। অল্প ক’দিনের মধ্যে বিটিভিতে বারী সিদ্দিকীর চাকুরীটাও হয়ে যায়।
এরপরের কথা সবারই জানা। শুধু বংশীবাদক নয় একজন লোকসংগীত শিল্পী এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রতিভা ছড়িয়ে পরে সারা বিশ্বে। একবার বাংলাদেশে নিযুক্ত একজন বৃটিশ হাইকমিশনার বারী সিদ্দিকীকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে তার ভাষনে উল্লেখ করেছিলেন।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com