অংকুরের প্রেম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশিষ্ট শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখবেন তার জীবনের কথা।কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো। পড়ুন কাটাঘুড়ি বিভাগে।

কনকচাঁপা

এতো ছোট বয়সেই গাছ,চারা,ফুল,পাতা,বীজ সব কিছুর সঙ্গে কিভাবে জড়িয়ে গেলাম এখন তা ভেবে অবাক হই নিজেই।আসলে ওই বয়সে পুতুল, খেলনা ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকার

chkcvv-ydh

বাবা আর মা

কথা।কিছু কাপড়ের পুতুল ছিল বটে কিন্তু তা আমাকে ওভাবে টানতো না।কোথা থেকে কি কি সব বীজ জোগাড় করতাম।আম্মা কিছু না বললেও খুব খেয়াল করতেন এবং খুশী হতেন। আমাদের মাদারটেকের বাড়িতে পূব দিকের নীচু জমিতে বীজতলা বানালাম। বীজতলা তে সারি সারি করে সরিষা, ধান,কালোজিরা, আলুর গাঁট লাগালাম।খুব সুন্দর করেই তারা অংকুরিত হল।কয়দিন পরই আলুর গজানো চারা মরে গেল।কালোজিরা ও এমন মরে মরে।আম্মা বললেন দেখোতো,কি অবস্থা হল? আমিও বিব্রত। হচ্ছেনা কেন? আবার পিতরাজের বীজ,ভেরেণ্ডা বীজ একটা নারকোলের মালায় পুঁতে দিলাম।ভেরেণ্ডাবীজ জন্মালো,কিন্তু পিতরাজ আর জন্মায় না।আমি পিতরাজ তুলে দেখি আবার লাগাই।আমার স্কুল ব্যাগের পকেটে নানা রকম বীজ জমা হয়।তখন আম্মা একদিন খুব সিরিয়াস হয়ে আব্বা সহ বৈঠক বসালেন! আমি ভয় পেয়ে গেলাম।আম্মা এবার খুব সুন্দর করে বুঝালেন যে বীজ ও আমার হাতে, বীজতলা ও আমার হাতে।কিন্তু ওখানে ঘুমন্ত জীবন যে একমুঠো্ মাটির অপেক্ষায় আছে, আসলে সে শুধু মাটির অপেক্ষাতে নাই! সে ঘুমন্ত জীবন থেকে সময় মত জাগার অপেক্ষায় আছে।যে তাকে জাগাবে তাকে জানতে হবে কোন মৌসুমে, কোন মাটিতে, কোন আবহাওয়াতে সে জাগবে।একটি বীজ কুক্ষিগত আমি করতেই পারি,কিন্তু তাকে মাটিতে বুনে দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়।বরং দায়িত্ব সেখানেই শুরু হয়।ঘুমন্ত বীজ কে জাগিয়ে দিয়ে তাকে প্রাণ দেয়ার আগেই এ অন্তর্গত শিক্ষা গ্রহন করা খুবই জরুরী।

এর পর আম্মা আমাকে প্রথমে এনে দিলেন দ্বীজেন শর্মার একটি বই,এবং আরো একজন লেখকের একটি বই,খুবই দুঃখজনক যে বইটিও হারিয়েছি,লেখকের নাম ও ভুলে গেছি।কোনভাবেই আমি সে বই আর কখনওই খুঁজে পাইনি।তাতেই আমি শিখেছিলাম সব বীজের জন্মকাহিনী।তাদের জন্মাবার মৌসুম, ধরন,সময়কাল, এবং বংশপরিচয়। আমি আমার ভালবাসা গুলো স্মরণ করে যত না বিস্মিত হই তারচেয়ে বিস্মিত হই আমার মা বাবার ভাবনা গুলো ভেবে।এতো আধুনিক এতো শিক্ষিত অভিভাবক এই মধ্যবিত্ত সমাজে কতজন আছে এটা আমার ভাবনার বিষয়।আমি কখনওই ভাবতে পারি না আমার মা স্কুল শেষ করে আর কখনওই পড়েননি! তাকে আমার বিস্ময়কর ভাবে একটি ঘড়ি,একটি বই এবং একটি আজীবনের ক্যালেন্ডার মনে হয়।এবং আব্বাকে মনে হয় মহাজাগতিক একটি নক্ষত্রপথ! আমার যত বিস্ময় এই দুটো অংকুরিত মহীরুহকে ঘিরে! তাঁদের অংকুরিত হতে আমি দেখিনি,কিন্তু তাঁদের প্রশান্তিময় শাখায় বসে আমি দোল খাই নিরন্তর। হে আমার মনে অংকুরিত মহীরুহ! তোমরা এভাবেই তোমাদের বিস্তারিত শাখার আস্রয়ে রেখো আজীবন।

ছবি: অদ্বিত আর লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com